আইপিএল জুয়া রোধে মাঠে আরএমপির সাইবার ক্রাইম ইউনিট

42

স্টাফ রিপোর্টার : শুক্রবার থেকে শুরু হয়েছে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল)। আইপিএল উপলক্ষে ইতিমধ্যে রাজশাহীতে তোড়জোড় চলছে জুয়ার আসরের। প্রাণঘাতি ভাইরাস করোনার মতই আইপিএলের জুয়া মানুষকে নি:স্ব করছে। ঘরবাড়ি টাকা হারিয়ে পথে বসছে মানুষ। আইনশৃংখলা বাহিনীর কঠোর নজরদারির কারণে আইপিএল জুয়ার ধরণ বদলেছে। বদলে জুয়া খেলার স্পট। এবার নতুন নতুন স্পটে আইপিএলের জুয়ায় বাজির ব্যবস্থা করা হয়েছে। এতে এক শ্রেণির মানুষ আইপিএলের জুয়া খেলে নি:স্ব হলেও অপর শ্রেণির মানুষ আঙ্গুল ফুলে কলা গাছ হচ্ছে। কখনও পুরো খেলা, কখনও ওভারে। আবার কখনও বা বলে বলে বাজি। শুধু তাই নয়, দুটিই ভালো দল হলে বাজি হয় ‘হেড টু হেড’। এমন ভাবে হাজার থেকে লাখ লাখ টাকার বাজি চলে আইপিএল ক্রিকেটকে কেন্দ্র করে। এবার আইপিএল বাজির ধরণ বদলেছে। এখন অনলাইনে চলে বাজি। ‘১ী নবঃ ও বাজি নামের ওয়েব সাইটেও এই জুয়া রয়েছে এমনটাও জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা। তবে মহানগর পুলিশ এই জুয়ার আসর নিয়ন্ত্রণে নিতে কাজ করছে। আরএমপির সাইবার ক্রাইম ইউনিট এবার জুয়ার আসরের বিষয়ে সর্বাত্মক নজরদারি করবে। খবর পাওয়া মাত্রা অভিযানে নামা হবে বলেও আরএমপির পক্ষে জানানো হয়েছে।

আইপিএল নিয়ে সারাদেশে চলছে উন্মাদনা। চলছে জুয়ার আসর। রাজশাহীও এর ব্যতিক্রম নয়। গতকাল শুক্রবার আইপিএল শুরু হওয়ার পর থেকে শুরু হয় জুয়ার রমরমা আসর। আইপিএলকে কেন্দ্র করে জুয়াড়িরা নতুন নতুন টেলিভিশনও কিনেছেন। মোবাইলে বাজিগারদের থেকে জানা হয় কোন দল কত দিচ্ছে। এর পরে জয়-পরাজয়ের উপরে নির্ভর করে টাকা চলে যায় বিকাশের মাধ্যমে মোবাইলে। আইপিএলে কোন দল জিতবে, কত রানে জিতবে বা হারবে, কত রান করবে এসব নানা বিষয়ে বাজি ধরতে মিডিয়া হয়ে কাজ করেন কেউ কেউ। অন্যরা তাদের কাছ থেকে দর জেনে বাজিতে টাকা লাগায়। তবে এই বাজিগররা অনেকটাই ধরা ছোঁয়ার বাইরে থাকেন। কারণ লোকচক্ষুর অন্তরালে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে ফাঁকি দিয়ে এসব বাজির লেনদেন হয়। থাকে না কোনো ‘ক্লু’। এবিষয়ে পুলিশ বলছে- মোবাইলে হয় বাজি। লেন-দেন হয় বিকাশ বা অনলাইনে। মূলত আইপিএল যারা খেলায় তাদের বেশিরভাগই রাঘব বোয়াল। তারা থাকে ধরাছোঁয়ার বাইরে। মিডিয়া হিসাবে যারা কাজ করে তারা মুলত থাকে সামনের কাতারে। এমনকি জুয়ার এই লাখ লাখ টাকা কোথায় যায় তা মিডিয়া হিসাবে যারা কাজ করে তারাও বলতে পারে না।

