পদ্মাপাড়ের আতঙ্ক এখন রাসেল ভাইপার

31

অনলাইন ডেস্ক : বিষধর সাপগুলোর একটি রাসেল ভাইপার। বিপন্ন তালিকায় থাকা এই সাপটির দেখা মিলছে পদ্মা নদীর তীরবর্তী জেলা ও চরগুলোতে। ধারণা করা হচ্ছে, ভারত থেকে পদ্মায় ভেসে বাংলাদেশে ঢুকেছে এই মহাআতঙ্ক।

মূলত রাসেল ভাইপারের বাস চরাঞ্চলে। কিন্তু চর ডুবে যাওয়ায় রাসেল ভাইপার আশ্রয় নিয়েছে পাড়ে। খাবারের খোঁজে অনেক সময় চলে আসছে বসতবাড়ির আশপাশে।

বিষধর এই সাপের সঙ্গে সাক্ষাত হচ্ছে মানুষের। এতে আতঙ্কিত পদ্মাপাড়ের লোকজন। গত কয়েকদিনে অন্তত শতাধিক রাসেল ভাইপার পিটিয়ে মেরেছেন তারা।

জানা গেছে, বিশ্বের পাঁচ নম্বর ভয়ংকর বিষধর সাপ রাসেল ভাইপার। শুধু তাই নয়, কামড়ের ক্ষিপ্রগতির দিক দিয়ে সব সাপকে হারিয়ে প্রথম স্থানে রাসেল ভাইপার। এ ছাড়া বিশ্বে দ্বিতীয় সর্ববৃহৎ বিষদাঁত রাসেল ভাইপারের। এই সাপের বিষ ‘হেমোটক্সিন’ হওয়ায় মাংস পঁচে আক্রান্ত ব্যক্তির মৃত্যু হয়।

পদ্মাপাড়ের বাসিন্দারা জানিয়েছেন, রাসেল ভাইপার আতঙ্কে অনেকেই নিজেদের প্রয়োজনীয় কাজে যেতে পারছেন না। এমনকি জেলেদের জালেও প্রতিনিয়ত ধরা পড়ছে রাসেল ভাইপার।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) জেনেটিক বিভাগের অধ্যাপক আবু রেজা বলেন, বিষধর প্রজাতির সাপগুলো সাধারণত চরের বালুতে বসবাস করে। এখন চর ডুবে গেছে। তাই বন্যার পানিতে ভেসে নদীর তীরবর্তী পাড়ে আশ্রয় নিচ্ছে। এই মুহূর্তে পদ্মাপাড়ে বসবাসরতদের সাবধানে থাকার আহ্বান জানান তিনি।

সাপ গবেষক ও চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ভেনম রিসার্চ সেন্টারের প্রশিক্ষক বোরহান বিশ্বাস রোমন বলেন, গত চার দিনে ১৬৩টি সাপ মারার ঘটনা শুনেছি। এর মধ্যে ১০৭টি হচ্ছে রাসেল ভাইপার। বাকিগুলো ক্রেইট ও কোবরা জাতের সাপ। সাপ নিধন না করে নিজেদের সাবধানে থাকার আহ্বান জানান এই গবেষক। তিনি বলেন, পদ্মার পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে সাপগুলো আবার তাদের নিজেদের পছন্দের জায়গায় ফিরে যাবে।

SHARE