একে একে ডাকছি, যার নাম পাচ্ছি তাকেই ডাকছি : সিআইডি

23

অনলাইন ডেস্ক : সিআইডির প্রধান অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক ব্যারিস্টার মাহবুবুর রহমান বলেছেন, চিত্রনায়িকা পরীমণি, পিয়াসা ও মৌয়ের মামলার বিষয়ে আমরা বেশ কয়েকজনকে ডেকেছি, আরও বিভিন্নজনকে ডাকবো। তবে মিডিয়াতে আগেই তাদের নাম নিশ্চিত না হয়ে প্রচার করা উচিত না।

বুধবার সিআইডির প্রধান কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে একথা বলেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, আমরা বেশ কয়েকজনকে ডেকেছি। যাদের ডাকবো না আপনারা মনে করবেন এসব মামলার সাথে আপনাদের সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়নি।

সিআইডি প্রধান বলেন, আমরা অভিযুক্ত সবার বাসায় অভিযান চালিয়েছি। আমরা ৩টা জিপ, একটা বিএমডব্লিউ, একটা মাজদা এবং একটা ফেরারি গাড়ি জব্দ করেছি। মোবাইল জব্দ করেছি৷ আমরা চেষ্টা করবো নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে সবগুলো মামলার তদন্ত শেষ করতে। তবে অনলাইন, পত্রিকা ও সোস্যাল মিডিয়াতে এসবের সাথে জড়িত অনেকের নাম এসেছে। এরকম খণ্ডচিত্র এলে অনেকের সম্মানহানি হয়। আমরা তদন্ত করছি, আমাদের সময় দেন, আমরাই তদন্ত শেষে সব জানিয়ে দেবো।

তিনি আরও বলেন, আপনারা জানেন সম্প্রতি ঢাকার বেশ কিছু জায়গায় অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। সেখানে থেকে বেশ কিছু মালামাল জব্দসহ কয়েক জনকে আটক করা হয়েছে। এই সংক্রান্ত মোট ১৫টি মামলা হয়েছে, যার মধ্যে সিআইডিতে তদন্তাধীন রয়েছে ৮ টি মামলা। এসব মামলায় মোট ১০ জন আসামি রয়েছেন, যার মধ্যে ৮ জন এখন আমাদের কাছে রয়েছে। দুই জন অন্য মামলায় রিমান্ড আছেন। তাদের রিমান্ড শেষে আমাদের কাছে নিয়ে আসবো। এই ৮টি মামলায় আসামিরা আমাদের কাছে রিমান্ডে ছিল, কিন্তু আরও জিজ্ঞাসাবাদ থাকায় তাদের আজ আদালতে পাঠিয়ে রিমান্ড আবেদন করলে তা মঞ্জুর হয়।

সিআইডি প্রধান বলেন, আমরা জব্দ হওয়া ডিভাইসগুলোর ফরেনসিক পরীক্ষা শুরু করেছি। যেসব লিকার (মদ) পাওয়া গেছে সেগুলোর রাসায়নিক পরীক্ষা চলছে। যারা এত দিন রিমান্ডে ছিল তাদের আমরা ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করেছি। বিভিন্ন রকম তথ্য আমরা পেয়েছি। আমরা আশা করছি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তদন্ত শেষ করে ফেলতে পারবো। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই মামলাগুলো শেষ করতে হবে।

মাদক সংক্রান্ত অভিযোগ ছাড়া পরীমণিসহ বাকি আসামিদের বিরুদ্ধে অন্য কোনো অভিযোগ আছে কি না, একজন সাংবাদিকের এমন প্রশ্নে সিআইডি প্রধান বলেন, তদন্তের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কিছু নীতিমালা আছে, আমরা সেই বিষয়গুলো সামনে রেখেই এগোচ্ছি। আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে, জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আমরা বুঝতে পারবো মামলা কোন দিকে যাবে। আমাদের তদন্ত একদম পরিষ্কারভাবে চলছে, আগে থেকে কোনো নির্দিষ্ট বিষয়কে মাথায় রেখে আমরা তদন্ত করিনি। যেহেতু আসামিদের কাছ থেকে নানা রকম মালামাল জব্দ করা হয়েছে, সেগুলো কোথা থেকে এসেছে, কারা টাকা দিয়েছে এবং উৎস কোথায় তা আমরা খুঁজে দেখছি।

