তানোরে ২৬ বছর পর বিদ্যুৎ সংযোগ পেলো কুড়ো ঘরের দিনমজুর শাফিউল

31

আশরাফুল আলম, তানোর : তানোরে পল্লী বিদ্যুতের ডিজিএম এর উদারতা ও সহযোগীতায় ২৬ বছর পর বিদ্যুৎ পেলো একটি কুড়ো ঘরে স্ত্রীসহ ২ ছেলে নিয়ে বসবাস করা দরিদ্র দিনমজুর শাফিউল ইসলাম। ঘরে বিদ্যুতের সাদা আলোর জ্বলে উঠার সাথে সাথে শাফিউলের ছেলে ও স্ত্রীর চোখে মুখে ফুটে উঠে খুশির ঝিলিক।

(১০ই আগষ্ট) মঙ্গলবার বিকালে পল্লী বিদ্যুতের কর্মকর্তা কর্মচারীরা বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়ার তারসহ সামগ্রী নিয়ে সরেজমিন গিয়ে শাফিউলের টিনের বাড়িতে বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়ে ঘরে লাইট জ্বালিয়ে দেন।

এলাকাবাসী ও সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানা গেছে, তানোর উপজেলার মুন্ডমালা পৌর এলাকার চুনিয়া পাড়া গ্রামের আজিমুদ্দীনের ছেলে খাস জমিতে টিনের একটি ঘর বানিয়ে ২৬ বছর ধরে অতী কষ্টে স্ত্রী ও ২ ছেলে নিয়ে বসবাস করে আসছিলেন শাফিউল ইসলাম।

রাজশাহী পল্লী বিদ্যুৎ তানোর জোনের ডিজিএম জহুরুল ইসলামের নজরে আসার সাথে সাথে তিনি মঙ্গলবার বিকালে শাফিউলের টিনের কুড়ো ঘরে বিদ্যুতের সংযোগসহ আলো জ্বালিয়ে দেন।

এবিষয়ে শাফিউল ইসলাম বলেন, দিন আনি, দিন খাই, কাজ না থাকলে না ক্ষেয়ে কোন রকমে দিন পার করি। তারপরও বিদ্যুৎ নেয়ার চেষ্টা করে পারিনি। ২৬ বছর ধরে অতি কষ্টে পরিবারসহ ২ ছেলে সন্তান নিয়ে খুব কষ্টে বসবাস করি।

তিনি বলেন, আমাকে অফিসে যেতে হয়নি, সব কিছুই ডিজিএম স্যারের উদারতা ও সহযোগীতায়সহ অবদান, কোন টাকা ছাড়াই আমার কুড়ো ঘরে বিদ্যুতের সাদা আলো জ্বালিয়ে দিলেন তিনি। তিনি বলেন, টিনের একটি ভাঙ্গা ঘরে ২সন্তানসহ পরিবার নিয়ে ঝড় বৃষ্টিতে ঝুখি নিয়ে বসবাস করি, সরকারী কোন দান অনুদান পান না বলেও জানান তিনি।

শাফিউলের স্ত্রী বলেন, বিদ্যুৎ না থাকায় আমার ২ ছেলে বাতি জ্বালিয়ে পড়া লিখা করতে খুব বিরক্ত হয়। তিনি বলেন, এখন ছেলেরা বিদ্যুৎ পেয়ে খুব খুশি।

এবিষয়ে রাজশাহী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি তানোর জোনের ডিজিএম জহুরুল ইসলাম বলেন, শাফিউলের ঘরে বিদ্যুৎ নেই বিষয়টি জানতে পেরে সাথে সাথে তার ঘরে বিদ্যুতের সংযোগসহ ঘরে আলো জ্বালিয়ে দেয়া হয়েছে।

SHARE