নগরীতে ড্রামের ভিতরে উদ্ধার লাশের পরিচয় মেলেছে

51

অনলাইন ডেস্ক : রাজশাহী নগরীর সিটি বাইপাস গরুহাট সংলগ্ন ডোবায় একটি ড্রামের ভিতর থেকে অজ্ঞাত লাশটির পরিচয় পাওয়া গেছে। তার নাম ননিকারানী রায় (২৪)। তার বাড়ি ঠাকুরগাঁ সদর থানার মিলনপুর গ্রামে। নিপেনচন্দ্র বর্মণের মেয়ে। ননিকার মা শান্তি রাণী এবং ভাই দীপকচন্দ্র বর্মণ (২০)। ননিকা রাজশাহী সরকারি নার্সিং ইনস্টিটিউট থেকে ডিপ্লোমা পাস করেন। এরপর সে সরকারি চাকরির জন্য নগরীর পাঠানাপাড়ার একটি মেসে থেকে প্রস্তুতি নিচ্ছিল।

এসব তথ্য নিশ্চিত করে নগরীর শাহ্ মখদুম থানার অফিসার ইনচার্জ সাইফুল ইসলাম জানান, ননিকা চাকরির জন্য এমসিকিউ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে ভায়ভা পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেলেন। সরস্বতী পূজার পরে সে রাজশাহীতে আসে।

সাইফুল ইসলাম আরও জানান, বুধবার (১৪ এপ্রিল) সন্ধ্যায় মেয়ের ভাই দীপকচন্দ্র বর্মণের সাথে শেষবারের মতো ফোনে কথা হয়। পরদিন বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে ননিকার ফোন বন্ধ থাকায় পরিবারের কেউ যোগাযোগ করতে পারেনি। আমরা ধারণা করছি, বুধবার দিবাগত রাতের যে কোনো সময় দুষ্কৃতিকারীরা তাকে হত্যা করে এবং লাশ ড্রামে ঢুকিয়ে নগরীর সিটিহাট এলাকায় ফেলে যায়। এরপর স্থানীয় একজন কৃষক জমিতে পানি সেচ দিতে গিয়ে ডোবায় একটি ড্রাম ভাসতে দেখেন। তিনি ওই ড্রামটি ভাঙার চেষ্টা করেন। এসময় তিনি ড্রামের ভেতর মানুষের পা দেখতে পান। এরপর তিনি পুলিশকে খবর দেন। পরে শাহমখদুম থানা পুলিশ, পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) এবং পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) সদস্যরা ঘটনাস্থলে যান। লাশটি উদ্ধারের পর সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত শেষে ময়না তদন্তের জন্য রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

ওসি সাইফুল ইসলাম বলেন, লাশটি রোববার (১৮ এপ্রিল) সন্ধ্যায় রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের মর্গ থেকে বের করে তার ভাই দীপকচন্দ্র বর্মণের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

পুলিশের একটি সূত্র জানায়, আসামীদের চিহ্নিত করা গেছে। তাদের গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত আছে।

উল্লেখ্য, ওই ঘটনায় থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

SHARE