আরএমপিতে এক বছর পূর্ণ করলেন পুলিশ কমিশনার আবু কালাম সিদ্দিক

16

স্টাফ রির্পোটার : পুলিশ কমিশনার আবু কালাম সিদ্দিক রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ (আরএমপি)তে যোগদানের এক বছর পূর্ণ হলো। ১০ সেপ্টেম্বর ২০২০ সালে তিনি যোগদান করেছিলেন। আরএমপিতে তার এক বছরে বর্ণিল কার্যক্রম স্থায়ীভাবে ধরে রাখতে গণমাধ্যমে প্রকাশিত তার উল্লেখযোগ্য কার্যক্রম নিয়ে ‘রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের সপ্নিল সাফল্যগাথা’ বইটি প্রকাশ করা হয়েছে।
এ উপলক্ষে বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১ টায় আরএমপি পুলিশ লাইন্স পিওএম কনফারেন্স রুমে মাসিক কল্যাণ সভা শেষে বেলা ১২ টায় আরএমপি এর সকল স্তরের পুলিশ সদস্যদের নিয়ে এক অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানে বইটির মোড়ক উম্মোচন করা হয়।
মোড়ক উম্বোচন অনুষ্ঠানে পুলিশ কমিশনারের আরএমপিতে এক বছরে আধুনিক পুলিশিং, অপরাধ দমন ও জননিরাপত্তায় যেসকল পুলিশি কার্যক্রম, মানবিক ও সামাজিক নানামূখী উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন যা জাতীয় ও স্থানীয় পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে তা নিয়ে অনুষ্ঠানের শুরুতেই একটি ভিডিও ডকুমেন্টারি প্রদর্শিত হয়।
বইটির মোড়ক উম্মোচন করেন, আরএমপি’র পুলিশ কমিশনার আবু কালাম সিদ্দিক। এসময় তিনি বলেন, সাংবাদিকরা আরএমপি’র সফলতা নিয়ে গণমাধ্যমে যে সংবাদগুলো প্রকাশ করেছে সেই সাফল্যগুলো এই বইটিতে তুলে ধরা হয়েছে। এই সাফল্য আরএমপি’র সকল সদস্যের। এ সময় তিনি আরএমপিকে একটি নিরাপদ নগরী হিসেবে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।
অনুষ্ঠানে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের বিভিন্ন স্তরের পুলিশ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে পুলিশের বিভিন্ন পদমর্যাদার পুলিশ অফিসার আরএমপি পুলিশ কমিশনারের নগরবাসীর প্রত্যাশা পূরণে গতানুগতিক কাজের বাহিরে সম্পূর্ন ভিন্ন পন্থায় এবং ইন্টিলিজেন্টভিত্তিক কাজের প্রশংসা করেন।
পুলিশ কমিশনার আরএমপিতে যোগদানের পর ডিজিটাল মাধ্যমে সংঘটিত অপরাধ সনাক্তকরণ তথা অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতাই আনতে আরএমপিতে একটি সম্পূর্ণ পৃথক সাইবার ক্রাইম ইউনিট গঠন করেন। কিশোর অপরাধ দমনে ডিজিটাল ডাটাবেজ তৈরি করেন। নাগরিক সুরক্ষা প্রদান করার জন্য অপারেশনাল কন্ট্রোল অ্যান্ড মনিটরিং সেন্টার স্থাপন করে সিসি ক্যামেরায় নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে দেন রাজশাহী মহানগর এবং তথ্য আদান প্রদানের হ্যালো আরএমপি অ্যাপ চালু করেন। পুলিশ কমিশনার এই সকল বিজ্ঞানভিত্তিক ডিজিটাল উদ্ভাবনী সেবা নগরবাসী ভোগ করছে।
করোনাকালে তার সময়োপযোগী মানবিক পদক্ষেপ বিশেষত আরএমপি’র পুলিশ কোভিড অক্সিজেন ব্যাংক বাড়ি বাড়ি অক্সিজেন সেবা দিয়ে যাচ্ছে। সকলে যেন নায্য মূল্যে অক্সিজেন ক্রয় করতে পারে সে জন্য নায্য মূল্যে অক্সিজেন বিক্রয়ের চুক্তির উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। নগরবাসীর মাঝে প্রায় দেড় লক্ষ মাস্ক ও হ্যান্ড স্যানিটাইজার বিতরণ করেছেন। লকডাউন পরিস্থিতিতে মানবিক সংকটে পড়া অসহায়, দুঃস্থ, প্রতিবন্ধী, তৃতীয় লিঙ্গ জনগোষ্ঠিসহ নিম্ন আয়ের পেশাজীবি প্রায় ১১ হাজার পরিবারের মাঝে ত্রাণ সহায়তা দিয়েছেন। শুধু শহরেই নয় প্রত্যন্ত চরাঞ্চল চরমাজারদিয়াড়েও নিজে উপস্থিত থেকে ত্রাণ সহায়তা দেয়ার পাশাপাশি চরবাসীর যোগাযোগের জন্য রাস্তা তৈরি উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন।
পরিবেশের ভারসম্য রক্ষায় তিনি নগরীর বিভিন্ন স্থানে সড়কের পাশে বৃক্ষরোপণ করেন। প্রচন্ড শীতের প্রকোপ থেকে বাঁচতে অসহায়দের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করেছেন। এছাড়াও নিয়মিত বস্ত্র বিতরণের উদ্দেশ্যে থানা ফাঁড়িতে মানবতার দেওয়াল প্রতিষ্ঠা করেন। নগরীর কিশোর যুবকদের অপরাধ থেকে দূরে রাখতে বিভিন্ন টুর্নামেন্ট আয়োজনে উৎসাহ দিয়েছেন। পুলিশ কমিশনারের সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত ও দিকনির্দেশনায় আরএমপি মাদক-চোরাচালান রোধসহ বিভিন্ন অপরাধ দমনে অনন্য নজির স্থাপন করেছে। তার এই সমস্ত কার্যক্রম নগরবাসীর মনে ভালোবাসার উষ্ণতা ছড়িয়েছে। আর এভাবেই তিনি পুলিশি সেবা নগরবাসীর দোড়গোড়ায় পৌঁছিয়ে দিয়ে নন্দিত এবং বাংলাদেশ পুলিশকে করেছেন আলোকিত।
মোড়ক উম্মোচন অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (প্রশাসন) সুজায়েত ইসলাম, উপ-পুলিশ কমিশনার (সদর) রশীদুল হাসান পিপিএম, উপ-পুলিশ কমিশনার (বোয়ালিয়া) সাজিদ হোসেনসহ অন্যান্য উর্ধ্বতন কর্মকর্তা, থানার অফিসার ইনচার্জ ও অন্যান্য পুলিশ সদস্যরা।

SHARE