আসামিদের সম্পত্তির বিষয়ে খোঁজ নেওয়া হচ্ছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে আমরা তদন্ত করেছি। এ সংক্রান্ত নানা রকম তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।

জব্দ হওয়া গাড়িগুলো কার কার জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ পর্যন্ত যেই ৬টি গাড়ি জব্দ করা হয়েছে সেগুলো কার কার নামে আছেন, তার তথ্য জানতে আমরা বিআরটিএ তে যোগাযোগ করেছি। এছাড়া গাড়িগুলো কোথা থেকে এসেছে এবং দেশে এগুলো সঠিকভাবে আনা হয়েছে কি না তাও আমরা তদন্ত করে দেখছি। পরীমণির বাসা থেকে আমরা একটি গাড়ি জব্দ করেছি।

আদালতে পরীমণির আইনজীবী বলেছেন পরীমণি ১২২ ঘণ্টা ধরে একই পোশাকে আছেন। এ সংক্রান্ত বিষয়ে সিআইডির প্রধানের প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটা আসামি পক্ষের আইনজীবীর কথা। ডিফেন্স অনেক কথা বলতে পারে। আমরা এ বিষয়ে আমাদের অফিসারদের সঙ্গে কথা বলে জানতে পেরেছি আসামিপক্ষের আইনজীবীর কথা সত্য নয়।

কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি অভিযোগ করছেন সম্প্রতি ঘটে যাওয়া অভিযান কেন্দ্র করে তাদের হয়রানি করা হচ্ছে, তাই তারা এ বিষয়ে পুলিশের অন্যান্য ইউনিটের কাছে অভিযোগ করেছেন। এতে করে মামলার তদন্ত বাধাগ্রস্ত হবে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, যদি কেউ মনে করে তাদের সুনাম ক্ষুণ্ন হচ্ছে, তাহলে তারা আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন। আমরা যদি তদন্তের স্বার্থে কাউকে না ডাকি তাহলে আপনি মনে করবেন এই মুহূর্তে আপনি ওয়ান্টেড নয়। যদি আপনাকে আমাদের প্রয়োজন হয় এবং আপনার বিরুদ্ধে অভিযোগ থেকে থাকে, তাহলে আমরা আপনাকে ডাকবো। ‌কেউ যদি মিথ্যা বলে ডাকে তাহলে আমাদের কাছে এসে বললে আমরা আইনি পদক্ষেপ নেব।

এখন পর্যন্ত কতজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা তদন্ত শেষে এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানাবো। কারণ, আমাদের তদন্ত এখনও চলমান রয়েছে। এছাড়া প্রয়োজন ভেদে আমরা অনেককে ডাকতে পারি।

এই মামলা সংক্রান্ত কারো বিরুদ্ধে বিদেশ যাত্রায় নিষেধাজ্ঞা আছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রয়োজন পড়লে বিদেশযাত্রার বিষয়ে নিষেধাজ্ঞার সিদ্ধান্ত আমরা নিতে পারি। অফিসিয়ালি কারো বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়নি। তবে কয়েকজনকে এ বিষয়ে নজরদারিতে রাখা হয়েছে। তথ্য যাচাই-বাছাই ছাড়া এ বিষয়ে আমরা সিদ্ধান্ত নিতে পারি না।

আসামিদের হাতে প্রতারিত হওয়াদের কোনো ধরনের তালিকা তৈরি হচ্ছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, আইন অনুযায়ী তালিকা তৈরি করার সুযোগ নেই। তথ্যসূত্র : ঢাকা পোস্ট।

SHARE