সাংবাদিক রোজিনাকে হেনস্তা ও গ্রেফতারে বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিবাদ

18

অনলাইন ডেস্ক : দৈনিক প্রথম আলোর সাংবাদিক রোজিনা ইসলামকে হেনস্তা ও গ্রেফতারে বিভিন্ন সংগঠনের আরও প্রতিবাদ জানানো হয়েছে।

বুধবার (১৯ মে) প্রতিবাদ হিসাবে মানববন্ধন করা হয়েছে। সেইসাথে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দা জানানো হয়েছে।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি : এই ঘটনায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি বিস্মিত, ক্ষুব্ধ ও মর্মাহত। এ বিষয়ে আমরা তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দা জানাচ্ছি। আমরা মনে করি, বর্তমান সরকার নানা খাতে অবিস্মরণীয় অগ্রগতি অর্জন করেছে, যার জন্য দেশে-বিদেশে সুনাম কুড়িয়েছে। এতে অন্য অনেকের সঙ্গে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের অনেক কর্মকর্তারও অবদান রয়েছে। কিন্তু আমরা এটাও লক্ষ করেছি, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে এক শ্রেণির সরকারি কর্মকর্তার যোগসাজশে নজিরবিহীন দুর্নীতি, অনিয়ম, অবহেলা ও অব্যবস্থাপনার ঘটনাও ঘটেছে। গত বছর থেকে করোনা মহামারি মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে এমন ঘটনা বেশি ঘটেছে বলে গণমাধ্যমের প্রতিবেদনসূত্রে জানা গেছে। বিশ্বজুড়ে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতায় দুর্নীতি-অনিয়মের তথ্য সংগ্রহের জন্য যে পন্থা অবলম্বন করা হয় সাংবাদিক রোজিনা ইসলামও সেটাই করেছেন বলে সচেতন মহলের মতো আমরাও মনে করি।
মন্ত্রণালয়ের কিছু অসাধু কর্মকর্তার জন্য করোনা মহামারি মোকাবিলায় সরকারের প্রচেষ্টা ব্যাহত হচ্ছে এবং দেশে-বিদেশে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হচ্ছে। সাংবাদিক রোজিনা ইসলামের সঙ্গে যে আচরণ করা হয়েছে তাতেও সরকার দেশে-বিদেশে ভাবমূর্তির সংকটে পড়েছেন। একটি দেশের কার্যকর উন্নয়নের জন্য সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও অনিয়ম-দুর্নীতি রোধ করার বিকল্প নেই। আর এ ক্ষেত্রে রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ হিসেবে গণমাধ্যম সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করবে, অনিয়ম-দুর্নীতি তুলে ধরবে- এটাই স্বাভাবিক। গণমাধ্যম স্বাধীনভাবে তার দায়িত্ব পালন করতে পারলে সরকার এসব সমস্যা কাটিয়ে তার কাক্সিক্ষত লক্ষ্যে পৌঁছুতে পারে। এ ক্ষেত্রে গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধ করা হয় এমন কোনো পদক্ষেপ সরকারের অঙ্গীকারকেই প্রশ্নবিদ্ধ করে। মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত করার যে মহাপরিকল্পনা নিয়ে সরকার এগিয়ে যাচ্ছে তা বাস্তবায়নের জন্য গণমাধ্যমকে বরং আরো স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ দেওয়া উচিত।
আমরা উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ করছি, আমলাতন্ত্রের কিছু কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অপেশাদারিত্ব ও কর্তৃত্ববাদী মনোভাব গড়ে উঠেছে যা সুশাসন ও উন্নয়নকে ব্যাহত করছে। এসব ঘটনা সরকারকে জনবিচ্ছিন্ন করা ও উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা কি না তা নিয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি সন্দেহ পোষণ করছে।
আমরা চাই, অতি দ্রুত রোজিনা ইসলামের বিরুদ্ধে করা মামলা প্রত্যাহার করা হোক, তাঁকে সসম্মানে মুক্তি দেয়া হোক। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের যেসব কর্মকর্তা বা যারাই রোজিনা ইসলামকে হেনস্তা ও মামলা দিয়ে হয়রানি করেছেন এবং যারা দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত তাঁদের বিচারবিভাগীয় কমিশনের মাধ্যমে তদন্তসাপেক্ষে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা হোক।
