নগরীতে মানা হচ্ছে না স্বাস্থ্যবিধি

14

স্টাফ রির্পোটার : করোনা শনাক্তের হার বৃদ্ধি পাওয়ায় সরকারের দেওয়া ১১ দফা বিধিনিষেধ বৃহস্পতিবার থেকে জারি হয়েছে। বিধিনিষেধের প্রথম শর্তে বলা হয়েছে, দোকানপাট, শপিং মলে প্রবেশে বাধ্যতামূলকভাবে সবাইকে মাস্ক পরতে হবে। না হলে শাস্তির সম্মুখীন হতে হবে। কিন্তু রাজশাহী নগরীর বেশিরভাগ মার্কেট ও ফুটপাতের দোকানগুলোতে স্বাস্থ্যবিধি মানা হচ্ছে না

১৩ জানুয়ারি থেকে এ নির্দেশনা বাস্তবায়নের কথা বলা হয়। আর নির্দেশনার প্রথম দিনে রাজশাহী নগরীর মাস্ক ছাড়াই চলাচল করতে দেখা গেছে। নগরীর গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি পয়েন্টে অবস্থান নিয়ে পর্যবেক্ষণে এমন চিত্র উঠে আসে।

বৃহস্পতিবার (১৩ জানুয়ারি) নগরীর কাশিয়াডাঙ্গা, রেলগেট, সাহেব বাজার, লক্ষ্মীপুর, ভদ্রা, আলুপট্টি এলাকায় দাঁড়িয়ে থাকা, পথচারী এবং গাড়িতে চলাচলকারীদের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, গণনায় প্রতিনিধিত্বকারী ১০০ জনের মধ্যে ৭৫ থেকে ৮২ জন ব্যক্তির মুখে মাস্ক নেই। নগরীর কাশিয়াডাঙ্গা এলাকায় দাঁড়িয়ে থাকা ১০০ জন ব্যক্তির মধ্যে মাত্র ২১ জনের মুখে মাস্ক ছিলো। পরিবহণে চলাচলকারী ১০০ জনের মধ্যে ২৩ জনের মুখে মাস্ক ছিলো। রেলগেট এলাকায় দাঁড়িয়ে থাকা ১০০ জনের মধ্যে মাত্র ১২ জনের মাস্ক ছিলো। পরিবহণে চলাচলকারীদের ২৭ জনের মুখে মাস্ক ছিলো। সাহেব বাজার এলাকায় দাঁড়িয়ে থাকা ১০০ জনের মধ্যে মাস্ক ছিলো ১৮ জনের। চলাচলকারী ১০০ জনের মধ্যে ২০ জনের মুখে মাস্ক ছিলো। লক্ষ্মীপুর এলাকায় চলাচলকারী ১০০ জনের মধ্যে মাত্র ২৭ জনের মুখে মাস্ক ছিলো। ভদ্রায় দাঁড়িয়ে থাকা ১০০ জনের মধ্যে ১৯ জনের মুখে মাস্ক ছিলো।

চলাচলকারীদের মধ্যে মাত্র ১৫ জনের মুখে মাস্ক ছিলো। আলুপট্টি মোড়ে চলাচলকারী ১০০ জনের মধ্যে ২২ জন ব্যক্তির মুখে মাস্ক দেখা যায়।

অন্যান্য দিনের মতোই বিকেলের পর নগরীর চায়ের দোকান, ফাস্ট ফুডের দোকান, খাবার হোটেল ও পর্যটন স্পটগুলোতে জনসমাগম দেখা গেছে। জটলা বেঁধে জমছে আড্ডা। সেখানেও বাধ্যতামূলক মাস্ক ব্যবহারে তেমন কোন সচেতনতা দেখা যায় নি।

নগরীর ভদ্র এলাকার চা-দোকানি আরশাদ আলী বলেন, গতবারের লকডাউন ছুটে যাওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত ব্যবসা ভালো চলছে। আজকেও ভালো বেচাবিক্রি হয়েছে। আশেপাশের দোকানগুলোতেও অন্যান্য স্বাভাবিক দিনের মতোই মানুষের সমাগম ছিলো। এরমধ্যে হাতে গোনা কিছু মানুষ মাস্ক পরছেন। আর খাওয়ার সময় তো আর মাস্ক পরে থাকা যায় না। তার কাছেও মাস্ক আছে। কিন্তু সব সময় মুখে রাখতে ভালোলাগে না।

অটো রিকশা চালক শফিকুল ইসলাম বলেন, অন্যান্য স্বাভাবিক দিনের মতোই ভাড়া মারছি। যাত্রীদের কেউ কেউ মাস্ক পরছেন। কিন্তু অধিকাংশই পরছেন না। আমার কাছেও মাস্ক আছে। মন চাইলে পরি। না হলে খুলে রাখি। সরকারি নির্দেশনার বিষয়ে শুনেছি। মাস্ক সব সময় কাছে রাখছি।

ঢাকা বিরিয়ানি হাউজের মালিক জাব্বির খান জানান, নির্দেশনায় টিকা সনদ দেখার বিষয়ে যেটা বলা হয়েছে সেটা মেনে চলা কঠিন বিষয়। তবে এখন থেকে খাবার পার্সেল আকারে বেশি যাবে। সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিতেও গুরুত্ব দেয়া হবে।

নগরীর থিম ওমর প্লাজার ফুড লাভার্স মালিক সোহেল রানা থেকে জানান, বুধবারের তুলনায় বৃহস্পতিবারে কাস্টমার খুবই কম। বেশ কয়েকজন কাস্টমার আজ এসেছিল। কিন্তু এখনো তাদের কাছে টিকার সনদপত্র দেখতে চাওয়া হয় নি। শুক্রবার থেকে আমাদের সকল কাস্টমারকে টিকার সনদপত্র, মাস্ক ও দূরত্ব বজায় ছাড়া ঢুকতে দেয়া যাবে না।

রাজশাহী অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এডিএম) সাবিহা সুলতানা জানান, বৃহস্পতিবার থেকে নির্দেশনার বাস্তবায়নে জেলা প্রশাসন মাঠে তৎপর রয়েছে। প্রথম দিনে সচেতনতামূলক কার্যক্রম বেশি পরিচালনা করা হয়েছে। এদিন ১০ থেকে ১২ জন ব্যক্তিকে মাস্ক না পরাই আড়াই হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। সামনে তৎপরতা আরও বাড়বে।

রাজশাহী সিটি করপোরেশন (রাসিক)’র অ্যাক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মুহাম্মদ ইমরানুল হক জানান, বৃহস্পতিবার রাসিকের উদ্যোগেও অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। অভিযানকালে মাস্ক না পরায় দু’জন পথচারীকে দুইশত টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

SHARE