আরিত্রির আত্মহত্যায় অধ্যক্ষসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা

163

গণধ্বনি ডেস্ক : ভিকারুননিসা নূন স্কুলের শিক্ষার্থী অরিত্রি অধিকারীকে আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগে অধ্যক্ষ-শিক্ষকসহ তিনজনের বিরুদ্ধে একটি মামলা হয়েছে।

মঙ্গলবার রাজধানীর পল্টন থানায় অরিত্রির বাবা দিলীপ অধিকারী বাদী হয়ে এ মামলা করেন।

মামলার আসামিরা হলেন- কলেজের অধ্যক্ষ নাজনীন ফেরদৌস, শাখাপ্রধান জিনাত আরা ও শ্রেণিশিক্ষক হাসনা হেনা।

পল্টন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল হাসান সমাকলকে এতথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি বলেন, অরিত্রিকে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে তার বাবা একটি মামলা করেছেন। এতে অধ্যক্ষসহ তিনজনকে আসামি করা হয়েছে।

গত রোববার পরীক্ষার হলে মোবাইল ফোন সঙ্গে নিয়ে গিয়েছিল নবম শ্রেণির ছাত্রী অরিত্রি অধিকারী। ফোনে নকল থাকার অভিযোগ তুলে তাকে পরীক্ষা কেন্দ্র থেকে বহিষ্কার করা হয়।

এরপর ওই ছাত্রীর বাবা-মাকে ডেকে পাঠায় স্কুল কর্তৃপক্ষ। সোমবার সকালে তারা স্কুলে যান এবং মেয়ের হয়ে দফায় দফায় ক্ষমা চান। কিন্তু এরপরও ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ তাদের অপমান করেন এবং স্কুল থেকে অরিত্রি অধিকারীকে ছাড়পত্র দেওয়ার ঘোষণা দেন।

নিজের সামনে বাবা-মায়ের এমন অপমান সইতে না পেরে ওইদিন দুপুরে শান্তিনগরের বাসায় ফিরে গলায় ওড়না দিয়ে ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করে অরিত্রি। এ ঘটনার জেরে মঙ্গলবার শিক্ষার্থী-অভিভাবকদের আন্দোলনে উত্তাল হয়ে উঠে বেইলি রোডে ভিকারুননিসার ক্যাম্পাস।

অরিত্রি অধিকারীর মৃত্যুর ঘটনাকে আত্মহত্যা বলতে চায় না তার সহপাঠীরা। তাদের দাবি, ছোট্ট অপরাধে অরিত্রিকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিয়েছেন শিক্ষকরা।

মঙ্গলবার দিনভর বিক্ষোভের সময় অনেক ছাত্রীর হাতে ‘একি শুধু আত্মহত্যা?’ লেখা প্ল্যাকার্ড ছিল। অরিত্রির অনেক সহপাঠী ‘চিটিংয়ের পানিশমেন্ট মৃত্যু কবে থেকে?’ লেখা ফেস্টুন নিয়েও বিক্ষোভ করে।

এদিকে, সহপাঠীর আত্মহত্যার ঘটনায় দায়ীদের বিচার দাবিতে বুধবার পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটির মূল ক্যাম্পাসের আন্দোলনরত ছাত্রীরা। মঙ্গলবার বিকেল পাঁচটার দিকে অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ শেষে সব শিক্ষার্থীর পক্ষে আনুশাকা নামে নবম শ্রেণির এক ছাত্রী কর্মসূচি ঘোষণা করে।

SHARE