কর্মস্থলে যোগদানে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চান নিয়োগপ্রাপ্তরা

15

অনলাইন ডেস্ক : কর্মস্থলে যোগদানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) এডহকে নিয়োগ পাওয়া ১৩৮ শিক্ষক কর্মকর্তা-কর্মচারী। বুধবার বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের পেছনে ছাত্রলীগের টেন্টে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্টদের প্রতি এ হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে পাঠ করেন এডহকে নিয়োগপ্রাপ্ত কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সদস্য আব্দুল্লাহ আল মাসুদ।

লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘রাবি ক্যাম্পাসে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে সহায়তা করতে গিয়ে আমরা বিভিন্ন সময়ে স্বাধীনতা বিরোধী, মৌলবাদী জামাত-শিবির চক্রের হামলাসহ নানা ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছি। আমাদের মধ্যে অনেকেই জামাত-শিবির চক্রের নৃশংস হামলায় পঙ্গুত্ব বরণ করেছি। ইতোমধ্যে অনেকের সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়স শেষ, তাই বেকার ও মানবেতর জীবন-যাপন করছিলাম।

‘রাবিতে শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীর সাত শতাধিক পদ দীর্ঘ দিন যাবত শূন্য রয়েছে। আমরা উক্ত শূন্য পদের বিপরীতে নিয়োগের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সাথে যোগাযোগ করে সিভি/জীবন বৃত্তান্ত জমা দেই। কিন্তু বিশ্বব্যাপী মহামারী করোনাভাইরাসের কারণে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নিয়োগ প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখতে পারেন নি। এমতাবস্থায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সদ্য সাবেক উপাচার্য প্রফেসর ড. এম আব্দুস সোবহান স্যার গত ৫ মে ১৯৭৩ সালের রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাদেশ এর ১২(৫) ধারায় অর্পিত ক্ষমতাবলে শূন্য পদের বিপরীতে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের সাবেক-বর্তমান নেতাকর্মী, আওয়ামী লীগ ও মুক্তিযোদ্ধা পরিবারসহ আমাদের ১৩৮ জনকে এডহক’ ভিত্তিতে ছয় মাসের জন্য অস্থায়ীভাবে নিয়োগ প্রদান করেন।’

লিখিত বক্তব্যে সাবেক এ ছাত্রলীগ নেতা আরও বলেন, আমরা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের নিকট থেকে প্রাপ্ত নিয়োগপত্রের আলোকে গত ৬ মে যোগদানও করেছি।’কিন্তু ওইদিনই আমাদের যোগদান প্রক্রিয়া চলাকালে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ এক প্রজ্ঞাপনে চার সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন এবং আমাদের নিয়োগকে অবৈধ ও বিধিবহির্ভূত’ আখ্যায়িত করে। যদিও ১৯৭৩ সালের রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাদেশ এর ১২(৫) ধারা মোতাবেক, এই নিয়োগকে অবৈধ বলার কোনো সুযোগ নেই। এই নিয়োগকে অবৈধ ঘোষণার আগে ’৭৩ এর অধ্যাদেশ-এর উপরিউক্ত ধারা বাতিল করা উচিত ছিল বলে আমরা মনে করি।

রুটিন দায়িত্বপ্রাপ্ত উপাচার্য’ কর্মস্থলে যোগদান স্থগিত করতে পারেন না দাবি করে তিনি আরও বলেন, দৈনন্দিন রুটিন দায়িত্বপ্রাপ্ত উপাচার্য প্রফেসর ড. আনন্দ কুমার সাহা চুক্তিভিত্তিক নিয়োগপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার প্রফেসর মো. আব্দুস সালামকে দিয়ে আমাদের যোগদানের চলমান প্রক্রিয়া গত ৮ মে স্থগিত ঘোষণা করে বিজ্ঞপ্তি জারি করেন। আমাদের জানামতে, নিয়মিত উপাচার্যের প্রদানকৃত নিয়োগ, দৈনন্দিন রুটিন দায়িত্বপ্রাপ্ত উপাচার্য’ স্থগিত করতে পারেন না।

এ বিষয়ে রেজিস্ট্রার অধ্যাপক আব্দুস সালাম বলেন, তদন্ত কমিটির পরামর্শেই আমরা নিয়োগ কার্যক্রম স্থগিত করি।

সবাই সিভি দিয়েছিলেন দাবি নিয়োগপ্রাপ্তদের;
এদিকে সংবাদ সম্মেলনে এডহকে নিয়োগ পাওয়া সবাই বিদায়ী উপাচার্য অধ্যাপক এম আব্দুস সোবহানের কাছে সিভি জমা দিয়েছিলেন বলে দাবি করা হয়। এক প্রশ্নের জবাবে নিয়োগপ্রাপ্ত রাবি ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি ফারুক হোসেন বলেন, ‘ছাত্রলীগকর্মী হিসেবে ভিসি স্যারের সঙ্গে আমাদের আগে তেকেই যোগাযোগ ছিল। নানা কারণে তিনি আগে নিয়োগ দিতে পারেননি। কিন্ত শেষ সময়ে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করলেন। আমরা সরাসরি আব্দুস সোবহান স্যারকেই সিভি দিয়েছি। যারা দূরে ছিল তারাও অন্য কোনোভাবে দিয়েছে।’

সংবাদ সম্মেলনে শাখা ছাত্রলীগের সাবেক এ সহ-সম্পাদক আরও বলেন, আমরা বেকার অবস্থায় মানবেতর জীবনযাপন করছি। উদ্ভুত এই পরিস্থিতিতে নিয়োগপ্রাপ্ত আমরা ও আমাদের পরিবার দুশ্চিন্তায় আছি। তাই আমাদের নিয়োগের ওপর আরোপিত বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দেয়া স্থগিতাদেশ প্রত্যাহারের জোর দাবি জানাচ্ছি। সময় কর্মস্থলে যোগদানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, শিক্ষামন্ত্রী ও শিক্ষা উপ-মন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজ, শিক্ষক সমিতিসহ সংশ্লিষ্টদের তাদের পাশে দাঁড়ানোর অনুরোধ জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন রাবি ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি ইলিয়াছ হোসেন ও রায়হান মাসুদ, রাজশাহী জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ওমর ফারুক ফারদীন, রাবি ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি আতিকুর রহমান সুমন, সহ-সভাপতি মো. ফারুক হাসান, সাবেক ছাত্রবৃত্তি বিষয়ক সম্পাদক টগর মো. সালেহ প্রমুখ।

প্রসঙ্গত, শিক্ষামন্ত্রণালয়ের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে গত ০৫ মে রাবির সদ্য বিদায়ী উপাচার্য অধ্যাপক এম আব্দুস সোবহান ১৩৮ জন শিক্ষক কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ দেন। পরবর্তীতে ছয় জুন শিক্ষামন্ত্রণালয় এ নিয়োগ অবৈধ ঘোষণা করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। ০৮ মে তদন্ত কমিটি রাবিতে আসেন। অধ্যাপক এম আব্দুস সোবহান, দুই প্রো-ভিসিসহ সংশ্লিষ্ট সকলের সঙ্গে কথা বলেন। ওই বিকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার এক আদেশ তদন্ত প্রতিবেদের কার্যক্রম শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিয়োগপ্রাপ্তদের কর্মস্থলে যোগদান বন্ধ রাখার ঘোষণা দেন।

SHARE