চালু হচ্ছে রামেক হাসপাতালের পিসিআর ল্যাব

21

অনলাইন ডেস্ক : রাজশাহী বিভাগজুড়ে প্রাণঘাতি করোনা সংক্রমণ পরীক্ষায় ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। তিন মাস ধরে বন্ধ থাকা রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের পিসিআর ল্যাব চালু হচ্ছে। নমুনা পরীক্ষায় আসছে আরও এক লাখ ৭৫ হাজার ৬০৪টি আরটি পিসিআর কিট।

বিভাগীয় স্বাস্থ্য দফরের পরিচালক ডা. হাবিবুল আহসান তালুকদার এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, করোনা সংক্রমণ শনাক্তে এখন থেকে ব্যাপক হারে নমুনা পরীক্ষা করা হবে।

এ জন্য বন্ধ থাকা রামেক হাসপাতালের পিসিআর ল্যাবটি চালু হচ্ছে। বৃহস্পতিবার ল্যাবটি চালু হওয়ার কথা। এতে প্রতি শিফটে ৯৪টি নমুনা পরীক্ষা করা যাবে।

তাছাড়া বর্তমানে রামেক হাসপাতাল, বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) এবং সিরাজগঞ্জের শহীদ এম মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ পিসিআর ল্যাবে নমুনা পরীক্ষা চলছে। প্রত্যেক ল্যাবে এক শিফটে ৯৪টি করে নমুনা পরীক্ষার সুযোগ রয়েছে। নমুনা বেড়ে যাওয়ায় কয়েকটি শিফটে নমুনা পরীক্ষা চলছে।

তিনি আরও বলেন, করোনার নমুনা পরীক্ষায় পর্যাপ্ত কিট মজুদ রয়েছে। তবুও বাড়তি সর্তকতা হিসেবে আরও ১ লাখ ৭৫ হাজার ৬০৪টি আরটি পিসিআর কিটের চাহিদা পাঠিয়েছেন তারা।

এর মধ্যে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ ল্যাবের জন্য চাহিদা ধরা হয়েছে ৭২ হাজার। এ ছাড়া রামেক হাসপাতাল ল্যাবে ৩০ হাজার, শজিমেক কলেজ ল্যাবে ৩৩ হাজার ৬০০ এবং সিরাজগঞ্জের শহীদ এম মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ ল্যাবের জন্য ৪০ হাজার চাহিদা পাঠানো হয়েছে। গত ৩ এপ্রিল এই চাহিদা অধিদফতরে গেছে। তবে এই কিট বরাদ্দ পেতে কিছুটা সময় লাগতে পারে।

রামেক হাসপাতাল পিসিআর ল্যাব চালুর বিষয়ে জানতে চাইলে হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. সাইফুল ফেরদৌস বলেন, প্রয়োজনীয় জনবল যাওয়া গেছে। তবে ল্যাবের কিছু টেকনিক্যাল সমস্যা আছে। সেটি সমাধানে কাজ চলছে। আজকের (বৃহস্পতিবার) মধ্যেই ল্যাব চালু করা যাবে।

দেশে করোনা মহামারি ছড়িয়ে পড়ার পর গত বছরের ১৯ মে রামেক হাসপাতাল পিসিআর ল্যাব চালু হয়। প্রতি শিফটে ৯৪টি করে নমুনা পরীক্ষা হচ্ছিল এখানে। নমুনা বেড়ে যাওয়ায় চার শিফটে চলে পরীক্ষা।

তবে পরীক্ষা কার্যক্রম চালানোর মতো নিজস্ব জনবল নেই এই ল্যাবের। নমুনা কমে আসায় নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানে ফিরে যান কর্মীরা। এর ফলে ৮ ফেব্রুয়ারি বন্ধ হয় ল্যাবটি।

এদিকে মহামারি ছড়িয়ে পড়া রোধে সবাইকে লকডাউন মেনে ঘরে থাকার আহ্বান জানিয়েছেন বিভাগীয় স্বাস্থ্য দফতরের পরিচালক ডা. হাবিবুল আহসান তালুকদার। তিনি বলেন, সংক্রমণ ঠেকাতে অবশ্যই ঘরে থাকতে হবে। মানতে হবে স্বাস্থ্যবিধি।

তাছাড়া করোনার উপসর্গ সম্পর্কে সবার ধারণা আছে। কেউ আক্রান্ত হয়েছেন মনে করলে সবার আগে নমুনা পরীক্ষা করাতে হবে। করোনা শনাক্তের পর হাসপাতালে না গিয়ে নিজ বাড়িতে আইসোলেটেড থেকে চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে সুস্থ হওয়া যায়। তবে অবস্থা জটিল হওয়ার আগেই হাসপাতালে নিতে হবে আক্রান্তকে।

বিভাগের সকল জেলা হাসপাতালে করোনা চিকিৎসার ব্যবস্থা রয়েছে। বিভাগজুড়ে ১০টি করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতাল খোলা রয়েছে। সচেতনভাবে সকলকে পরিস্থিতি মোকাবিলার আহ্বান জানান এই স্বাস্থ্য কর্মকর্তা।

SHARE