বাগমারায় লীজকৃত পুকুরে মাছ দেখতে গিয়ে বিপাকে পড়েছেন অংশীদার

12

স্টাফ রিপোর্টার,বাগমারা : রাজশাহীর বাগমারায় ইজারা নেওয়া নিজের পুকুরে জাল ফেলে মাছ দেখার ঘটনাকে ভিন্নভাতে প্রভাবের অভিযোগ পাওয়া গেছে। অংশীদারকে বঞ্চিত করার জন্য নজরুল ইসলাম নামের এক প্রতারক ভিন্ন কৌশল অবলম্বন করেছেন। উপজেলার চক মহব্বতপুর গ্রামের এসএম এনামুল হকের পক্ষে স্থানীয় প্রেসক্লাবে এসে এই অভিযোগ করা হয়। আগের দিন নজরুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তি এনামুল হকের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ আনেন। অংশীদার নজরুল ইসলামকে প্রতারক আখ্যা দিয়ে তার বিচার দাবি করা হয়েছে। এসব বিষয়ে পুলিশসহ বিভিন্ন দপ্তরে প্রতারক নজরুলের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়।

জানা যায়, উপজেলার কামনগর ও দ্বীপনগর মৌজায় অংশীদারিত্বের মাধ্যমে তিনজন মৎস্য ব্যবসায়ী একটি পুকুর খনন করে মাছচাষ করে আসছিলেন। তারা হলেন, কামনগর গ্রামের আবেদ আলীর ছেলে নজরুল ইসলাম, আরঙ্গবাদ গ্রামের মৃত ফারাজ আলীর ছেলে ফজলুর রহমান এবং একই এলাকার মৃত শ্রীকৃষ্ট মন্ডলের ছেলে যুগোল চন্দ্র মন্ডল। তারা স্থানীয় লোকজনের নিকট থেকে দশ বছরের জন্য বিশ হাজার টাকা বিঘায় জমি লীজ নিয়ে পুকুর খনন করে। এক বছর পর পুকুরের হিসাব-নিকাশ করলে অনেক টাকা লোকসান হয়। এ নিয়ে তিন অংশীদারের মধ্যে মতভেদ সৃষ্টি হয়।

পরে ফজলুর রহমান এবং যুগোল তাদের অংশ আর্থিক প্রয়োজন দেখা দেয়ায় গনিপুর ইউনিয়নের চকমহব্বতপুর গ্রামের আমির আলীর ছেলে এস.এম. এনামুল হকের নিকট বিক্রয় করেন। বর্তমানে এস.এম.এনামুল হক ওই পুকুরে অংশীদার হওয়ায় পুকুরে জাল নামিয়ে মাছ দেখেন। এ সময় আরেক অংশীদার নজরুল ইসলামকে পুকুরে থাকতে বলেন। নজরুল ইসলাম না আসার কারনে জাল টেনে শুধু মাছ দেখেন এনামুল হক। এদিকে এনামুল হক ওই দুই জনের অংশ ক্রয় করার আগে নজরুলের সাথে বিভিন্ন সময় হিসাব নিয়ে সমস্যার সৃষ্টি হতো অংশীদারদের মধ্যে। নুজরুলের বিরুদ্ধে বাগমারা থানা সহ নির্বাহী অফিসারের নিকটে অভিযোগও দাখিল করে ফজলুর রহমান ও যুগোল।

নজরুল ইসলাম সহ তারা দুই জনে আরো একটি পুকুর খনন করে মাছ চাষ করে আসছিল। সেই পুকুর তাদেরকে না জানিয়ে অন্যস্থানে নজরুল একাই বিক্রয় করে অর্থ আত্মসাৎ করেছে বলে তাদের অভিযোগ। নজরুল ইসলামের এমন কর্মকান্ডে বিব্রত হয়ে ফজলুর রহমান এবং যুগোল আরেকটি পুকুরে তাদের অংশ এনামুল হকের নিকট বিক্রয় করে দিয়েছে। এদিকে নজরুল ইসলাম তার অংশীদারদের নিকট থেকে নিজেকে বাঁচাতে এনামুলের বিরুদ্ধে মাছ লুটের মিথ্যা অভিযোগ দাখিল করে বলে অভিযোগ তুলেছেন এনামুল হক।

এ ব্যাপারে এস.এম. এনামুল হকের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি ফজলুর রহমান এবং যুগোলের নিকট থেকে তাদের অংশ ক্রয় করেছি। সে মোতাবেক আমি পুকুরে জাল টেনে মাছ দেখেছি। পুকুর থেকে কোন মাছ ধরা বা লুটের ঘটনা ঘটেনি। একটি পক্ষ ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের চেষ্টা করছে।

SHARE