চাঁপাইনবাবগঞ্জে পদ্মা নদীতে ফের ভাঙন

23

ফয়সাল আজম অপু, চাঁপাইনবাবগঞ্জ : চাঁপাইনবাবগঞ্জের পদ্মা নদী সপ্তাহ খানেকের ব্যবধানে ফের ফুঁসে উঠেছে। নদীর পানি বাড়ার সাথে সাথে তীব্র আকার ধারণ করেছে ভাঙনও। নদীর পাড়ের বাসিন্দারা, পাড় থেকে সরে নিরাপদ দুরত্বে ঘর বাঁধছে। স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে গত ৫ দিনে পদ্মার পাড় থেকে সরে গিয়ে নিরাপদ দুরত্বে আশ্রয় বেঁধেছে অন্তত ১৫ টি পরিবার। আর গত পনেরো দিনে প্রায় এক বিঘা আবাদি জমি নদী গর্ভে বিলিন হয়েছে। স্থানীয়রা বলছেন, বর্তমানে সদর উপজেলার চরবাগডাঙ্গা এলাকার গোয়ালডুবিতে তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। ভাঙনের হুমকিতে আছে বাখের আলী, ফাটা পাড়া, মোড়ল পাড়া, চাকপাড়াসহ আরও কয়েকটি গ্রাম।

এ সব এলাকাতে অন্তত ১০ হাজার মানুষ বসবাস করছে। আছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ কয়েকটি অন্তত ছোট-বড় ১৫ টি মসজিদ। ভাঙন রোধে পাউবোর দায়সারা জিও ব্যাগ ফেললেও ভাঙন রোধ করা সম্ভব হচ্ছেনা। এদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ড বলছে, সপ্তাহ খানেক সময়ের ব্যবধানে গত দুদিন থেকে গোয়ালডুবি গ্রামে পদ্মা তার তান্ডব চালাচ্ছে। এখন ফের পানি বাড়ছে; তাই নদীতে ভাঙন ধরেছে। শুষ্ক মৌসুমে ওই এলাকাতে বাঁধ নির্মাণ করা হবে। চরবাগডাঙ্গার গোয়ালডুবি এলাকার আঃ সালাম জানান, গত ৪ দিন আগেই আমি বাপ-দাদার ভিটা মটিতেই ছিলাম। কখনও ভাবিনি নদী ভাঙনের কবলে পড়ে, বাপের দেয়া সম্পত্তি ছেড়ে আসব। তবুও আসতে হয়েছে। আমার স্ত্রী ৪ বছর পূর্বে মারা গেছে, পারিবারিক জমিতেই দাফন করা হয়েছে। যে ভাবে নদী ভাঙছে ধারণা করছি দু-তিন দিনের মধ্যে কবরটিও বিলিন হয়ে যাবে। করোনা কালে বাইরে কাজ করতে যেতে পারিনি, বিধায় এখন টাকার সংকট। ঠিক মতো খেতেও পাইনা। এ সময়ে কেউ সাহায্য সহোযগিতা করেনি। একই এলাকার সাবিরুল ইসলাম জানান, গত তিন দিন থেকে ফের নদীতে ভাঙন ধরেছে। এলাকার লোকজন খুব আতঙ্কে আছে। অনেকের ভিটামাটি, আবাদি জমি, নিজ হাতে যত্ম করে লাগানো সখের আমের বাগান সব নদীতে নেমে যাচ্ছে। তিনি আরও জানান, যে ভিটাতে আমি জন্মের পর বেড়ে উঠেছি। সে ভিটা ছেড়ে আসতে না চাইলেও; জীবন বাঁচার তাগিদে আসতে হয়েছে। কদিন আগেই বাড়ির মালামাল গুলো এক আত্মীয়র বাড়িতে রেখে এসেছি। এখন নিজের পরিবারকে নিয়ে যেতে হচ্ছে। চরবাগডাঙ্গা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শহিদ রানা টিপু জানান, পদ্মা নদী ভাঙন কবলিত এলাকার লোকেরা খুব দূর্বিষহ জীবন যাপন করছে। একদিকে ভাঙনের আতঙ্ক আরেক দিকে তিব্র খাদ্যের সংকট। ভাঙন কবলিত এলাকাতে দায়সারাভাবে জিও ব্যাগ ফেলে, ভাঙন রোধ করা সম্ভব হচ্ছেনা। এলাকাতে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করতে হবে।তিনি আরও দুঃখ করে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পাউবোর বিরুদ্ধে অভিযোগ করে বলেন, তারা ইচ্ছে মতো দায়সারা ভাবে প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল জিও ব্যাগ ফেলছে। জিও ব্যাগে যে বালি দেয়ার কথা তা না দিয়ে মাটি মিস্রিত বালি দিচ্ছে যা ভাঙন রোধে কোনো কাজে আসবেনা। একই কথা বলেন আরও কয়েকজন ভাঙন কবলিত ভুক্তভোগী। সোমবার (৬ আগস্ট) সকালে পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী ময়েজ উদ্দীন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, নিয়ম মাফিক কাজ হচ্ছে। তিনি আরও বলেন পদ্মায় পানি আছে ২১ দশমিক ৪৪ মিটার। ধারণা করা হচ্ছে দুপুরের পর থেকে পানি কমতে থাকবে। তিনি আরও জানান, সাধারণত পানির স্তর বালু মাটি পর্যন্ত গেলে; মাটিগুলো ধসে যায় । ফলে নদীতে ভাঙনের আকার তীব্র হয়। গোয়ালডুবি এলাকাতে নদী ভাঙন রোধে জিও ব্যাগ দেয়া হয়েছে। নদীতে এখন পানি আছে। ভাঙনের আকারও তীব্র হচ্ছে। এ সময় স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করা সম্ভব না। শুষ্ক মৌসুমে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ কাজ শুরু করা হবে।

সোমবার (৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ঢাকা বাপাউবো প্রধান প্রকৌশলী ডিজাইন মোঃ এনায়েতুল্লার নেতৃত্বে, রাজশাহী পাউবোর পওর তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী শফিকুল ইসলাম সহ পাউবোর উর্ধতন কর্মকর্তাবৃন্দ সরজমিনে ভাঙন এলাকা পরিদর্শন করেন এবং ভাঙনরোধে সার্বিক ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দেন।

SHARE