শুধু নির্ধারিত ব্যক্তিদের করোনা পরীক্ষা!

13

স্টাফ রিপোর্টার : রাজশাহীতে করোনা রোগীর সংখ্যা বাড়ছেই। বেড়ে গেছে করোনা পরীক্ষার চাপও। কিন্তু এখন শুধুমাত্র রাজশাহী মেডিকেল কলেজের (রামেক) একটি ল্যাবে করোনা পরীক্ষা করানো হচ্ছে। সেখানে প্রচুর চাপ। বাড়তি চাপের কারণে এখন আর দিনের রিপোর্ট দিনে পাওয়া যায় না। অপেক্ষা করতে হয় অন্তত পরের দিনের জন্য।

এ অবস্থায় আলোচনায় এসেছে রাজশাহী বক্ষব্যাধি হাসপাতালের ‘জিন-এক্সপার্ট’ মেশিনটি। এখানে তারা কিছু নির্ধারিত ব্যাক্তির করোনা পরীক্ষা করেন। অথচ এটি সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত করা হলে প্রতিদিন প্রায় ১০০ জনের করোনা পরীক্ষা করা সম্ভব। অটোমেটিক এই মেশিনে এক ঘন্টার মধ্যেই করোনার রিপোর্ট পাওয়া যায়।

রাজশাহী বক্ষব্যাধি হাসপাতাল সুত্রে জানা গেছে, দ্রুত যক্ষ্মা শনাক্ত করার যন্ত্র ‘জিন-এক্সপার্ট’ দিয়ে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ পরীক্ষা করা সম্ভব। পিসিআর ল্যাবের বিকল্প এই পদ্ধতি রিয়েল টাইম পিসিআর হিসেবে দেশ-বিদেশে বেশ কার্যকর প্রমাণিত হয়েছে। যেখানে পিসিআর ল্যাবে পরীক্ষা করতে আট ঘণ্টা সময় লাগে, সেখানে জিন-এক্সপার্ট মেশিনে নমুনা প্রক্রিয়াকরণ করতে পাঁচ মিনিট সময় লাগে এবং ৪৫ মিনিটেই ফল পাওয়া যায়।

শুধু তাই নয়, এই মেশিনে পজিটিভ রোগীর ফলাফল ৩০ মিনিটে পাওয়া সম্ভব। পদ্ধতিতে ভিটিএম টিউব থেকে নমুনা সরাসরি কার্টিজে দেওয়া হয়। এক ধাপে নমুনা পরীক্ষা সম্পন্ন হয় এবং সরাসরি কম্পিউটার থেকে ফলাফল পাওয়া যায়। এ পরীক্ষা ক্লিনিক্যাল মূল্যায়নে করোনাভাইরাস পজিটিভ ও নেগেটিভ রোগীর ক্ষেত্রে প্রায় শতভাগ সাফল্য পেয়েছে।

তুলনামূলক কম খরচ ও স্বল্প সময়ে অধিকসংখ্যক পরীক্ষার জন্য জিন-এক্সপার্ট মেশিনটি খুবই কার্যকর। তবে রাজশাহীর বক্ষব্যাধি হাসপাতালের দুটি মেশিনই এই করোনাকালে তেমন কাজে আসছে না। একটি মেশিন ৪ মডিউলের ও একটি ১৬ মডিউলের। এগুলোতে প্রতি ঘন্টায় ২০টি করে পরীক্ষা করতে সক্ষম। দিনে ৫ বারে মোট ১০০টি পরীক্ষা করতে সক্ষম এগুলো।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, এই মেশিনে জানুয়ারি মাস থেকে নির্ধারিত কিছু মানুষের করোনা পরীক্ষা হয়েছে। গত বুধবার পর্যন্ত প্রায় ২০০ জনের করোনা পরীক্ষা করা হয়েছে এখানে। এগুলোর প্রায় ২৫ শতাংশ করোনা পজিটিভ এসেছে। মুলত এখানকার রোগী, চিকিৎসক এবং তাদের স্বজনদের করোনা পরীক্ষায় এটি ব্যবহৃত হয়ে থাকে।

