পোস্টার ও লিফলেট তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছে প্রেসগুলো

149

স্টাফ রিপোর্টার : ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় নির্বাচন। ১০ ডিসেম্বরের পর সকাল থেকে রাত অবধি নির্বাচনী প্রচারণায় মুখর হয়ে উঠবে চারদিক। ব্যানার ও পোস্টারে ছেয়ে যাবে অলিগলি-রাস্তাঘাট। মাইকিংয়ে স্লোগান বাজতে থাকবে অনবরত। এমনটাই চিরায়ত প্রথা নির্বাচন সময়ের। তাইতো পোস্টার ও লিফলেট তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছে রাজশাহীর প্রেসগুলো। নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, ১০ ডিসেম্বর প্রতীক বরাদ্দের পর থেকেই আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে প্রচার-প্রচারণা ও গণসংযোগ। তবে যারা দলীয়ভাবে মনোনয়ন পেয়ে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন তাদের প্রতীক নির্ধারিত হয়েই আছে। তারা দলীয় প্রতীক নিয়েই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবেন। আর যাদের দলীয় প্রতীক নেই, স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন তাদের প্রতীক পাওয়ার জন্য ১০ তারিখ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। দলীয় প্রতীকপ্রাপ্ত প্রার্থীরা আগাম প্রস্তুতি নিয়ে ফেলছেন। প্রতীক বরাদ্দের পর থেকেই যাতে গণসংযোগ ও প্রচার-প্রচারণা চালাতে পারেন, সেই বিবেচনায় পোস্টার ও লিফলেট ছাপিয়ে এগিয়ে থাকছেন।
প্রেস মালিকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, ছোট-বড় মিলে নগরীতে প্রেস রয়েছে ৪০টির মতো। পোস্টার ও লিফলেট তৈরিতে এই প্রেসগুলো ব্যস্ত সময় পার করছে। বিশেষ করে দলীয় প্রতীক প্রাপ্ত প্রার্থীরা পোস্টার ও লিফলেট তৈরি করতে দিয়েছেন। তবে তারা শুধুমাত্র একটি প্রেসেই সব কাজ করাচ্ছেন না। একজন প্রার্থী একাধিক প্রেসে কাজ করাচ্ছেন। তবে বড় প্রেসগুলোতেই কাজ করাচ্ছেন প্রার্থীরা। কাজের মান ও কোয়ালিটির উপর নির্ভর করেই দাম ঠিক করা হচ্ছে। তবে প্রাথমিকভাবে পোস্টার ও লিফলেট তৈরির উপরই গুরুত্বারোপ করছেন প্রার্থীরা। কয়েকটি ধাপে তারা এ কাজ করাবেন। একেকটি প্রেসে ৫০ থেকে ৬০ হাজার পোস্টার তৈরির অর্ডার পাচ্ছেন। লিফলেট তৈরি করাচ্ছেন এক থেকে দেড় লাখ কপি।
দীর্ঘদিন ধরে পোস্টার ও লিফলেট তৈরির কাজ করছে রাজশাহীর স্বাগতম প্রেস। এই প্রেসেও ইতোমধ্যে নির্বাচনী পোস্টার ও লিফলেট তৈরি করাচ্ছেন প্রার্থীরা। স্বাগতম প্রেসের কর্ণধার স্বাগতম নস্কর বলেন, রাজশাহীর-১ আসনের আওয়ামী লীগের প্রার্থী ওমর ফারুক চৌধুরী, রাজশাহী সদর আসনের মহাজোটের প্রার্থী ফজলে হোসেন বাদশা, রাজশাহী-৩ আসনে আওয়ামী লীগের আয়েন উদ্দিন, রাজশাহীর-৪ আসনে বিএনপির আবু হেনা আমার কাছে পোস্টার ও লিফলেট ছাপাতে দিয়েছেন। সেই অনুযায়ী কাজ করছি। তবে তারা শুধু আমার এখানেই যে কাজ করতে দিয়েছেন তা নয়Ñ অন্যান্য প্রেসেও কাজ করাচ্ছেন।
কাজের চাপের বিষয়ে তিনি বলেন, এখন মোটামুটি চাপ আছে। বিশেষ করে যারা দলীয় প্রতীক পেয়ে গেছেন তারা পোস্টর- লিফলেট ছাপাচ্ছেন। প্রতীক বরাদ্দের পর এই চাপ বহুগুণে বেড়ে যাবে বলে জানান তিনি।
তবে অনেক প্রেসের মালিক পোস্টার-ব্যানার ছাপানোর পরও টাকা না দেওয়ার অভিযোগ তুলেছে। তারা বলছেন, অনেক প্রার্থী আছেন যারা পোস্টার-ব্যানার ছাপানোর অর্ডার দেন। অথচ টাকা দেওয়ার সময় টাকা দেন না।
রংধনু প্রেসের মালিক তাজুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, গতবার নির্বাচনের সময় এক প্রার্থীর পোস্টার-ব্যানার ছাপিয়ে দিয়েছিলাম। এখনো ৭৫ হাজার টাকা পাই। অথচ দেননি। নতুন করে আবার পোস্টার ব্যানার তৈরির কথা বলছেন। আমি সাফ জানিয়ে দিয়েছি, আমি নির্বাচনের পোস্টার-ব্যানার তৈরির কাজ করছি না।
জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ফরিদুল ইসলাম জানান, প্রতীক বরাদ্দের পর থেকেই প্রার্থীরা নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা চালাতে পারবেন। তখন আর আচরণবিধি লঙ্ঘন হবে না।

SHARE