করোনার টিকা গ্রহণের মাধ্যমেই ৯৮ ভাগ সুরক্ষিত থাকা সম্ভব : হুমায়ুন কবীর

22

স্টাফ রিপোর্টার : রাজশাহী জেলা প্রশাসনের আয়োজনে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত নগরীর ৩ শো দুস্থ ও অসহায় মানুষের মাঝে ২ হাজার টাকা করে মোট ৬ লাখ টাকার মানবিক সহায়তা প্রদান করা হয়।

বুধবার (৪ আগস্ট) সকাল ১১টায় জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে রাজশাহী শাখার সোনালী ব্যাংকের সহযোগিতায় মানবিক সহায়তা প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. হুমায়ুন কবীর। উক্ত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন রাজশাহী জেলা প্রশাসক আব্দুল জলিল।
প্রধান অতিথি বক্তব্যে বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. হুমায়ন কবীর জানান, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্ন ছিল দরিদ্র ও মেহনতি মানুষের মুখে হাসি ফোটানো। এই স্বপ্ন বাস্তবায়নে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তাই তিনি করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত কর্মহীন মানুষদের কথা চিন্তা করে খাদ্য সামগ্রী ও মানবিক সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছেন। যতদিন এই অবস্থা স্বাভাবিক না হবে, ততদিন সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।
তিনি আরো জানান, দেশের এই চ্যালেঞ্জিং মুহূর্তে সরকারের পাশাপাশি সোনালী ব্যাংক সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে মানবিক সহায়তা নিয়ে এগিয়ে এসেছে। সে জন্য তিনি সোনালী ব্যাংকে অসংখ্য ধন্যবাদ জানান।
তিনি আরো জানান, করোনা প্রতিরোধে টিকার গুরুত্ব অপরিসীম। একমাত্র টিকা গ্রহণের মাধ্যমে আমরা করোনা পরিস্থিতিতে ৯৮ ভাগ সুরক্ষিত থাকতে সক্ষম। বাংলাদেশ পৃথিবীর মধ্যে একমাত্র দেশ, যে চারটি কোম্পানির থেকে একযোগে করোনার টিকা সংগ্রহ করছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশের জনগণের কথা চিন্তা করে, চলতি মাসের ৭ তারিখ থেকে গণটিকা কার্যক্রম শুরু করতে যাচ্ছে। দেশের সকল জেলায় একযোগে ওয়ার্ড ও ইউনিয়ন পর্যায়ে এই টিকা প্রদান কার্যক্রম শুরুর লক্ষে ইতোমধ্যে নিবন্ধনের কাজ চলমান রয়েছে। নভেল করোনা ভাইরাস এর হাত থেকে নিজেকে ও পরিবারের সদস্য তথা দেশকে রক্ষা করতে সরকারী নির্দেশনা অনুযায়ী সকলকে টিকা নেয়ার অনুরোধ জানান তিনি।
তিনি আরো জানান, নিজের ও পরিবারকে করোনামুক্ত রাখার স্বার্থে আগামী ১০ আগস্ট পর্যন্ত সরকারি নির্দেশনা মেনে চলার জন্য উপস্থিত সকলের প্রতি অনুরোধ করেন এবং প্রয়োজনে বাড়ির বাইরে বের হলে অবশ্যই মাস্ক ব্যবহার নিশ্চিত করার পরামর্শ দেন বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. হুমায়ুন কবীর।
সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক আব্দুল জলিল জানান, দেশের অন্যান্য জেলার ন্যায় রাজশাহীতে দীর্ঘদিন থেকে চলছে সরকার ঘোষিত কঠোর লকডাউন। এর ফলে নিত্যপণ্য দ্রব্যের দোকান, পণ্যবাহী যানবাহন, জরুরি সেবা ও কাঁচাবাজার ছাড়া বন্ধ রয়েছে। এ অবস্থায় খেটে খাওয়া মানুষগুলো কর্মহীন হয়ে অসহায় জীবন যাপন করছে। এ অবস্থা থেকে কিছুটা উত্তরণের জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে আজকে ৩ শো অসহায় ও দুস্থ মানুষের মাঝে মানবিক সহায়তা প্রদান করা হলো। এই মানবিক সহায়তা কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করার জন্য করার জন্য রাজশাহী জেলার শাখার সোনালী ব্যাংকে ধন্যবাদ জানান তিনি।
তিনি আরো জানান, রাজশাহী জেলায় করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য সামাজিক দায়বদ্ধতা অংশ হিসেবে সোনালী ব্যাংক ১৯ লাখ টাকার মানবিক সহায়তা প্রদান করেছেন। এর মধ্যে রাজশাহী সিটি করপোরেশনে ১২ লাখ টাকা খরচ করা হবে ও অবশিষ্ট টাকা খরচ করা হবে সকল উপজেলায়। এরই ধারাবাহিকতায় আজকে নগরীর ৩ শো জন অসহায় ও দুস্থ মানুষের মাঝে প্রধানমন্ত্রীর মানবিক সহায়তা প্রদান করা হলো। করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হয়া পর্যন্ত এই মানবিক সহায়তা অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মহাম্মদ শরিফুল হক এর সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী শাখার সোনালী ব্যাংকের ডিজিএম সাহাদত হোসেন। এছাড়াও আরো উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) নজরুল ইসলাম, জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আবু আসলাম ও ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা প্রকৌশলী আমিনুল হক।

SHARE