রাজশাহী বক্ষব্যাধি হাসপাতাল ঘুরে দেখা গেছে, হাসপাতালে তেমন লোকজনের আনাগোনা নেই। গেটের মুখে একটি ছোট কাগজে লেখা আছে, এখানে করোনা পরীক্ষা করা হয়। একটু এগিয়ে যেতেই চোখে পড়লো জিন-এক্সপার্ট ল্যাব। ল্যাবের পাশেই বানানো হয়েছে একটি নমুনা সংগ্রহ কেন্দ্র। তবে সেটি ফাঁকা। কোন লোকজনও নেই। ল্যাবটি তালাবন্ধ। রাজশাহী মেডিকেল কলেজের ল্যাবে নমুনার চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা। অথচ মেশিন থেকেও কোন কাজ নেই এখানকার লোকজনের। ল্যাবটিও বেশিরভাগ সময় থাকে তালবদ্ধ। কারণ এখানে সবার জন্য উন্মুক্ত নয়।

নাম না প্রকাশ করে ল্যাবের এক কর্মচারীু জানান, এখানে দিনে মোট ১০ থেকে ১৫টা টেস্ট করানো হয়। এটি সবার জন্য উন্মুক্ত নয়। জরুরী কিছু রোগী ও তাদের নিজস্ব ডাক্তার, নার্স ও তাদের পরিবারে সদস্যদের জন্য এটি ব্যবহার করা হয়। এখানে তেমন কিটও নেই। বর্তমানে মাত্র ১০০টির মত কিট আছে।

রাজশাহী মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. নওশাদ আলী বলেন, এখর রাজশাহীর মধ্যে শুধুমাত্র মেডিকেল কলেজেই করোনা পরীক্ষা করা হচ্ছে। আমরা চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছি। আমাদের এখানে প্রতিদিন দুই শিফটের জায়গায় চার শিফট কাজ করেও প্রতিদিনের নমুনা প্রতিদিন পরীক্ষা করে শেষ করতে পারছি না। প্রতিদিন এখানে সর্বোচ্চ ৩৭৬টি নমুনা পরীক্ষা করা সম্ভব। অথচ জমা হচ্ছে চারশর উপরে। ডা. নওশাদ বলেন, এই মুহুর্তে রোগ নির্ণয় করাটাই জরুরী। কারণ রোগ নির্ণয় না হলেতো চিকিৎসা করানো যাবেনা। যত বেশি পরীক্ষা হবে ততই ভালো। এ অবস্থায় যে যে সুযোগ আছে কাজে লাগানো উচিৎ।

এ বিষয়ে রাজশাহীর সিভিল সার্জন ডা. কাইয়ুম তালুকদার বলেন, জিন-এক্সপার্ট মেশিন দিয়ে করোনা পরীক্ষা করা হয়। বাংলাদেশের অনেক জায়গায় হচ্ছে। এটি বেশি সংখ্যক হয় না। এছাড়া, এটি আমাদের আয়ত্বে না। এটি ব্যক্ষব্যাধি ব্যবহার করে।

রাজশাহী বক্ষব্যাধি হাসপাতালের সুপার ডা. সুলতানা আক্তার বলেন, আমাদের এখানে করোনা পরীক্ষা করা হয়। তবে সবার জন্য উন্মুক্ত নয়। টিবি রোগীদের করোনা পরীক্ষা করা হয়। এছাড়া, আমাদের স্টাফদেরও পরীক্ষা করানো হয় এখানে। কোন কোন দিন ৪ বা ৫টা টেস্ট হয় আবার কোনদিন ১৪ থেকে ১৫টি করোনা পরীক্ষা হয়। এটি সবার জন্য উন্মুক্ত করার সুযোগ নেই, কারণ এখানে আমাদের রোগী ভর্তি থাকে অনেক। তাদের অবস্থাও অনেক জটিল থাকে।

SHARE