রাজশাহীতে কোথাও কঠোর, কোথাও ঢিলেঢালা লকডাউন

23

স্টাফ রির্পোটার : রাজশাহীতে সরকার ঘোষিত কঠোর লকডাউনের ৬ষ্ঠ দিন কোথাও কঠোর আবার কোথাও ঢিলেঢালাভাবে পালিত হয়েছে। এদিন রাস্তায় স্বল্প পরিসরে রিকশা, অটোরিকশা, প্রাইভেট কারসহ ছোট যান চলাচল করতে দেখা গেছে।
নগরীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, অন্যান্য দিনের মতোই শহরের প্রবেশপথে চেকপোস্ট ও নগরীর গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে অবস্থিত পুলিশের চেকপোস্টগুলোতে কড়াকড়ি ছিল। যেখানে জিজ্ঞাসাবাদের মুখে পড়তে হচ্ছে গাড়ি চালকদের।বাইরে বের হওয়ার উপযুক্ত কারণ দর্শাতে না পারলে জরিমানা ও আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। তবুও অনেক জায়গায় জরুরি প্রয়োজন ছাড়ায় নানা অজুহাতে বাইরে বের হচ্ছেন মানুষ।
নগরীর জিরোপয়েন্ট, শহিদ কামারুজ্জামান চত্বর (রেলগেট), ভদ্রার মোড়, কোট স্টেশনসহ প্রধান প্রধান সড়কগুলোতে মানুষের চলাচল কম থাকলেও অলিগলিতে মানুষের সমাগম ছিল।
অটোরিকশা চালক জিয়ারুল ইসলাম জানান, তারা পুলিশের এড়িয়ে গাড়ি চালাচ্ছেন। সামনে পড়লেই কখনো গাড়ির বাতাস ছেড়ে দিচ্ছে। গাড়িকে পিটাচ্ছে। তাই চেকপোস্ট থেকে একটি নির্দিষ্ট দূরত্বে যাত্রীদের নামিয়ে দিচ্ছেন। চেকপোস্ট এলাকা হেঁটেই পার হচ্ছেন যাত্রীরা।
এদিকে, নগরীর কাঁচাবাজারগুলোতে ভিড় কমছে না। টিসিবির পণ্য বিক্রয় পয়েন্টগুলোতেও থাকছে ভিড়। যেখানে উপেক্ষিতই থাকছে সামাজিক দূরত্ব। রমজান উপলক্ষে বেশ ভিড় লক্ষ্য করা গেছে ফলের দোকানগুলোতেও।
বিকেলে দিকে মানুষের অযাচিত সমাগম দেখা গেছে বিভিন্ন এলাকায়। ইফতারি কেনাবেচাও জমে উঠছে। সেই সঙ্গে রাস্তায় দাঁড়িয়ে আড্ডাও জমাচ্ছেন অনেকেই। তবে পুলিশের টহল দলকে সবসময় মাইকিং করে এসব ভিড় ভাঙ্গতে দেখা গেছে।

অনন্যদিকে,রাজশাহী নগরী ও জেলাতে লকডাউনের বিধিনিষেধ অমান্য করা ও স্বাস্থ্যবিধি না মানায় সোমবার ৪২ জনকে ৩৬ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমান আদালত। সংক্রামক রোগ প্রতিরোধ, নিয়ন্ত্রণ, নির্মুল আইন-২০১৮ এর (দন্ডবিধি ১৮৬০) ধারা লঙ্ঘন করায় এ জেল-জরিমানা করা হয় বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ কাউছার হামিদ। তিনি আরও জানান, গত রোবাবার (১৮ এপ্রিল) এই আইন লঙ্ঘন করার অপরাধে মোট ৭৬ জনকে
দুই লক্ষ ২৩ হাজার ৯৫০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। তিনি জানান, নগরীতে মোট ৫ টি টিম ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করছে। এছাড়াও জেলার সকল উপজেলায় দুইটি করে টিম কাজ করছে। এ সময় সচেতনা সৃষ্টির লক্ষ্যে মাস্ক বিতরণ করা হয়েছে। জনস্বার্থে ভ্রাম্যমান আদালতের এই অভিযান পুরো জেলাজুড়ে অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।

SHARE