নগরীতে ‘সর্বাত্মক লকডাউন’ কঠোর প্রশাসন

19

স্টাফ রিপোর্টার : করোনাভাইরাস নিয়ন্ত্রণে ঘোষিত ‘সর্বাত্মক লকডাউন’ নিয়ে অষ্টম দিনে বুধবার (২১ এপ্রিল) অনেকটাই কঠোর হতে দেখা গেছে রাজশাহীর পুলিশ ও প্রশাসনকে। এ দিন নগরীতে বেশকিছু রিকশার চাকার পাম ছেড়ে দিতে দেখা গেছে পুলিশকে। আগের দিনও নগরীর সাহেববাজার এলাকায় পুলিশকে রিকশার পাম ছাড়তে দেখা যায়।

ফলে রিকশা-অটোরিকশার চালকেরা কিছুটা কৌশলে নগরীর প্রধান সড়কগুলো বাদ দিয়ে গলিপথ দিয়ে রিকশা চালাচ্ছেন। তাঁরা বলছেন, লকডাউনে তাঁরা বড় বেকায়দায় পড়েছেন। পেটের সঙ্গে কিস্তি চালাতে তাঁদের এই লকডাউনের ভেতরও বের হতে হচ্ছে। পুলিশের হাতে ধরা পড়লে শাস্তিও পাচ্ছেন।

বুধবার (২১ এপ্রিল) রাস্তায় স্বল্প পরিসরে রিকশা, অটোরিকশা, প্রাইভেট কারসহ ছোট যান চলাচল করতে দেখা গেছে।

নগরীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, অন্যান্য দিনের মতোই শহরের প্রবেশপথে ও নগরীর গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে অবস্থিত পুলিশের চেকপোস্টগুলোতে কড়াকড়ি ছিল। যেখানে জিজ্ঞাসাবাদের মুখে পড়তে হচ্ছে গাড়ি চালকদের। বাইরে বের হওয়ার উপযুক্ত কারণ দর্শাতে না পারলে জরিমানা ও আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। তবুও অনেক জায়গায় জরুরি প্রয়োজন ছাড়ায় নানা অজুহাতে বাইরে বের হচ্ছেন মানুষ।

নগরীর জিরোপয়েন্ট, শহিদ কামারুজ্জামান চত্বর (রেলগেট), ভদ্রার মোড়, কোট স্টেশনসহ প্রধান প্রধান সড়কগুলোতে মানুষের চলাচল কম থাকলেও অলিগলিতে মানুষের সমাগম ছিল।

অটোরিকশা চালক জানান, তারা পুলিশের এড়িয়ে গাড়ি চালাচ্ছেন। সামনে পড়লেই কখনো গাড়ির বাতাস ছেড়ে দিচ্ছে। গাড়িকে পিটাচ্ছে। তাই চেকপোস্ট থেকে একটি নির্দিষ্ট দূরত্বে যাত্রীদের নামিয়ে দিচ্ছেন। চেকপোস্ট এলাকা হেঁটেই পার হচ্ছেন যাত্রীরা।

এদিকে, নগরীর কাঁচাবাজারগুলোতে ভিড় কমছে না। যেখানে উপেক্ষিতই থাকছে সামাজিক দূরত্ব। রমজান উপলক্ষে বেশ ভিড় লক্ষ্য করা গেছে ফলের দোকানগুলোতেও। ফার্মেসিগুলোতে উপক্ষিতই থাকছে স্বাস্থ্যবিধি। গরম বাড়তে থাকায় মাস্ক পরতেও অনীহা তৈরি হয়েছে। নিশ্চিত হচ্ছে না সামাজিক দূরত্বও। অথচ এসব জায়গায় তেমন তদারকি দেখা যাচ্ছে না।

নগরীর আরডিএ মার্কেট ও নিউ মার্কেট বন্ধ থাকলেও বাইরের দোকানগুলোতে অনেককেই সার্টার টেনে বাইরে কাস্টমার জোগাড় করতে দেখা গেছে। দু-একজন ফুটপাতের দোকানিও পসরা সাজিয়েও বসছেন। তবে পুলিশের উপস্থিতি টের পেলে সেগুলো বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।

অন্যদিকে, কোর্ট বাজারের মেইন গেট বন্ধ থাকলেও অর্ধেক শার্টার টেনে অনেক দোকান খোলা রাখতে দেখা গেছে।

রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ জানায়, লকডাউন বাস্তবায়নে রাজশাহীতে কড়াকড়ি করা হয়েছে। নগরীতে স্থায়ী চেকপোস্টের পাশাপাশি প্রায় প্রতিটি মোড়ে মোড়ে অস্থায়ী চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। সকল থানা লকডাউন বাস্তবায়নে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে।

রাজশাহী জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বলেন, নির্দেশনা অনুযায়ী কঠোরভাবেই লকডাউন বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। জেলা প্রশাসনের ৪ টি ভ্রাম্যমাণ টিম সমন্বয় করে মাঠে কাজ করছে। কোথাও জনসমাগম বা স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষিত হচ্ছে না। কেননা যেখানে জনসমাগম হচ্ছে বা এমন কোনো খবর পাওয়া যাচ্ছে সেখানেই ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। আর লকডাউনে কোনো শিথিলতা নেই।

SHARE