আনসারের শ্রেষ্ঠত্বে শেষ বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ গেমস

24

স্পোর্টস ডেস্ক : হকি, বাস্কেটবল, রোইং, ক্রিকেট, ফুটবল ছাড়া বাকি সব ডিসিপ্লিনেই অংশ নিয়েছে আনসার। রোলার স্কেটিং, তায়কোয়ান্ডো, উশু এই কয়েকটি ডিসিপ্লিনে মোট ইভেন্টের ৭০-৮০ শতাংশ স্বর্ণপদক জিতেছে সংস্থাটি। মূলত এই জায়গাতে সেনাবাহিনীকে পেছনে বঙ্গবন্ধু নবম বাংলাদেশ গেমসে সেরা হয়েছে আনসার। সর্বশেষ পদক তালিকা অনুযায়ী ১৩২টি স্বর্ণ, ৮০টি রুপা ও ৫৭টি ব্রোঞ্জসহ ২৬৯টি পদক নিয়ে বাংলাদেশ গেমসে টানা পঞ্চমবারের মতো শীর্ষে রয়েছে সংস্থাটি। ১১৫টি স্বর্ণ, ৯৯টি রুপা ও ৮৩টি ব্রোঞ্জসহ ২৯৭টি পদক নিয়ে রানার্সআপ বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। ৬৩টি স্বর্ণ, ৩৯টি রুপা ও ২৫টি ব্রোঞ্জসহ ১২৭টি পদক নিয়ে তৃতীয় স্থানে রয়েছে বাংলাদেশ নৌবাহিনী। ২০১৩ সালের বাংলাদেশ গেমসে ১১১টি স্বর্ণ, ৭৫টি রুপা ও ৬৪টি ব্রোঞ্জসহ ২৫০টি পদক জিতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল আনসার। ৬৯টি স্বর্ণ, ৪১টি রুপা ও ৩৮টি ব্রোঞ্জসহ ১৪৮টি পদক নিয়ে সেনাবাহিনী ছিল রানার্সআপ।
বিজেএমসি ৩৬টি স্বর্ণ, ৪৯টি রুপা ও ২৮টি ব্রোঞ্জসহ ১১৩টি পদক নিয়ে তৃতীয় স্থানে ছিল বাংলাদেশ পাটকল করপোরেশন (বিজেএমসি)। অবশ্য বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ গেমসে খেলেনি এই সংস্থাটি। আটটি সোনা জিতে আসরের সেরা খেলোয়াড় হয়েছেন বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সাঁতারু সোনিয়া আক্তার টুম্পা। এবার রেকর্ড হয়েছে সর্বাধিক ৬০টি।
তীব্র করোনা সংক্রমণের মধ্যেই গত ১লা এপ্রিল শুরু হয় বঙ্গবন্ধু নবম বাংলাদেশ গেমস। অংশগ্রহণকারী সকল খেলোয়াড়ের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিতে গেমসের ভার্চ্যুয়ালি গেমসের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেখানে তিনি বার বার সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করে গেমস আয়োজনের তাগিদ দেন আয়োজকদের। মাঝে সরকার ঘোষিত লকডাউনে গেমস বন্ধের উপক্রম হয়। অনেক ডিসিপ্লিন তড়িঘড়ি করে শেষ করেছে বিভিন্ন ফেডারেশন। গেমসের সমাপনী অনুষ্ঠানও কাটছাঁট করে আয়োজক বাংলাদেশ অলিম্পিক এসোসিয়েশন (বিওএ)। মাত্র আধাঘণ্টার সমাপনীতে ভার্চ্যুয়ালি প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মোস্তফা কামাল। এবারের আয়োজনকে সফল ও সার্থক জানিয়ে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল বলেন, ‘আমরা শেষ পর্যন্ত কোনো প্রকার দুর্ঘটনা ছাড়াই শেষ করেছি। আল্লাহর রহমতে সব জায়গার খোঁজ রেখেছি কোথাও কোনো অসুবিধা তৈরি হয়নি। এটিই আমাদের বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ গেমসের সফলতা। এই ধরনের একটা পরিস্থিতির মধ্যে এত বড় একটা গেমস আয়োজন করা সম্ভব হয়েছে। এটিই আমাদের বড় সার্থকতা’। গেমসের স্টিয়ারিং কমিটির চেয়ারম্যান ও বিওএ সহ-সভাপতি শেখ বশির আহমেদ মামুন বলেন, এই করোনা মহামারির মধ্যে গেমস আয়োজন আমাদের জন্য মোটেও সহজ ছিল না। এই কঠিন কাজটি আমরা করেছি কোনো প্রকার দুর্ঘটনা ছাড়া। এখন আমাদের লক্ষ্য এই গেমস থেকে পাওয়া অ্যাথলেটদের ঠিকমতো পরিচর্যা করে আগামীর জন্য তৈরি করা।
২০১৩ সালে সর্বশেষ বাংলাদেশ গেমসেও ৬টি সোনা জিতেছিলেন সোনিয়া আক্তার টুম্পা। সেবার মাহফুজুর রহমান ৭টি সোনা জিতে সেরা খেলোয়াড় হয়েছিলেন। এবারের আসরে আটটি সোনা জিতে সেরা হয়ে টুম্পা বলেন, অনেকদিন পর এতগুলো ইভেন্ট করলাম। মাঝে আমার অনুশীলনের ঘাটতি ছিল। জুনাইনও ভালো করছিল। ভাবিনি এত ভালো হবে। আসলে নিজের সর্বোচ্চ চেষ্টাই করেছি। পুলে তার প্রতিফলন ঘটায় আমি অনেক খুশি। এবারের গেমসে ব্যক্তিগত ইভেন্টে ৫টি সোনা জিতেন টুম্পা। রিলেতে জিতেন ৩টি সোনা ও ৩টি রুপা। ব্যক্তিগত সোনাগুলো এসেছে ৪০০, ৮০০ মিটার ফ্রিস্টাইল, ৪০০ মিটার ব্যক্তিগত মিডল, ২০০ মিটার বাটারফ্লাই ও ৫০ মিটার ফ্রিস্টাইলে। তিনটি জাতীয় রেকর্ড গড়ে এসএ গেমসে স্বর্ণজয়ী আনসারের মাবিয়া আক্তার সীমান্ত জানান, তার চোখ এখন অলিম্পিকে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে টপকে শীর্ষে উঠার রহস্য জানিয়ে আনসারের কর্মকর্তা রায়হান উদ্দিন ফরিদ বলেন, আনসারের খেলোয়াড়দের পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা দেয়া হয়। তারা সারা বছর ট্রেনিংয়ের মধ্যে থাকেন। এ কারণে আমাদের এই সাফল্য।

SHARE