বাগমারায় জোঁকা বিলে মাছচাষের উদ্বোধন

21

হেলাল উদ্দীন,বাগমারা : রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার নরদাশ ইউনিয়নের জোঁকা বিলে মাছচাষকে কেন্দ্র করে বিলের চারপাশে দীর্ঘ দিন থেকে বিরোধ চলে আসছিল। খোলা ডাকের মাধ্যমে লীজ নিয়ে মাছচাষ শুরু করলো এক পক্ষ। শুক্রবার জোঁকা বিলের পানিয়া অংশে মাছ ছেড়ে নতুন ভাবে মাছ চাষের উদ্বোধন করা হয়েছে।

৫ কোটি টাকা ডাকে জমির মালিকের নিকট থেকে লীজ গ্রহণ করেন মুরাদ হোসেন নামের এক ব্যক্তি। তার নেতৃত্বেই হবে মাছচাষ। বিলে মাছ অবমুক্তকালে উপস্থিত ছিলেন, নরদাশ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল মতিন, সাবেক চেয়ারম্যান আহসান হাবিব, জোতদার জোনাব আলী, আফসার আলী, ইচাহাক আলী, জাহাঙ্গীর আলম, সেকেন্দার আলী, কামরুজ্জামান, অনিক, আকবর আলী, আশরাফ আলী সহ দুইশতাধিক জমির মালিক। উল্লেখ ইতোপূর্বে জোঁকা বিলে মাছচাষকে কেন্দ্র করে দুটি পক্ষের সৃষ্টি হয়েছিল। এতে দায়িত্বে থাকা পক্ষ অন্যদের বাড়িঘরে হামলা, মামলাসহ নানা ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটিয়ে আসছিল।

অবশেষে জোঁকা বিল নিয়ে রাজশাহীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এএসপি) অলক বিশ্বাসের হস্তক্ষেপে দু’পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় মীমাংসার বৈঠক হয়। সম্প্রতি হাটগাঙ্গোপাড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে নরদাশ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল মতিনের সভাপতিত্বে উক্ত বিলের মীমাংসায় বসে জোঁকা বিলের চারপাশের সকল কৃষক। মীমাংসা বৈঠকে ১৯টি শর্ত সাপেক্ষে উন্মুক্ত ডাকের মধ্যমে বিলটির লীজের ব্যবস্থা করা হলে লীজে অংশগ্রহণ করেন শাহার আলী, কামরুজ্জামান, ইচাহাক আলী, আহসান হাবিব, মুরাদ হোসেন ও আকবর আলী।

সবশেষ ২৫ তম ডাকে কামরুজ্জামান ও আকবর আলী পাশ দিলে সাহার আলী ৪ কোটি ৮১ লাখ, ইচাহাক আলী ৪ কোটি ৮২ লাখ, আহসান হাবিব ৪ কোটি ৮৩ লাখ, মুরাদ হোসেন ৫ কোটি টাকায় ডাক দেন। মুরাদ হোসেনের সর্বোচ্চ ডাক এবং ১৯টি শর্তসাপেক্ষে প্রতি বছর জোঁকা বিলের জমির মালিকদের ৫ কোটি টাকা দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করলে মুরাদ হোসেনকে জোঁকা বিলে মাছ চাষের জন্য লীজ প্রদান করা হয়।

সে সময় বাগমারা থানার অফিসার ইনচার্জ মোস্তাক আহম্মেদ, হাটগাঙ্গোপাড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের এসআই রফিকুল ইসলাম, ভবানীগঞ্জ পৌর মেয়র আব্দুল মালেক মন্ডল, বাগমারা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ গোলাম সারওয়ার আবুল সহ গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। একসময় জোঁকা বিলে মাছচাষকে কেন্দ্রে করে হত্যা কান্ডের ঘটনাও ঘটেছিল। এদিকে বিলটিতে লীজের মাধ্যমে মাছ চাষ হলে এলাকায় আইন শৃঙ্খলার অবনতি হওয়ার সম্ভাবনা নেই এবং বিলের চারপাশের মানুষ শান্তিপূর্ণ ভাবে বসবাস করতে পারবে বলে জানিয়েছেন এলাকার সুধীজন।

SHARE