রাজশাহীতে ‘সর্বাত্মক লকডাউন’ কঠোর প্রশাসন

26

স্টাফ রিপোর্টার : করোনাভাইরাস নিয়ন্ত্রণে ঘোষিত ‘সর্বাত্মক লকডাউন’ নিয়ে রোববার অনেকটাই কঠোর হতে দেখা গেছে রাজশাহীর পুলিশ ও প্রশাসনকে। এ দিন নগরীতে বেশকিছু রিকশার চাকার পাম ছেড়ে দিতে দেখা গেছে পুলিশকে। আগের দিন শনিবারও নগরীর সাহেববাজার এলাকায় পুলিশকে রিকশার পাম ছাড়তে দেখা যায়।

ফলে রিকশা-অটোরিকশার চালকেরা কিছুটা কৌশলে নগরীর প্রধান সড়কগুলো বাদ দিয়ে গলিপথ দিয়ে রিকশা চালাচ্ছেন। তাঁরা বলছেন, লকডাউনে তাঁরা বড় বেকায়দায় পড়েছেন। পেটের সঙ্গে কিস্তি চালাতে তাঁদের এই লকডাউনের ভেতরও বের হতে হচ্ছে। পুলিশের হাতে ধরা পড়লে শাস্তিও পাচ্ছেন।

রোববার নগরীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, যানবাহন চলাচল আগের চেয়ে কিছুটা বেড়েছে। মানুষের চলাচলও বেড়েছে। তবে গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে মোড়ে পুলিশ আছে। রিকশা-অটোরিকশায় অধিক যাত্রী দেখলেই থামানো হচ্ছে। যাত্রীরা বলছেন, জরুরি প্রয়োজনে তাঁরা বাজারে যাচ্ছেন। কেউ কেউ বলছেন, তাঁরা যাচ্ছেন হাসপাতালে। তবে বেশি সংখ্যক যাত্রী থাকলে রিকশা-অটোরিকশা থেকে পুলিশ সবাইকে নামিয়ে দিচ্ছে। এতে তাঁরা বিড়ম্বনায় পড়ছেন। এদিকে রিকশায় একাধিক যাত্রী থাকার কারণে পুলিশকে চাকার পামও ছেড়ে দিতে দেখা গেছে।

কয়েকজন রিকশা-অটোরিকশার চালকের সাথে কথা বলে জানা গেছে, কিস্তি থাকার কারণে তাঁরা বেকায়দায় পড়েছেন। বাধ্য হয়েই লকডাউনে বের হচ্ছেন।

চাকার পাম ছেড়ে দেয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে রাজশাহী নগর পুলিশের (আরএমপি) মুখপাত্র গোলাম রুহুল কুদ্দুস বলেন, লকডাউনে মানুষের চলাফেরা নিয়ন্ত্রণের জন্য সরকারি নির্দেশনা রয়েছে। নির্দেশনা বাস্তবায়নে কখনও কখনও শাস্তিও দিতে হচ্ছে। তারপরও অনেকে বের হচ্ছেন।

এদিকে লকডাউনের মধ্যে সাধারণ মানুষও নানা প্রয়োজনে শহরে বের হচ্ছেন। কেউ কেউ যাচ্ছেন কাঁচাবাজার, কেউ যাচ্ছেন জরুরি সেবার অফিসে। পথে পথে তাঁরা বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছেন। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতাল যাওয়া-আসার পথে নার্সেরাও বিড়ম্বনায় পড়ছেন। নগরীর রাস্তায় মানুষের চলাচল নিয়ন্ত্রণে জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালতও অভিযান চালাচ্ছে।

বিধি-নিষেধ অমান্য করা ও স্বাস্থ্যবিধি না মানায় রোববার (১৮ এপ্রিল) দিনের প্রথমার্ধেই ৩৫ জনকে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ সময় একজনকে সাতদিনের কারাদণ্ডও দেয়া হয়েছে। সংক্রামক রোগ প্রতিরোধ, নিয়ন্ত্রণ, নির্মুল আইন-২০১৮ এর ধারা লঙ্ঘন করায় এ জেল-জরিমানা করা হয় বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অভিজিৎ সরকার। তিনি জানান, শনিবারও নগরীতে ৩৯ জনকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এ দিন ৫২০টি মাস্কও বিতরণ করা হয়েছে বিনামূল্যে।

SHARE