জানা গেছে, নগরীর অর্ধশতাধিক পয়েন্টে চলে এই জুয়ার আসর। কিশোর থেকে যুবক সব বয়সী মানুষ জুয়ার আসরে হয়ে যান মগ্ন। অন্যান্য বছরের মই এবারো প্রতিরাতে জুয়ায় কোটি টাকা লেনদেন হচ্ছে। জুয়া খেলার সারিতে রয়েছেন নগরীর বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, ভ্যানচালক, দিনমজুর, হোটেল কর্মচারীরাও। এক সময় বিভিন্ন মার্কেটে বিশেষ কক্ষে এ জুয়ার আসর বসতো। কিন্তু এবার একটু ব্যতিক্রম হচ্ছে। এবার একেবারে অবডালে অন্তরালে জুয়ার প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। মজার বিষয় মোবাইল ফোনে ইন্টারনেটের মাধ্যমে জুয়া নিয়ন্ত্রিত হওয়ার কারণে জুয়াড়িদের আসরে আসতে হয় না। ঘরে বসেও অনেকেই অংশ নেয় এ জুয়াতে। আর টাকা লেনদেন চলে বিকাশের মাধ্যমে। সূত্র মতে, নগরীর লক্ষ্মীপুর, বহরমপুর, দাসপুকুর, টিকাপাড়া, চন্ডিপুর, দর্গাপাড়া, মিজানের মোড়, শিরোইল বিশ্ববিদ্যালয়ের পার্শ্ববর্তী কাজলা, বিনোদপুর, বার রাস্তার মোড়সহ বিভিন্ন এলাকায় চলে এ বাজি। এ আসরেও প্রতিদিন লেনদেন হচ্ছে কয়েক লাখ টাকা।

জানা গেছে, নগরীর বহরমপুর, দাসপুকুর, লক্ষ্মীপুর, ভাটাপাড়া এলাকায় এখন প্রস্তুতি চলছে আইপিএল জুয়ার। এই এলাকাগুলোতে আইপিএলের জুয়া খেলার প্রবনতা বেশি। ইতিমধ্যে এই এলাকায় আইপিএলের জুয়া খেলে নি:স্ব হয়েছে শতাধিক মানুষ। এমন কি অনেকে বাড়ি বন্ধক রেখেও খেলেছেন জুয়া। সব হারিয়ে এখন জুয়া খেলা এরসব ব্যক্তি রাস্তার ফকির। কিন্তু এক শ্রেণির মানুষ এই জুয়া খেলেই হয়েছেন কোটিপতি। শুধু নি:স্ব হননি অনেকেই হারিয়েছেন প্রাণ। জুয়ার টাকা লেনদেনকে কেন্দ্র করে সাহাবুল খুন হয়েছেন। কিন্তু জুয়া খেলেসব হারিয়ে জিন্দালাশ হয়ে আছেন অনেকেই।

রাজশাহী মহানগর পুলিশের (আরএমপি) মুখপাত্র গোলাম রুহুল কুদ্দুস জানায়, আইপিএলের নামে নগরীতে জুয়ার বাজির বিষয়টি অনেক পুরোনো। ডিজিটাল ফোন ব্যবহার করে জুয়া খেলার জন্য জুয়াড়িদের শনাক্ত করা যায় না। তবে পুলিশ বিষয়টির দিকে নজর রেখেছে। এবার জুয়াড়িদের শনাক্তের জন্য সাইবার ক্রাইম ইউনিট কাজ করবে। খবর পাওয়া মাত্রাই পুলিশের বিশেষ টিম এসব জুয়াড়িদের বিরুদ্ধে অভিযান চালাবে। এছাড়াও অপরাধী যেমনই হোক তাকে আইনের আওতায় আনা হবে।

SHARE