আরআরইউ : প্রথম আলোর জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক সাংবাদিক রোজিনা ইসলামকে সচিবালয়ে আটকে রেখে হেনস্তা করে মিথ্যা মামলায় গ্রেফতারসহ সারাদেশে সাংবাদিকদের উপর হামলা মামলার প্রতিবাদে এবং গ্রেফতারকৃদের মুক্তির দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মানববন্ধন করেছে রাজশাহী রিপোর্টার্স ইউনিটি (আরআরইউ)।
বুধবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নগরীর আলুপট্রির মোড়ে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। রাজশাহী রিপোর্টার্স ইউনিটি সভাপতি এস.এম. আব্দুল মুগনী নীরোর সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মঈন উদ্দীন এর পরিচালনায় সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, রাজশাহী রিপোর্টার্স ইউনিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি মাসুদ রানা রাব্বানী, রাজশাহী ফটো জার্নালিষ্ট এ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও আরআরইউ‘র নির্বাহী সদস্য আসাদুজ্জামান আসাদ প্রমূখ। এ সময় রাজশাহীতে কর্মরত বিভিন্ন মিডিয়ার প্রায় শাতাধিক সংবাদকর্মী উপস্থিত ছিলেন।
বক্তারা বলেন, প্রথম আলোর সিনিয়র সাংবাদিক রোজিনা ইসলামের সঙ্গে যে আচরণ করা হয়েছে, তা ন্যক্কারজনক এবং সারাদেশে যেভাবে সাংবাদিকদের উপর হামলা-মামলাসহ নির্যাতন চলছে এসমস্ত ঘটনায় সাংবাদিকেরা উদ্বিগ্ন, ক্ষুব্ধ ও বিস্মিত। তারা আরও বলেন, ‘আমরা লক্ষ্য করছি সাম্প্রতিক সময়গুলোতে সাংবাদিক নির্যাতন বা হেনস্তার মতো ঘটনাগুলো দিন দিন আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে যা গণমাধ্যামের স্বাধীনতা হরণের পাঁয়তারা বলে আমরা মনে করছি। সাংবাদিকদের উপর হামলা নির্যাতন রোধে কঠোর আইন প্রণয়নের দাবি জানান সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ।
তারা বলেন, স্বাধীন ও অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা এবং মুক্ত গণমাধ্যমের প্রতি ধারাবাহিক আক্রোশেরই প্রতিফলন হচ্ছে সাংবাদিকরা। রোজিনা ইসলামকে আটক ও হেনস্তার নিন্দা জানিয়ে তারা বলেন, বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যমে জনগণের তথ্য পাওয়ার অধিকার নিশ্চিত করতে রোজিনা ইসলাম কাজ করছেন। এ ঘটনা গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে একটি অত্যন্ত বাজে দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে, যা কোনোভাবেই প্রত্যাশিত নয়।
বক্তারা আরো বলেন, এ ঘটনায় তারা স্বাস্থ্য সচিবকে ধিক্কার জানান এবং সাংবাদিক রোজিনা ইসলামসহ কারাবরণকারী সকল সাংবাদিকদের অবিলম্বে মুক্তির দাবি করেন এবং এ ঘটনার সুষ্ঠ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।
মহিলা পরিষদ : বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ রাজশাহী জেলা এক বিবৃতিতে সাংবাদিক রোজিনা ইসলামকে হেনস্থা করায় গভীর বিস্ময় ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। বিবৃতিতে পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময়ে একজন নারী সাংবাদিকের উপর সরকারের স্ব্াস্থ্য বিভাগের এই আচরণের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়।
মহিলা পরিষদ অবিলম্বে রোজিনা ইসলামের নিঃশর্ত মুক্তি ও তাঁর সুচিকিৎসার দাবী জানাচ্ছে এবং নিরপেক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে এই ঘটনার সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবী জানাচ্ছে।
ফটোজার্নালিস্ট এসোসিয়েশন : প্রথম আলো’র জেষ্ঠ্য প্রতিবেদক রোজিনা ইসলামকে আটকে রেখে নির্যাতন ও মিথ্যা মামলার প্রতিবাদে বুধবার বেলা ১১টায় নগরীর সাহেববাজার জিরোপয়েন্টে বাংলাদেশ ফটোজার্নালিস্ট এসোসিয়েশন রাজশাহী শাখার উদ্দ্যোগে মানববন্ধন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। উক্ত কর্মসূচিতে সর্বস্তরের সাংবাদিকদের অংশগ্রহণের জন্য অনুরোধ জানিয়েছে সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

SHARE