টিকা গ্রহণে মানুষের আগ্রহ বেড়েছে : রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার

23

স্টাফ রির্পোটার : করোনার (কোভিড-১৯) প্রতিরোধে সরকারি উদ্যোগে টিকা কার্যক্রম বাস্তবায়ন ও সফল কলার লক্ষে মোহনপ্রু উপজেলার মৌগাছিতে টিকা কার্যক্রম পরিদর্শন শেষে মতবিনিময় করেছেন রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. হুমায়ুন কবীর।
শনিবার (০৭ আগস্ট) দুপুরে তিনি মৌগাছি ইউনিয়নের মৌগাছি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আয়োজিত টিকা কার্যক্রম পরিদর্শন করেন। এসময় তিনি উপস্থিত জনসাধারণকে স্বাস্থ্য সচেতনতা ও মাস্ক পরার পরামর্শ দিয়ে কোভিট ১৯ টিকা নেয়ার গুরুত্ব সর্ম্পকে বুঝান। টিকা নেয়ার বয়স পেরিয়ে গেলেও অনেকে টিকা গ্রহণ করেননি এমন জনসাধারণকে টিকার উপকারিতা তুলে ধরে টিকা নিতে উদ্বুদ্ধ করেন। রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. হুমায়ুন কবীর বলেন, সরকার জনসাধারণের সুস্থতার জন্য অনেক পরিমশ্রমের মাধ্যমে টিকা আমদানি করেছেন। এ টিকা নিয়ে সামাজিকভাবে যে সকল অপপ্রচার চালানো হচ্ছে এ বিষয়ে তিনি জানান টিকা উপকারী। করোনা হতে রক্ষা পেতে সকলকেই মাস্ক পরার পাশপাশি টিকা গ্রহণ করতেই হবে। এছাড়াও তিনি টিকা গ্রহণকারীদের উপস্থিতি নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন।
এসময় রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. হুমায়ুন কবীর তার বক্তব্যে বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় করোনাভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে রাজশাহী জেলা প্রশাসনের কঠোর নজরদারিতে সারাদেশে ন্যায় রাজশাহীতেও গণহারে টিকা কার্যক্রম শুরু হয়েছে। প্রতিটি ইউনিয়নে ১ নম্বর ওয়ার্ডের কেন্দ্রে তিনটি বুথে এই টিকা প্রদান করা হচ্ছে। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বৃদ্ধ, বীর মুক্তিযোদ্ধা, নারীদের মধ্যে বাছাই করে টিকা প্রদান করা হচ্ছে। এছাড়াও টিকাকেন্দ্রে গিয়ে টিকা গ্রহণ করছেন নানা শ্রেণিপেশার নারী-পুরুষেরা। এটা ইতিবাচক দিক। ‘টিকাগ্রণের জন্য মানুষের আগ্রহ বেড়েছে, পর্যায়ক্রমে সবাই টিকা পাবেন’।
ড. মো. হুমায়ুন কবীর আরো জানান, রাজশাহীর সবাইকে টিকার আওতায় আনতে ইউনিয়ন-ওয়ার্ড পর্যায়ে ৭ থেকে ১২ আগস্ট পর্যন্ত কোভিড-১৯ গণটিকার কার্যক্রম চলবে। এছাড়াও ১৪ আগস্ট থেকে ১৯ আগস্ট পর্যন্ত পুরোদমে চলবে গণটিকার কার্যক্রম।
তিনি আরও জানান, প্রতিটি কেন্দ্রে টিকাদানকারী স্বাস্থ্যকর্মী ও স্বেচ্ছাসেবী নিয়োজিত আছে। আমরা সার্বিক কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করছি। করোনা থেকে মুক্তি পেতে টিকা গ্রহণের বিকল্প নেই, নাগরিকরা সেটি বুঝতে পেরেছেন। এ জন্য টিকা নিতে মানুষের আগ্রহও অনেক বেড়েছে।
ড. মো. হুমায়ুন কবীর আরো জানান, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর আন্তরিক উদ্যোগ আর প্রচেষ্টায় এরই মধ্যে দেশে বিপুল পরিমাণ টিকা চলে এসেছে। নগরীতে মডার্না এবং জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সিনোফার্মের টিকা দেয়া হচ্ছে।
তিনি আরো জানান, দেশে প্রথম করোনার টিকা আসে গত ২১ জানুয়ারি। এরপর গত ৭ ফেব্রুয়ারি গণটিকাদান শুরু হয়। এরপর টিকা রপ্তানি বন্ধ করে দেওয়ায় দেশের টিকা কার্যক্রম গতি হারিয়েছিল। তবে চীন, যুক্তরাষ্ট্র ও জাপান থেকে টিকা আসায় এ কার্যক্রম আবার গতি পেয়েছে। এখন পর্যন্ত ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও জাপান মিলিয়ে মোট টিকা এসেছে ২ কোটি ৫৬ লাখ ৪৩ হাজার ৯২০টি।
এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন, অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (রাজস্ব) ড. আব্দুল মান্নান, জেলা প্রশাসক আব্দুল জলিল, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক রাজস্ব মো. নজরুল ইসলাম, মোহনপুর উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম, মোহনপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. সানওয়ার হোসেন, কেশরহাট পৌরসভার মেয়র শহিদুজ্জামান, মৌগাছি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলআমিন বিশ্বাসসহ স্থানীয় জনসাধারণ।
অন্যদিকে তিনি উপজেলার ঘাসিগ্রাম ইউনিয়নের ঝাল পুকুরিয়া আশ্রয়ণ প্রকল্প পরিদর্শন শেষে আদীবাসী পল্লীর জনগোষ্ঠির সঙ্গে মতমিনিময় করেন। এর আগে বিভাগীয় কমিশনার আশ্রয়ণে দেয়া প্রধানমন্ত্রীর উপহারের বাড়ি পরিদর্শন শেষে আদীবাসী পরিবারের কৃতি শিক্ষার্থীদের হাতে উপহার হিসেবে আর্থিক সহয়তার চেক প্রদান করেন।

SHARE