রাজশাহীতে পাখি হত্যার বিচার দাবি

15

স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে গাছ কাটার কারণে পাখির মৃত্যুর ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের বিচার দাবি করা হয়েছে। পাখির আবাস ধ্বংসের প্রতিবাদে আয়োজিত এক মানববন্ধন কর্মসূচি থেকে এ দাবি করা হয়েছে। সোমবার বেলা ১১টা থেকে ১২টা পর্যন্ত নগরীর সাহেববাজার জিরোপয়েন্টে এই কর্মসূচি পালিত হয়।

সেভ দ্য ন্যাচার অ্যান্ড লাইফ, রাজশাহী রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ, বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা), বাংলাদেশ জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ফেডারেশন, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ জোট, ইয়্যুথ অ্যাকশন ফর সোশ্যাল চেঞ্জ (ইয়্যাস), এলিজাবল ইয়ুথ ফর ইভোলিউশন (আই), নদী ও পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলনসহ পরিবেশবাদী আরও কয়েকটি সংগঠন এর আয়োজন করে। সংহতি জানিয়ে অংশ নেন বিভিন্ন যুব সংগঠনের সদস্যরা।

গত শনিবার রামেক হাসপাতালের সামনে ড্রেন নির্মাণের জন্য একটি অর্জুন গাছ কাটা হয়। এতে গাছ থেকে পড়ে যায় শামুকখোল পাখির প্রায় শতাধিক বাচ্চা। এতে বেশিরভাগ বাচ্চা সঙ্গে সঙ্গে মারা যায়। যেগুলো বেঁচে ছিল, সেগুলো মাংস খাওয়ার জন্য জবাই করে নিয়ে যান নির্মাণ শ্রমিক এবং রোগীর স্বজনেরা। এর প্রতিবাদেই মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়। পাখির বাচ্চার এমন মৃত্যুকে মানববন্ধনে বক্তারা হত্যা বলে উল্লেখ করেছেন। মানববন্ধন থেকে নির্বিচারে গাছ কাটারও প্রতিবাদ জানানো হয়।

বাপার জেলা সভাপতি ও রাজশাহী রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সাধারণ সম্পাদক জামাত খান কর্মসূচিতে সভাপতিত্ব করেন। তিনি বলেন, এর আগেও গাছ ও ডালপালা কেটে রামেক হাসপাতাল থেকে পাখি তাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। আমরা প্রতিবাদ করেছিলাম। আমাদের আস্বস্ত করা হয়েছিল যে, এ ধরনের উদ্যোগ আর নেওয়া হবে না। কিন্তু আবার ব্যাপকভাবে পাখি হত্যা করা হয়েছে। এর সঙ্গে সম্পৃক্তদের বিচার চাই। বিচার না হলে লাগাতার আন্দোলন চলবে।

অন্যান্য বক্তারা বলেন, একটি বসতি উচ্ছেদের জন্যও দু’এক সপ্তাহ সময় দেওয়া হয়। পাখিদের সে সময় দেওয়া হয়নি। আর দু’সপ্তাহ হলেই বাচ্চাগুলো উড়তে শিখতো। তাদের এমন করুণ মৃত্যু হতো না। এই ন্যাকারজনক ঘটনায় আমরা জড়িত সবার বিচার দাবি করছি। তাঁরা বলেন, একটু অক্সিজেনের কত মূল্য তা এই করোনাকালে আমরা বুঝতে পারছি। সেই অক্সিজেনের ভাণ্ডার গাছ কাটা হচ্ছে নির্বিচারে। এটা মেনে নেওয়া যায় না। বৃক্ষনিধন করে আমরা কোন উন্নয়ন চাই না।

সেভ দ্য নেচারের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমানের সঞ্চালনায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন- নদী ও পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলনের জেলার সাধারণ সম্পাদক হোসেন আলী পিয়ারা, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ জোটের আহ্বায়ক ডা. মাহফুজুর রহমান রাজ, আই’র সভাপতি গোলাম নবী রনি, দিনের আলো হিজড়া সংঘের সভাপতি মোহনা, গ্রীন ভয়েসের আহ্বায়ক আবদুর রহিম, ক্ষেতলাল পাখি কলোনীর সভাপতি মহাসিনা বেগম, নারীনেত্রী সেলিনা বেগম, জনসেবায় ভয়েস অব ইয়ুথের আহ্বায়ক মাহফুজুর রহমান, ইয়্যাসের নেতা শামীউল আলীম শাওন প্রমুখ।

এদিকে রামেক হাসপাতালের পাখির মৃত্যু নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে তুমুল সমালোচনা শুরু হওয়ার পর রোববার বিভাগীয় বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের কর্মকর্তারা সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন। তাঁরা গাছ না কাটা ও পাখিদের আবাসস্থলের ক্ষতি না করার জন্য রামেক হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে একটি চিঠি দিয়েছেন। এছাড়া বিষয়টি লিখিত আকারে মন্ত্রণালয়কেও অবহিত করা হয়েছে।

SHARE