হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরলেন কথাসাহিত্যিক হাসান আজিজুল হক

5

রাবি প্রতিবেদক : প্রখ্যাত সাহিত্যিক হাসান আজিজুল হককে ঢাকার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তার রাজশাহীর বাসায় পৌনে ৫টার দিকে ফিরেছেন।
বৃসস্পতিবার (০৯ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় হাসান আজিজুল হকের ছেলে ড. ইমতিয়াজ হাসান জানান, তার বাবা এখন শঙ্কামুক্ত। যেসব সমস্যা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন তা কেটে গেছে। জটিল কোনো সমস্যা নেই। তবে ছোটখাটো যেসব সমস্যা রয়েছে তাতে বাসায় রেখে চিকিৎসা করা সম্ভব হবে। আবার ডিপ্রেশনের মতো দীর্ঘমেয়াদী কিছু সমস্যা আছে তাতে দীর্ঘমেয়াদী চিকিৎসাই দিতে হবে। তবে হার্ট ও নিউমোনিয়ার সমস্যা কেটে গেছে। হাসপাতালের চিকিৎসকরা তাকে বাসায় নিয়ে যেতে বলেছেন। বাসায় নিয়ে গিয়েই তাকে চিকিৎসা দিতে হবে। চিকিৎসকের পরামর্শে আমরা বাবাকে বাসায় নিয়ে এসেছি। পুরোপুরি সুস্থ না হলেও এই মুহূর্তে গুরুতর কোনো সমস্যা নেই। দীর্ঘ সময় তার শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করতে হবে। নির্দিষ্ট সময় পর পর পরীক্ষা করতে হবে। বাসায় রেখেই আমরা সেসব পরীক্ষার ব্যবস্থা করবো। দীর্ঘদিন বাবার বার্ধক্যজনিত সমস্যা ছাড়াও হার্টে সমস্যা ও ডায়াবেটিস রয়েছে।
ইমতিয়াজ হাসান আরও বলেন, বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রের (আইসিইউ) সুবিধা সম্বলিত অ্যাম্বুলেন্সে পরিবারের সদস্যরা তাকে নিয়ে রাজশাহীর উদ্দেশে রওনা হয়েছিলাম। কারণ, বাবা বসে থাকতে পারছেন না। চিকিৎসকরা তাকে শুইয়ে নিয়ে যেতে বলেছেন। এজন্য এয়ারে নিয়ে সড়ক পথে নিয়ে আসা হয়েছে।
শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে গত ২১ আগস্ট হাসান আজিজুল হককে রাজশাহীর হযরত শা হ মখদুম বিমানবন্দর থেকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে ঢাকার জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে আনা হয়। সেখানে কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে হৃদযন্ত্রের সমস্যার বাইরেও ফুসফুসে সংক্রমণ, ইলেকট্রোলাইটের ভারসাম্যহীনতাসহ নানা সমস্যা ধরা পড়ে।
পরবর্তীতে তাকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থানান্তর করা হয়। হাসান আজিজুল হককে হাই-ফ্লো অক্সিজেন সাপোর্টও দেয়া হয়। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও ইন্টারনাল মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ড. আরাফাতের নেতৃত্বে গঠিত মেডিকেল টিম তার টিকিৎসা করেন।
হাসান আজিজুল হক ১৯৩৯ সালের ২ ফেব্রুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার যব গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। বর্তমানে তার বয়স ৮২ বছর। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের অধ্যাপক হিসেবে ৩১ বছর শিক্ষকতার পর ২০০৪ সালে তিনি অবসরে যান। ৪৭-এর দেশভাগ ও মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে সোচ্চার প্রখ্যাত এই ঔপন্যাসিকের শ্রেষ্ঠ উপন্যাস আগুনপাখি। তিনি বাংলা অ্যাকাডেমি সাহিত্য পুরস্কার, একুশে পদক ও স্বাধীনতা পুরস্কার সহ দেশে বিদেশে নানা পুরস্কারে সম্মানিত হন।

SHARE