ঈদের পোশাক গলার ফাঁস

35
দোকানপাট বন্ধ। রাজশাহীর বাজারের পোশাকপল্লি এখন খাঁ খাঁ করছে।

স্টাফ রির্পোটার : করোনাভাইরাসের প্রকোপে লকডাউন পরিস্থিতিতে গত বছর রাজশাহীর ব্যবসায়ীদের মাথায় হাত পড়ে। ঈদুল ফিতরের আগেই বন্ধ হয়ে যায় মার্কেট। পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ার পর গতবারের ক্ষতি কিছুটা কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছিলেন ব্যবসায়ীরা।
ঈদের বাজার ধরতে গত কয়েক মাস সচল ছিল রাতদিন। এরই মধ্যে সোমবার থেকে এক সপ্তাহের লকডাউনে সবকিছু এলোমেলো হয়ে গেছে।

পুরো মার্কেট এখন পুঁজি হারানোর আক্ষেপ, বেকারত্বের শঙ্কা, ঋণের বেড়াজালে আটকে থাকার ভয়। রাজশাহীর পোশাকপল্লি ঘুরে এমন হতাশার চিত্র দেখা গেছে।

ব্যবসায়ীরা জানান, ঈদের আগে আনুমানিক হাজার কোটি টাকা লেনদেন হয় এখানে। মূলত শবেবরাত থেকে শুরু করে ২৯ রমজান পর্যন্ত ভিড় থাকে।
ব্যবসায়ীরা জানান, ঈদে চাহিদা অনুযায়ী ধার-দেনা করে পোশাক উঠেয়াছি। এখন সবাই পাওনা টাকার জন্য চাপ দিচ্ছে। বিক্রি নেই; টাকা দেব কীভাবে?
মার্কেটের সততা কালেকশনের স্বত্ত্বাধিকারী তারিক হোসেন বলেন, ‘দোকান না খুলে উপায় কী? বাধ্য হয়ে কেবলই দোকান খুললাম। গতকাল তো দোকান খুলতে পারিনি। এখনও আমার দোকানে বেচাবিক্রি হয়নি। মানুষের প্রয়োজন আছে, সারাদিনে অবশ্যই ক্রেতারা আসবেন।’

রোদশী ক্লথ সেন্টারের স্বত্ত্বাধিকারী সারোয়ার হোসেন শাহীন বলেন, ‘একবছর ধরে আমাদের রাস্তায় নামার মতো অবস্থা। পেটের তাগিদে দোকান খুলেছি। ১৩ জন কর্মী দোকানে কাজ করে, তাঁদের কী হবে? কেউ কি খাওয়াবে? দোকান না খুললে রাস্তায় বসে ভিক্ষা করতে হবে।’

মার্কেটের কেয়া গার্মেন্টের বিক্রয়কর্মী মো. আলো বলেন, ‘মার্কেট কমিটি দোকান খুলতে বলেছে। সে কারণে কমিটি মেইন গেটের তালা খুলে রেখেছে। চাবি কমিটির কাছেই থাকে। আমরা এসে নিজেদের দোকানটা খুলেছি।’ রয়েল কসমেটিকসের মালিক বাবুল হোসেন বললেন, ‘প্রয়োজনের তাগিদে আমরা দোকান খুলেছি। প্রশাসন এসে চাপ দিলে বন্ধ করে দেয়া হবে।’

রাজশাহী ব্যবসায়ী ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ফরিদ মাহমুদ হাসান বলেন, ‘মার্কেটের গেট খোলা ছিল। ব্যবসায়ীরা নিজ নিজ দায়িত্বে দোকান খুলেছেন। হঠাৎ লকডাউনে তাঁদের মাথায় বাড়ি পড়েছে। মাথা তাঁদের ঠিক নাই। কারণ, এটা তাঁদের রুটিরুজির ব্যাপার। সরকার বইমেলা থেকে অন্যান্য জায়গায় ছাড় দিয়েছে। এখানেও দিক।’

মঙ্গলবার ব্যবসায়ীরা দোকান খোলার বিষয়ে কথা বলতে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আবু আসলামকে ফোন করা হলে পাওয়া যায়নি। জেলা প্রশাসক আবদুল জলিলও ফোন ধরেননি।

SHARE