রাজশাহীর সংসদীয় আসনে যেসব নারীরা মনোনয়নপ্রত্যাশী

290

স্টাফ রিপোর্টার : একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আর বেশিদিন নেই। ইতোমধ্যে প্রার্থীরা তাদের মনোনয়ন পেতে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন। চালাচ্ছেন নিজ নিজ এলাকায় নির্বাচনি প্রচারণাও। করছেন উঠান বৈঠক। নারী প্রার্থীরাও পিছিয়ে নেই প্রচারণায়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দলের ৩৩ শতাংশ নারীকে সরাসরি মনোনয়ন দেয়ার ঘোষণা দেয়ায় নারীদের মধ্যে এনিয়ে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে।
ইতোমধ্যে রাজশাহীর ছয়টি সংসদীয় এলাকার মধ্যে তিনটি সংসদীয় এলাকা থেকে মনোনয়ন পেতে আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেত্রীরা প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রাজশাহী ছয়টি সংসদীয় এলাকার মধ্যে তিনটি সংসদীয় এলাকা থেকে সরাসরি মনোনয়ন পেতে আওয়ামী লীগের নারী নেত্রীরা দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন। চালাচ্ছেন প্রচার-প্রচারণাও। এর মধ্যে রয়েছে পবা-মোহনপুর, বাগমারা ও পুঠিয়া-দুর্গাপুর আসন। পবা-মোহনপুর থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে রয়েছেন রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও সংরক্ষিত আসনের নারী সাংসদ বেগম আখতার জাহান। এছাড়া রাজশাহী জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মর্জিনা পারভীনও পবা- মোহনপুর থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী।
মর্জিনা পারভীন জানান, এর আগে দুই দফা আমি পবা-মোহনপুর থেকে মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলাম। যখন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মেরাজ উদ্দিন মোল্লা সাংসদ ছিলেন, সেইবারও আমি তৃণমূলের ভোটে মনোনয়নপ্রত্যাশীদের ভোটে মেরাজ মোল্লার চেয়ে এগিয়ে ছিলাম। এবারও আমি মনোনয়ন প্রত্যাশায় কাজ করছি।
বাগমারা সংসদীয় আসন থেকে মনোনয়ন পেতে চান সাবেক মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী এবং জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি অধ্যাপক জিনাতুননেসা তালুকদার। তিনি ইতোমধ্যে মনোনয়ন প্রত্যাশায় এলাকায় গণসংযোগ ও প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছেন।
পুঠিয়া-দুর্গাপুরের সংসদীয় আসন থেকে মনোনয়ন পেতে কাজ করছেন রাজশাহী বিশ^বিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রনেতা ও কেন্দ্রীয় নেত্রী অধ্যাপক নার্গিস সুরাইয়া সুলতানা শেলী। তিনি রাজশাহী জেলা যুব মহিলা লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতিও। তিনি দুই দফা জেলা যুব মহিলা লীগের সভাপতি ছিলেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে যুক্ত। তার স্বামী আইনজীবী শরিফুল ইসলাম শরিফও রাজশাহী বিশ^বিদ্যালয়ে পড়াকালীন ছাত্রলীগের বিশ^বিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।
নার্গিস সুরাইয়া মনে করেন, তিনি পুঠিয়া-দুর্গাপুর আসন থেকে মনোনয়ন পাবার যোগ্য। কারণ তাদের দীর্ঘদিনের আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ততার ইতিহাস রয়েছে। তার পুরো পরিবারই আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে যুক্ত।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দলের ৩৩ শতাংশ নারীদের মনোনয়ন দেয়ার ঘোষণাকে আমি মনে করি নারীর ক্ষমতায়নের বাস্তবায়ন। সেই ঘোষণার পর আমরা যারা ছাত্ররাজনীতির সাথে যুক্ত ছিলাম এবং এখন আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে যুক্ত আছি, তারা জনগণের সেবা করার একটি সুযোগ পেয়েছি। সেই সুযোগকে কাজে লাগাতেই নির্বাচনে মনোনয়ন চেয়েছি। ইতোমধ্যে এলাকায় প্রচার-প্রচারণাও শুরু করেছি। বিভিন্ন এলাকায় ছোট ছোট আকারে উঠান বৈঠক করছি। সেখানে সরকারের উন্নয়ন তুলে ধরছি। তবে প্রচার-প্রচারণা চালালেও দলের হাইকমান্ড থেকে যাকে মনোনয়ন দেয়া হবে তার পক্ষেই কাজ করবেন বলে জানান তিনি।
এছাড়া বিএনপি থেকে পবা-মোহনপুর আসনে মনোনয়ন পেতে চান সাবেক সাংসদ জাহান পান্না। তিনি বলেন, আমি বিএনপি থেকে পবা- মোহনপুর সংসদীয় আসন থেকে সরাসরি মনোনয়ন পেতে চাই। আর এজন্য আমি নিজেকে যোগ্যও মনে করি। আমার সংসদ সদস্য হিসেবে অভিজ্ঞতা রয়েছে, ছাত্রাবস্থায় বিএনপির রাজনীতির সাথে যুক্ত ছিলাম। শুধু তাই না, ওই এলাকার জনগণও আমাকে সাংসদ হিসেবে চায়।
এছাড়া বিএনপি থেকে সংরক্ষিত আসনে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য শহিদুন নাহার কাজী হেনা, রাজশাহী সিটি করপোরেশনের দুইবার নির্বাচিত কাউন্সিলর শামসুন নাহার, অ্যাডভোকেট রওশন আরা পপি, অ্যাডভোকেট সামসাদ বেগম মিতালী, অধ্যক্ষ সখিনা খাতুন টুকু ও পারভীন সুলাতানা দুলালী।

SHARE