নগরীর বাজারে বাড়েছে সবজি ও গরুর মাংসের দাম

30

স্টাফ রির্পোটার : নগরীর বাজারে বাড়ছে সবজির ও গরুর মাংসের দাম। আর স্থিতিশীল রয়েছে মুদিসামগ্রী ও মুরগির দাম। বিক্রেতারা জানান, ইদের পর ব্রয়লার মুরগি দাম কেজিতে ২০ থেকে ২৫ টাকা কমেছে। ইদের আগে সবজির দাম কম ছিলো। তবে গত কয়েক দিন থেকে ২ থেকে ৩ টাকা বেড়েছে সবজির দাম। সাথে নতুন কিছু সবজি বাজারে উঠেছে। যা চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে। নতুন সবজির মাধ্যে কাকরোল, কচু দাম ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে বাজারে সবজির আমদানি একটু কম থাকায় কয়েকটি সবজির দাম বেড়েছে। আর চাহিদা বেশি থাকায় গরুর মাংসের দাম বেড়েছে কেজি প্রতি ১০ থেকে ১৫ টাকা করে।
শুক্রবার (২০ মে) নগরীর সাহেব বাজার ঘুরে মুরগির বাজারে দেখা যায়, ইদের আগে দামে বেশি থাকলেও, ইদের পর থেকে দাম কমতে শুরু করেছে। তাছাড়া ইদের পর চাহিদাও একটু কম। ছুটি শেষে লোকজন আসা শুরু করেছে। এখন একটু বিক্রি বেশি হবে। চাল ব্যবসায়িরা জানান, চাল এখন কম দামে যাচ্ছে। কারণ নতুন চাল বাজারে আমদানি হয়েছে এতে দাম কম। ইদের আগে পেঁয়াজের দাম বাড়তি থাকায় ইদ পরে থেকে পেঁয়াজ ৩৬ থেকে ৩৮ টাকা খুচরা দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে ইদের পর থেকে ক্রেতা কম বলে জানান বিক্রেতা। আলু প্রতিকেজি ১৫ টাকা, কাকরোল ৬০ টাকা, কচু ৬০ টাকা, বেগুন ২০ টাকা, পটল ৩০ থেকে ৩৫ টাকা, ঢেড়স ২০ থেকে ২৫ টাকা, করলা ৩০ টাকা, বরবটি ২০ থেকে ৩০ টাকা, ধনেপাতা ১০ টাকা আটি। সজনে ডাটা ৪০ টাকা কেজি, পেঁপে ৩০ থেকে ৪০ টাকা, গাজর ১৫ থেকে ৩০ টাকা, শসা ৪০ টাকা, ডুমুর ৩০ থেকে ৪০ টাকা, টমেটো ২০ থেকে ৩০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ১৫ থেকে ২০ টাকা, লাউ ২৫ থেকে ৩০ টাকা পিস, কাঁচাকলা ২০ টাকা থেকে ২৫ টাকা হালি, কচুর লতি ৩০ থেকে ৩৫ টাকা, ঝিঙ্গা ২০ থেকে ২৫ টাকা। শাকের মধ্যে- প্রতি আটি লাল শাক, সবুজ শাক ও কাঠুয়া শাক বিক্রি হচ্ছে ২০ টাকা। পেঁয়াজ ৩৬ থেকে ৩৮ টাকা, রসুন ৪০ থেকে ৬০ টাকা, আদা ৮০ থেকে ৯০ টাকা, কাঁচামরিচ ৬০ টাকা।
রাজশাহীর সাহেববাজার মুদির দোকান ঘুরে দেখা যায়, প্যাকেটজাত সয়াবিন লিটার প্রতি ১৩৫ থেকে ১৩৮ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। ৫ লিটার সয়াবিন তেল ৬৫০ থেকে ৬৬০ টাকায় বিক্রি। খোলা সয়াবিন ১২৪ টাকা। পামওয়েল তেল লিটারে বিক্রি হচ্ছে ১১২ টাকা থেকে ১১৮ টাকা। ডালের মধ্যে- বিভিন্ন জাতের মসুরের ডাল ৭৫ থেকে ১০০ টাকা, মুগের ডাল ১৩০ টাকা, কালায়ের ডাল ১২০ টাকা, বুটের ডাল ৭৫ থেকে ৮০ টাকা, মটর ৪২ থেকে ৪৫ টাকা, এংকার ডাল ৪০ থেকে ৪৫ টাকা, খেসারি ৬৮ টাকা ও চিনি ৬৮ টাকান দরে বিক্রি হচ্ছে।
অপরদিকে, প্রতিকেজি আটাশ চাল ৫২ টাকা এবং মিনিকেট ৬০ টাকা। এছাড়া গুটি স্বর্ণা ৪৫ টাকা, সুমন স্বর্ণা ৪২টাকা, চিনিগুড়া চাল ৯৫ থেকে ১০০ টাকা, বাসমতি ও নাজিশাল ৭০ টাকা, কালোজিরা ৬৫, রাধুনি ৭০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
মাংসের মধ্যে গরুর মাংস ৫৬০ টাকা, খাসির মাংস ৮০০ থেকে ৮৫০ টাকা। ব্রয়লার মুরগি ১৩০। সেনালি ২২০ টাকা, দেশি মুরগি ৪৪০ টাকা, এছাড়া রাজহাঁস ৪৪০ টাকা ও পাতিহাঁস ২৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে।
মাছের বাজার ঘুরে দেখা গেছে, প্রতিকেজি ইলিশ মাছ ৮০০ থেকে ১০০০ টাকা, চিংড়ি মাছ ৬০০ থেকে ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া রুই মাছ ওজন ভিত্তিতে প্রতিকেজি ১২০ থেকে ২০০ টাকা, সোল ৪০০ টাকা, কাতল মাছ ২৬০ থেকে ৩৫০ টাকা, মিরগেল ১২০টাকা, অইড় মাছ ১২০ টাকা, টেংরা ৬০০ টাকা, টাকি ৩০০ টাকা, ময়া মাছ ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা, পাবদা মাছ ৩০০ টাকা, আইখোর ১৫০ টাকা, ময়া ৪০০ টাকা, বোয়াল ৪০০, সিং মাছ ৪০০ টাকা, সিলভর মাছ ১৫০ টাকা, পিউলি ৩০০ টাকা, গড়ই ৩০০, মাগুর ৫০০ টাকা, মিরকা মাছ ১২০ টাকা থেকে ২০০ টাকা, পাঙ্গাস ১২০ থেকে ৪০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
মাছ ব্যবসায়ী নুর ইসলাম জানান, মাছের দাম বেড়েছে। এখন তেমন ভাবে মাছ পাওয়া যাচ্ছেনা। রোদে নদীর পানি সুকিয়ে যাওয়ায় মাছের আমদানি কম। আসছে বর্ষায় হয়তো এই সমস্যা হবেনা।

SHARE