রামেক হাসপাতালে পাখিহত্যার ঘটনা গড়ালো আদালতে

9

স্টাফ রির্পোটার : রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাখি হত্যার ঘটনায় শেষ পর্যন্ত আদালত পর্যন্ত গড়ালো। বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের রাজশাহীর বন্যপ্রাণী পরিদর্শক জাহাঙ্গীর কবির বাদি হয়ে রাজশাহী চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এ মামলা দায়ের করেছেন।

উল্লেখ্য, মামলাটি মঙ্গলবার করা হলেও ওইদিন মামলার বিষয়টি কেউ স্বীকার করেননি। শুক্রবার (১০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় মামলার বাদি জাহাঙ্গীর কবির গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে বিষয়টি স্বীকার করেছেন।
মামলা প্রসঙ্গে জাহাঙ্গীর কবির বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী মামলা করা হয়েছে। তবে আদালত মামলাটি গ্রহণ করলেও কোনো আদেশ দেননি। আগামী রোববার আদেশ হতে পারে।
রামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার মো. শামীম ইয়াজদানী বলেন, ‘আপনাদের কাছেই প্রথম মামলার কথা শুনলাম। বিষয়টি আমার জানা নেই।’

মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, রামেক হাসপাতালে ৮০টি বন্যপাখি হত্যা ও আবাসস্থল ধ্বংসে আনুমানিক ক্ষতির পরিমাণ এক কোটি টাকা। আর পাখিগুলো হত্যায় পরিবেশের ক্ষতি হয়েছে আরও দুই কোটি টাকার। মামলায় রামেক হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে বিবাদি করা হয়েছে। তবে কারো নাম উল্লেখ নেই।

মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, বাদি গত ৪ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে খবর পান, হাসপাতালের প্রশাসনিক ভবনের সামনের গাছগুলোতে বাসা বানিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বসবাসরত পাখির বাসা কে বা কারা নষ্ট করছে এবং পাখির ছানা হত্যা করছে। খবর পেয়েই তিনি ঘটনাস্থলে যান।

তিনি ঘটনাস্থলে ফেলে রাখা গাছের গুঁড়ি এবং ড্রেন নির্মাণের কাজ দেখতে পান। লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানতে পারেন, গাছ কাটার ফলে পাখির বাচ্চাগুলো মাটিতে পড়ে। তখন স্থানীয় লোকজন, শ্রমিক এবং রোগীর দর্শনার্থীরা আনুমানিক ৬০ থেকে ৮০টি পাখির বাচ্চা জবাই করে বাড়ি নিয়ে যায়।

পরবর্তীতে বিভিন্ন গণমাধ্যমে পাখি হত্যার ছবি ও ভিডিও প্রকাশ হয়। বন্যপাখি হত্যা করা, মাংস, দেহের অংশ সংগ্রহ করা, শিকার ও এ জাতীয় অপরাধ সংগঠনের সহায়তা করা, প্ররোচণা প্রদান ইত্যাদি বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা আইন-২০১২) অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

রামেক হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ পাখির বাসস্থান ধ্বংস ও পাখিছানা হত্যা করে প্রচলিত ওই আইন অনুসারে অপরাধ করেছে। ন্যায়বিচারের স্বার্থে এদের বিরুদ্ধে বিজ্ঞ আদালতে এই পিওআর মামলাটি দায়ের করা হয়েছে।

শত শত শামুকখোল পাখি ২০১৫-১৬ সালের দিকে রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারের আশপাশের বিভিন্ন গাছে থাকত। ওই সময় গাছ কেটে নির্মাণ কাজ করার কারণে পাখিগুলো বাসস্থান হারায়। এরপর পাখিগুলো হাসপাতালের আশপাশের গাছে গাছে আশ্রয় নেয়।
এ ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে রাজশাহী, নাটোর ও নওগাঁয় মানববন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালিত হয়েছে। পরিবেশবাদী সংগঠনগুলো এসব কর্মসূচির আয়োজন করেছে।

SHARE