রাজশাহীতে ফল সংরক্ষণে কোল্ড স্টোরেজ উদ্বোধন

17

স্টাফ রিপোর্টার: বাংলাদেশ সবজি ও ফল উৎপাদনে পৃথিবীতে রোল মডেল হলেও ফল ও সবজির সঠিক সংরক্ষণের অভাবে দেশে হাজার হাজার টন ফল ও শাক-সবজি নষ্ট হয়। কৃষক হয় অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত। ক্ষুদ্র পরিসরে তৈরি হিমায়িত সংরক্ষণাগার এই ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে যুগান্তকারী ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

শুধু তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে ফল ও শাক-সবজি সংরক্ষণকাল প্রায় ১ মাস পর্যন্ত বাড়িয়ে দিতে পারে। এর ফলে কৃষকের আয় বাড়াতে সহায়তা করবে এবং গ্রামীণ পর্যায়ে এই মিনি কোল্ড স্টোরেজ কৃষিপণ্য সংরক্ষণে নতুন দিগন্তের দ্বার উন্মোচন হতে পারে।

এই ভাবনা থেকে আধুনিক প্রযুক্তি সম্প্রসারণের মাধ্যমে রাজশাহী বিভাগের কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থায়নে রোববার রাজশাহী জেলার পুঠিয়া উপজেলার শিবপুর বাজারে ৪ টন ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন ফল ও শাক-সবজি সংরক্ষণের জন্য মিনি কোল্ড স্টোরেজের উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কৃষিবিদ আসাদুল্লাহ। এতে সভাপতিত্ব করেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের রাজশাহী অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক কৃষিবিদ সিরাজুল ইসলাম। স্বাগত বক্তব্য দেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর রাজশাহী জেলার উপ-পরিচালক কৃষিবিদ কেজেএম আব্দুল আউয়াল। কারিগরি বক্তব্য দেন উক্ত প্রকল্পের পরিচালক কৃষিবিদ ড. এস এম. হাসানুজ্জামান।

পরীক্ষামূলক সংরক্ষণের জন্য স্থাপিত এই ধরনের মিনি কোল্ড স্টোরে আম, টমেটো, ড্রাগন ফল, গাজর প্রভৃতি ফল এবং বিভিন্ন শাক-সব্জি রাখা যাবে। মূলত ৪% অক্সিজেন মেইনন্টেন এবং ইথিলিনের কন্ট্রোল করে এই কোল্ড স্টোরগুলি কাজ করবে। এটি ছাড়াও চাঁপাইনবাগঞ্জের শিবগঞ্জ এবং নাটোরের আহমদপুরে যথাক্রমে ৮ এবং ৪ মে. টনের আরও দুটি মিনি কোল্ড স্টোরেজ স্থাপিত হচ্ছে। পরীক্ষার ফল সন্তোষজনক হলে এধরনের আরও সংরক্ষণাগার গড়ে তোলা হবে জানানো হয়।

এই অনুষ্ঠানের আগে সীমান্ত সম্মেলন কেন্দ্র, সীমান্ত অবকাশ, রাজশাহীতে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক একই প্রকল্পে ২০২১-২২ অর্থবছরের পরিকল্পনা উপস্থাপন এবং ২০২০-২১ অর্থবছরের বাস্তবায়িত কার্যক্রম পর্যালোচনা শীর্ষক আঞ্চলিক কর্মশালা ২০২১-এর উদ্বোধন করেন। কর্মশালায় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, বীজ প্রত্যয়ন এজেন্সি উদ্ভিদ সঙ্গনিরোধ কেন্দ্র, হর্টিকালচার সেন্টার, কৃষি তথ্য সার্ভিস, ধান গবেষণা, এসআরডিআই, ফল গবেষণা, গম ও ভুট্টা গবেষণা, লাক্ষ্মা গবেষণা, বিনা, বিএডিসি, বিএমডিএ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা এবং অন্যান্য ব্যক্তিবর্গসহ প্রায় ১শ জন উপস্থিত ছিলেন।

SHARE