রাজশাহী অঞ্চলে চলতি মৌসুমে উচ্চফলনশীল নতুন জাতের ধান চাষে ব্যাপক সাফল্য

20

মঈন উদ্দীন : রাজশাহী অঞ্চলে চলতি বোরো মৌসুমে উচ্চফলনশীল নতুন জাতের ধান চাষে ব্যাপক সাফল্য অর্জিত হয়েছে। এজন্য আগেই রাজশাহী, নওগাঁ, চাঁপাইনাবগঞ্জ ও নাটোর জেলার প্রায় ১০০ জন প্রান্তিক কৃষকের মধ্যে নতুন উদ্ভাবিত উচ্চ ফলনশীল বোরো জাতের ধান বীজ (ব্রি ধান ৭৪, ৮৪, ৮৮ ও ৯২ এবং ইঅট-৩), সার ও কীটনাশকসহ নগদ অর্থ সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ইরি-ওজজও) বিল মিলিণ্ডা গেইটস্ ফাউণ্ডেশনের আর্থিক সহযোগিতায় ‘এগ্রি এলায়েন্স’ প্রকল্পের অধীনে এই ধান বীজ ও নগদ অর্থ সহায়তা দেওয়া হয়। প্রকল্পটি ইরি ও বেসরকারি সংস্থা পিপলস ডেভেলপমেণ্ট ইনস্টিটিউট (পিডিআই) যৌথভাবে বাস্তবায়ন করছে।

নতুন জাতের এই ধান চাষ করে রাজশাহী অঞ্চলের কৃষককেরা আশানুরুপ ফলন পাওয়ায় ভীষণ খুশি। তাই কৃষকেরা আগামীতে আরো ব্যাপকহারে উন্নত জাতের ধান বীজ কৃষকদের মধ্যে বিতরণের জন্য ইরির কর্মকর্তাদের প্রতি অনুরোধ জানান।

এ ব্যাপারে রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলার বাকশিমুল গ্রামের কৃষক আনোয়ার হাওলাদার বলেন, নতুন জাতের এই ধানের ফলন যেমন বেশি, তেমনি আগাম ও স্বল্প মেয়াদী হওয়ায় এর চাহিদাও ব্যাপক।

নাটোর সদরের পাইকেরদোল গ্রামের কৃষক বেলায়েত হোসেন বলেন, আমি এই নতুন জাতের ধান প্রথম নিজে চাষ করেছি। এতে ফলনও বেশ ভালো হয়েছে। তাই অন্যদেরকেও নতুন জাতের ধান চাষে উৎসাহ দিচ্ছি। তিনি বলেন, আমি প্রতি হেক্টরে নতুন ইঅট-৩ এবং ব্রি ধান ৮১ জাত চাষ করেছি। এরমধ্যে ইঅট-৩ হেক্টর প্রতি ৮ দশমিক ১ টন এবং ৮১ জাত ৭ দশমিক ৭ টন ফলন হয়েছে।
এদিকে, উন্নতজাতের উচ্চফলনশীল ব্রি ৮১ ধানটি ইতোমধ্যে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে চাষিদের মধ্যে। রাজশাহী, নওগাঁ, নাটোর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, খুলনা, সাতক্ষীরা, চুয়াডাঙ্গা, যশোর, ঝিনাইদহসহ বিভিন্ন অঞ্চলের কৃষকেরা এই ধান চাষে সফলতা পাচ্ছেন বলে জানিয়েছে কৃষি বিভাগ। ২০১৭ সালে ব্রি উদ্ভাবিত ধানটি সারা দেশে ছড়িয়ে দিতে কৃষি মন্ত্রণালয় ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরসহ সংশ্লিষ্টরা কাজ করছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ব্রি ৮১ ধানের জাতটি ব্রি ২৮-এর পরিপূরক। কিন্তু এটি ব্রি ধান ২৮-এর চেয়ে চিকন। ঝড়বৃষ্টিতে ব্রি ২৮ হেলে পড়লেও নতুন ব্রি ৮১ ধান হেলে পড়ে না। এ ধানটির বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো- ধান পাকার পরও পাতাগুলো সবুজ থাকে। মাঝারি উঁচু জমি থেকে উঁচু জমিতে খুব ভালো ফলন দেয়। প্রতি হেক্টরে গড় ফলন ৬.৫ থেকে ৭ মেট্রিক টন।

সূত্রটি আরো জানায়, ব্রি ৮১ জাতের ধানের ফলন অনেক ভালো। বিঘাপ্রতি ৩১ মণ। ব্রি ২৮ ও ২৯ দীর্ঘদিন ধরে চাষ হলেও এর উৎপাদনশীলতা হ্রাস পাচ্ছে। তাই এই নতুন ব্রি ৮১ জাতটি কৃষক পর্যায়ে দ্রুত সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

বেসরকারি পর্যায়ে বীজ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান রাজশাহীর মোহনপুরের মিজান এণ্টারপ্রাইজের সত্ত্বাধিকারী আব্দুল হালিম বলেন, ইরি ও পিডিআই কর্তৃক প্রদত্ত বোরো মৌসুমে ডিলারদের মাধ্যমেও চাষি পর্যায়ে ধান বীজ ও সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।

রাজশাহী অঞ্চলের পিডিআই-এর প্রকল্প সমন্বয়ক রনজিৎ দাস বলেন, নতুন জাতের এই ধান চাষ করে ফলন ও বাজার মূল্য বেশি পাওয়ায় কৃষকেরা ভীষণ খুশি। তাই আগামীতে কৃষকেরা ব্যাপকহারে এই ধরণের জাত আরো বেশি করে চাষ করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। উচ্চফলনশীল ব্রি ধান ৭৪, ৮৪, ৮৮ ও ৯২ এবং ইঅট-৩ চাষ করে কৃষকেরা প্রায় সমপর্যায়ের ফলন পেয়েছেন বলেও তিনি জানান।

SHARE