নগরীতে জমেছে ইদের কেনাকাটা সরকারের সিদ্ধান্তকে ব্যবসায়ীদের সাধুবাদ

36

স্টাফ রির্পোটার : স্বাস্থ্যবিধি মেনে শপিংমল, বিপনীবিতান ও মার্কেট খুলে দেয়ার সরকারি ঘোষণার পর রাজশাহীতে মার্কেটমুখি মানুষের ঢল নেমেছে। সকাল থেকেই মার্কেটগুলো খুলে দেয় ব্যবসায়ীরা। পসরা সাজিয়ে বসে ফুটপাত ব্যবসায়ীরা। নগরী জুড়ে পাড়া মহল্লায় অবস্থিত কাপড়ের দোকানগুলোও খোলা হয়। লকডাউনের পর দোকান খোলার প্রথম দিনেই ইদ কেন্দ্রিক কেনাকাটায় জমে উঠতে শুরু করেছে। মার্কেট খুলে দেয়ার সরকারি সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানাচ্ছেন ক্রেতা-বিক্রেতারা।

নগরীর প্রবেশ পথগুলোতে কিছুটা কড়াকড়ি থাকলেও নগরীর মধ্যে যানবহন চলাচল স্বাভাবিক ছিলো। চার্জার অটো, অটোরিকশা, সিএনজিসহ প্রাইভেট গাড়িগুলো স্বাভাবিকভাবেই চলাচল করছে। নগরীর গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে পুলিশের উপস্থিতি থাকলেও মানুষকে সচেতন করা ছাড়া তেমন কোনো কার্যক্রম দেখা যায়নি।

বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মার্কেটগুলোতে নানা বয়সী মানুষের ভিড় বাড়তে দেখা গেছে। মার্কেটগুলোতে অধিকাংশ ক্রেতা-বিক্রেতারা মাস্ক ব্যবহার করলেও সামাজিক দূরত্বের বিষয়টি মানা হয়নি।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, মার্কেটগুলোতে ইদ কেন্দ্রিক সবচেয়ে বেশি বেচাকেনা হয়। কিন্তু গতবারের মতো এবারও দোকান খোলা নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছিলো। সরকার ব্যবসায়ীদের দিকে তাকিয়ে দোকানপাট খোলার অনুমতি দিয়েছে। এতে তারা খুশি। আর তারা স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিতে সর্বাত্মক সচেষ্ট আছেন। মাস্ক ছাড়া কোনো ক্রেতাকে দোকানে প্রবেশ করতে দেয়া হচ্ছেনা। তবে এটা ঠিক সামাজিক দূরত্ব কিছু ক্ষেত্রে নিশ্চিত হচ্ছে না।

আরডিএ মার্কেটের স্টুডেন্ট চয়েস এর কর্মচারী মো. মন্টু রানা জানান, দোকানবন্ধ থাকায় এবারের বেতন, ভাতা নিয়ে তিনি শঙ্কায় ছিলেন। কেননা মালিকের ব্যবসা না হলে তো তারা ঠিকভাবে বেতন পাবেন না। গত মাসের বেতনও তিনি এখনো পুরোপুরি পাননি। সরকার দোকান খোলার অনুমতি দেয়ায় তারাও খুশি।

ক্রেতা আফরিন জানান, তার প্রয়োজনীয় কিছু জিনিসপত্র কিনতে হতো কিন্তু লকডাউনের কারণে তিনি বাজারে আসতে পারেন নি। আজকে দোকানপাট খুলে দেয়ায় তিনি বাজার করতে এসেছেন। তার ছেলের ইদের কেনাকাটাও আগেই করে রাখছেন। এরইমধ্যে দামও বেড়েছে। সামনে হয় তো আরো বাড়বে। আর লকডাউনের কথাও তো বলা যায় না।

রাজশাহী পুলিশ কমিশনার মো. আবু কালাম সিদ্দিক জানান, সরকারি নির্দেশনা মেনে আজ (রোববার) সকাল থেকে ব্যবসায়ীরা শপিংমল, দোকানপাট খুলেছেন। ক্রেতা সমাগমও বাড়ছে। ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়কেই মাইকিং করে স্বাস্থ্যবিধি সম্পর্কে সচেতন করা হচ্ছে। আর নগরীর প্রবেশপথে বাইরের গাড়ি চলাচলে এখনো কড়াকড়ি আছে।

এ বিষয়ে নির্দেশনা না আসা পর্যন্ত সেটা অব্যাহত থাকবে।

SHARE