ভ্যাগসা গরমে অতিষ্ঠ জনজীবন

25

স্টাফ রির্পোটার : এক দিকে পবিত্র মাহে রমজান, অন্যদিকে প্রচন্ড গরমে দিশেহারা মানুষ। সকাল গড়িয়ে দুপুর হলেই প্রখর রোদ আর গরমে অতিষ্ঠ জনজীবন। সেই সাথে পশুপাখিগুলোর হাঁসফাঁস অবস্থা। তাই প্রচন্ড গরম থেকে রক্ষা পেতে পানির ট্যাব বা পানি দিয়ে হাত মুখ ধুয়ে শরীর ভিজিয়ে ঠান্ডা করছে মানুষ। গরমের একই অবস্থা দেখা গেলে নগরীর প্রাণিকূলের।

রাজশাহী আবহাওয়া অফিসের তথ্যমতে, মঙ্গলবার (২৭ এপ্রিল) রাজশাহীতে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৩৮ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আর সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ২৬ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বাতাসের আর্দ্রতা সকালে ৯৫ শতাংশ ও সন্ধ্যায় ৬৫ শতাংশ। রোববার (২৫ এপ্রিল) সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিলো ৪০ দশমিক ৩ ডিগ্রি। আর সোমবার (২৬ এপ্রিল) আবহাওয়া অফিস সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৯ দশমিক ৩ ডিগ্রি।

রাজশাহী আবহাওয়া অফিসের সিনিয়র পর্যবেক্ষক শহিদুল ইসলাম জানান, রাজশাহীতে বাতাসের আর্দ্রতা বেশি থাকায় আগের দিনের চেয়ে তাপমাত্রা মঙ্গলবার কম থাকলেও মানুষের শরীরে গরম অনুভূত বেশি হয়। এজন্য জনজীবনে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেন। বর্তমানে রাজশাহীতে মাঝারি তাপদহ বয়ছে। তবে আগামী দুই-একদিনের মধ্যে বৃষ্টির সম্ভাবনা নেই।

মঙ্গলবার (২৭ এপ্রিল) বেলা ১২ টায় রাজশাহীর পদ্মা নদীর ধারে গিয়ে দেখা যায়, কাকগুলো একটু পদ্মার পানিতে ডুবিয়ে দিয়েছে শরীর। রাস্তার কুকুর গুলো অল্প পানিতে শরীর জুড়িয়ে নিচ্ছে। আর পদ্মার পাড়ের গাছের নিতে বসে অনেকে একটু জিরিয়ে নিচ্ছে। রাজশাহী নগরের পদ্মা গার্ডেন এলাকায় এমন দৃশ্য দেখা গেছে। এছাড়াও গরম থেকে রক্ষা পেয়ে পদ্মার পানিতে দীর্ঘ সময় গোসল করতে দেখা গেছে মানুষকে। আবহাওয়া দপ্তর বলছে, রাজশাহীতে যে তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে, তা অব্যাহত থাকবে। আপাতত বৃষ্টিরও সম্ভাবনা নেই।

নগরীর সাহেব বাজার লক্ষীপুর নিউ মার্কেট ঘুরে দেখা গেছে, রোজা থেকে মানুষ প্রয়োজনীয় কাজে বাইরে বের হয়েছে তবে অল্প সময়ের জন্য। এই সময়ে প্রখর রোদে আর গরমে ঠান্ডা পানি নিয়ে অনেকে হাত মুখ ধুয়ে নিচ্ছে। রিকশা ও অটো চালকরা রোদের জন্য মাথায় গামছা অথবা ক্যাপ পড়ে যানবহন চালাচ্ছে।

বেলা ১২টায় নগরীর সিমলা এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, ১০-১২ জন গাছের নিয়ে বসে শরীর জিরিয়ে নিচ্ছেন। সানোয়ার নামের এক রিকশা চালক বলেন, এখন ভাড়া একটু কম। একটু আগে এখানে ভাড়া নিয়ে এসেছিলাম। অনেক গরম তাই পাশের ট্যাপে মুখে পানি দিয়ে এখানে এসে বিশ্রাম নিচ্ছি। আরও দুইজন রিকশা চালক জানালেন, কি করবো মামা লকডাউন সাথে রোজা আর এই গরমে ঘন্টা ঘানিক রিকশা চালিয়ে আর পেয়ে উঠতে পারছি না। তাই আশেপাশে কোন ট্যাপে মুখ ধুয়ে একটু বিশ্রাম নেই।

নগরীর রানীনগর এলাকার গৃহিনী মনোয়ারা বেগম জানান, কোন কিছু রান্না করার সময় চুলার কাছে গেলে গরমে টিকা যায় না। সেই সাথে কয়েকদিন ধরে গরম পড়ায় রান্না ঘরের সাথে অন্য ঘরগুলো গরম হয়ে যায়। তাই বৃষ্টি হলে এই গরম থেকে একটু হলেও স্বস্তি পেতাম।

SHARE