রাবিতে নতুন নিয়োগপ্রাপ্তদের যোগদান স্থগিত

55

স্টাফ রির্পোটার : রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) অবৈধ এডহক নিয়োগে জড়িতদের চিহ্নিত করতে তদন্ত কমিটি গঠন করেছে শিক্ষামন্ত্রণালয়।

শিক্ষামন্ত্রণালয়ের তদন্তকার্যক্রমের পর সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত এডহকে নিয়োগ পাওয়া ১৩৭ শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারীদের যোগদান স্থগিত ঘোষণা করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

শনিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক আব্দুস সালাম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ বিষয়টি জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘গত ৫ মে তারিখে দেয়া এডহক নিয়োগকে অবৈধ ঘোষণা করে তদন্ত কমিটি গঠন করেছে শিক্ষামন্ত্রণালয়। এজন্য তদন্ত কমিটির রিপোর্টের প্রেক্ষিতে কোনো ধরনের সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত উক্ত নিয়োগপত্রের যোগদান এবং তদন্ত সংশ্লিষ্ট সকল কার্যক্রম স্থগিত রাখার অনুরোধ করা হলো।’

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত ৬ মে উপ-রেজিস্ট্রার মো. ইউসুফ আলী স্বাক্ষরে ৯ জন শিক্ষক, ২৩ জন সেকশন অফিসার, ২৪ সহায়ক কর্মচারী এবং ৮৫ জন উচ্চ ও নি¤œ সহকারী নিয়োগ দেয়া হয়েছে। এদের মধ্যে রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সন্তান, স্ত্রী ও স্বজন, ছাত্রলীগের সাবেক-বর্তমান ৪৩ নেতা-কর্মী, রয়েছে চার জন সাংবাদিক নেতা।

এই নিয়োগের পর শনিবার রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ‘অবৈধ’ নিয়োগ ও এর সঙ্গে জড়িতদের বিষয়ে তদন্ত করতে ক্যাম্পাসে এসেছেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটির সদস্যরা।

তদন্ত কমিটিকে নেতৃত্বে ছিলেন কমিটির আহ্বায়ক ও ইউজিসি সদস্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আলমগীর। তার সঙ্গে ছিলেন কমিটির সদস্য এবং ইউজিসি সদস্য অধ্যাপক ড. মো. আবু তাহের, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম-সচিব ড. মো. জাকির হোসেন আখন্দ ও ইউজিসির পরিচালক মোহাম্মদ জামিনুর রহমান।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার বেলা পৌনে ১১টার দিকে তদন্ত কমিটির সদস্যরা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে আসেন। এরপর তারা ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য অধ্যাপক আনন্দ কুমার সাহার কার্যালয়ে যান। পৌনে ১২টার দিকে তদন্ত কমিটির সদস্যরা উপাচার্যের কার্যালয়ে ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য ও রেজিস্ট্রারের সঙ্গে বৈঠকে বসেছেন।

জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক ও ইউজিসি সদস্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আলমগীর গণমাধ্যমকে জানান, ‘নিয়োগ প্রক্রিয়ার সাথে সংশ্লিষ্ট সকলের সাথে আমরা কথা বলেছি। আমরা সকল তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করেছি। এই তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে আগামী সাত কর্মদিবসের মধ্যে আমরা শিক্ষামন্ত্রণালয়ে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেব।’

এর আগে নিয়োগ বানিজ্যকে কেন্দ্রকরে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। গত কয়েকদিন ধরে চলা অস্থিরতার মধ্যে গত বৃহস্পতিবার বেলা ১২টার দিকে রাজশাহী মহানগর ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশ করলে রাবি ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ও কর্মচারীরা তাদের ধাওয়া করে। এতে ধাওয়া খেয়ে পালিয়ে যায় মহানগর ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।

এসময় মহানগর ছাত্রলীগ সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার আব্দুল্লাহ আল মামুন ও সেকশক অফিসার মাসুদের উপরও হামলা চালান। পরে রাবি ছাত্রলীগ এগিয়ে এলে তাদের উপরও হামলা চালান। এসময় রাবি ছাত্রলীগ সংগঠিত হয়ে ধাওয়া করলে মহানগর ছাত্রলীগেরর সাথে সংঘর্ষ শুরু হয়। পরে পুলিশ লাঠিচার্জ করলে মহানগর ছাত্রলীগ পালিয়ে যান।

প্রসঙ্গ, গত ৬ মে বিদায়ী উপাচার্য অধ্যাপক এম আব্দুস সোবহান তার শেষ কর্মদিবসে সরকারের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে ১৩৭ জন এডকহ ভিত্তিতে নিয়োগের বিষয়টি সামনে আসে। ওই দিন সন্ধ্যায় মন্ত্রণালয় এই নিয়োগকে অবৈধ ঘোষণা করে এর সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করতে তদন্ত কমিটি গঠন করে।

SHARE