নগরীতে জাতীয় যুব দিবস উদযাপিত এসডিজি অর্জনে তরুণ শক্তিকে কাজে লাগানোর বিকল্প নেই : বিভাগীয় কমিশনার

8

স্টাফ রির্পোটার : ‘উন্নত শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ প্রদানের মাধ্যমে যুব সমাজকে দক্ষ করে গড়ে তুলতে হবে’। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত এসডিজি অর্জনে তারুণ্যের শক্তিকে কাজে লাগানো ছাড়া আমাদের সামনে আর কোনো বিকল্প নেই। প্রশিক্ষিত, আত্মনির্ভরশীল ও কর্মবান্ধব যুবসমাজ দেশের সার্বিক উন্নয়নের মূল চালিকাশক্তি। যুবকদের সৃজনশীলতা, কর্মস্পৃহা কর্মদক্ষতা, প্রতিভা ও উদ্যোগ সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে ভূমিকা রাখে।

যুবকরাই পারে পুরাতন ধ্যান-ধারণাকে পরিহার করে সমাজকে আধুনিক বিজ্ঞান-মনস্ক চিন্তা চেতনার উন্মেষ ঘটাতে। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়তে যুবকদের মুখ্য ভূমিকা রাখতে হবে।
সোমবার (১ নভেম্বর) সকাল ১০ টায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জাতীয় যুব দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. হুমায়ুন কবীর।

তিনি বলেন, ‘যুবশক্তি একটি দেশ ও জাতির সম্পদ’। তাই দেশের যুবসমাজকে দক্ষ মানবসম্পদে পরিণত করার লক্ষ্যে যুব উন্নয়ন অধিদফতর বিভিন্ন প্রকল্প গ্রহণ করেছে। যেখানে যুবকদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার পাশাপাশি সহজশর্তে ঋণ প্রদান করা হচ্ছে। এ সময় যুব সমাজকে সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ মাদকাসক্ত সাম্প্রদায়িকতা পরিহার করে নিজের মেধা ও মনন সৃজনশীলতাকে কাজে লাগিয়ে নিজেকে দক্ষ হিসেবে গড়ে তুলে সমৃদ্ধশালী সোনার বাংলা গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. হুমায়ুন কবীর।
‘দক্ষ যুব সমৃদ্ধ দেশ, বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক আব্দুল জলিল।

সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক আব্দুল জলিল বলেন, ‘বাংলাদেশের জনসংখ্যার এক তৃতীয়াংশ যুবসমাজ’। তাই দেশের যুবসমাজ একটি দেশের সম্পদ। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রযুক্তির উন্নয়নের ফলে আমরা ঘরে বসে পড়াশোনা ও ইনকাম করছি। সেই ক্ষেত্রে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর বিনামূল্যে প্রশিক্ষণ দিয়ে যাচ্ছেন।

তিনি বলেন, যুব দিবস উদযাপনের মূল লক্ষ্য হচ্ছে- যুবশক্তিকে আত্মনির্ভর করা, উন্নয়ন ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় তাদেরকে উৎসাহিত ও অনুপ্রাণিত করা। দেশের যুবসমাজের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি ও জাতীয় উন্নয়ন মূলক কর্মকাণ্ডে তাদের সম্পৃক্ত করা। এই লক্ষ্যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে যুব উন্নয়ন অধিদফতর কাজ করে যাচ্ছে।
জেলা প্রশাসন ও যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের আয়োজনে অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রফেসর ড. মো. বাবুল ইসলাম।

সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক এ.টি.এম. গোলাম মাহবুব। এছাড়াও সফল আত্মকর্মী হিসেবে বক্তব্য রাখেন, মতিহার মাসকাটাদীঘি এলাকার রিপা বুটিকসের মোসা. রিপা খাতুন এবং সফল সংগঠকের বক্তব্য রাখেন, নগরীর সাগরপাড়া স্বাস্থ্যশিক্ষা সেবা ফাউন্ডেশনের সভাপতি আর কে দত্ত রুপন। তিনি বলেন, আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশুনা শেষ করেও চাকরি করার সুযোগ পাই নি। তাই যুব উন্নয়নে ট্রেনিং ও আর্থিক সহযোগিতার মাধ্যমে ব্যবসা করে স্বাবলম্বী হয়েছি। এছাড়াও ৩০ জন প্রশিক্ষণ দিয়ে তাদের স্বাবলম্বী করেছি এবং দরিদ্র ও পিছিয়ে পড়া যুবকদের কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে কাজ করছি।
এরপর জাতীয় যুব পুরস্কার ২০২১ এর নির্বাচিত সফল আত্মকর্মীদের যুব ঋণের চেক, প্রশিক্ষণ সনদ বিতরণ ও সফল আত্মকর্মী ও সংগঠকদের ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।

SHARE