রামেক হাসপাতালে যোগ হচ্ছে ১ হাজার শয্যা

52

স্টাফ রিপোর্টার : রাজশাহী অঞ্চলের চিকিৎসা সেবার অন্যতম ভরসাস্থল ১ হাজার ২০০ শয্যা বিশিষ্ট রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতাল। এই হাসপাতালে ভর্তি হয়ে প্রতিদিন গড়ে ২ থেকে আড়াই হাজার রোগি চিকিৎসা নেন। অল্প সুযোগ-সুবিধা নিয়ে এই বিশাল রোগিকে সেবা দিতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এরসঙ্গে যুক্ত হয়েছে করোনা ভাইরাসের প্রকোপ। এমন সীমাবদ্ধতার উত্তরণে হাসপাতালে যুক্ত হচ্ছে আরো ১ হাজার শয্যা। এ বিষয়ক একটি পরিকল্পনা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে পাঠাতে রামেক হাসাপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় শয্যা বৃদ্ধির গুরুত্ব, খসড়া নকশা উপস্থাপন, জায়গা নির্ধারণ, লোকবল নিয়োগসহ হাসপাতালের সার্বিক চিকিৎসা সেবার উন্নয়ন, প্যাথলজির সর্বোচ্চ ব্যবহার, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, রোগিদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা, মর্ডান লন্ড্রি প্ল্যান্ট স্থাপন, পরিত্যক্ত জায়গার সৌন্দর্য বর্ধন, সেবা সহজিকরণ ও কোভিড-১৯ বিষয়ক আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। শনিবার (১১ মে) রাজশাহী মেডিকেল কলেজের সভা কক্ষে এ বিষয়ক আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন, রাজশাহী-২ (সদর) আসনের সাংসদ ফজলে হোসেন বাদশা। ফজলে হোসেন বাদশা বলেন, আমরা একটা হাসপাতালের ব্যবস্থা করবো। এটা কিভাবে আমরা করতে পারি তার একটা প্রস্তাবনা ১০ কার্য দিবসের মধ্যে পাঠাতে বলা হয়েছে। এরমধ্যে দুই কার্যদিবস চলে গেছে। আর ৮ কার্য দিবস আছে। তবে এর আগেই আমরা এই পরিকল্পনা পাঠিয়ে দিবো। এটা আমাদের জন্য সৌভাগ্যের।
তিনি আরো বলেন, হাসপাতালে শয্যা সম্প্রসারণ খুবই দরকার। ৬০ এর দশকের এই হাসপাতালে কিছু বেডের বৃদ্ধি হয়েছে। তা পরবর্তীতে দীর্ঘ সময় ধরে আর হয়নি। আমরা মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলতে পারিনা। রাজশাহীর মানুষের জন্য আমাদের যে দায়িত্ব আমরা পালন করবো। এছাড়া হাসপাতালের ভেতরে আমরা কিভাবে চিকিৎসার ক্ষেত্র আরো বাড়াতে পারি তারও একটি পরিকল্পনা তৈরি করা হচ্ছে বলে জানান সাংসদ।

সাংসদ ফজলে হোসেন বাদশা বলেন, আমাদের রাজশাহীর মানুষ যে করোনায় আক্রান্ত হচ্ছে এটা ভারতের ভ্যারিয়েন্ট কী না? এটা নিয়ে সন্দেহ আছে। রামেক হাসপাতালে যেসব করোনা রোগি আছে তাদের অধিকাংশ যেহেতু চাঁপাইনবাবগঞ্জের সেহেতু এই জায়গাটাকে কঠোর লকডাউনের আওতায় আনতে হবে। সেখানে চিকিৎসার পর্যন্ত ব্যবস্থা করে রামেক হাসপাতাল মুখি চাপ কমাতে হবে। সেই সঙ্গে বর্ডার এলাকাগুলোতে কড়াকড়ি আরোপসহ হাসপাতালের সার্বিক উন্নয়ন, দালালদের দৌরাত্ম নিরোসন, হাসপাতালের বাইরের দাঁড়িয়ে থাকা গাড়িগুলোর সঠিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনা করেন তিনি। এছাড়া রাজশাহী সদর হাসপাতালের উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেয়ার ঘোষণা দেন সাংসদ।
সভায় পাওয়ার পয়েন্ট পেজেন্টেশন উপস্থাপন করেন, হাসপাতাল পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামীম ইয়াজদানী। তিনি হাসপাতালের বিদ্যমান সমস্যা, সম্ভাবনা, করণীয় ও উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা করেন। সভায় বক্তব্য রাখেন, হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য সমাজসেবী শাহিন আকতার রেনী।
সভায় উপস্থিত ছিলেন, রাজশাহী অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (উন্নয়ন) এএনএম মঈনুল ইসলাম, আরএমপি অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (বোয়ালিয়া) তৌহিদুল আরিফ, রাজশাহী মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. নওশাদ আলী, রামেক হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ডা. খলিলুর রহমান, রাসিকের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. এফএএম আঞ্জুমান আরা বেগমসহ গণপূর্ত বিভাগ-২, রামেক হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্মকর্তা, নার্সিং সুপারিনটেনডেন্টসহ ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্যরা।

SHARE