নগরীতে লকডাউন ভেঙে দোকান খুললেন ব্যবসায়ীরা

18

স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহী নগরীতে লকডাউন ভেঙে দোকান খুলেছেন আরডিএ মার্কেটের ব্যবসায়ীরা। রাজশাহী মহানগরীর সবচেয়ে বড় এই মার্কেটে প্রায় ২ হাজার ২০০টি দোকানপাট রয়েছে। লকডাউনের দ্বিতীয় দিন মঙ্গলবার বেশিরভাগ দোকানীই দোকান খুলেছেন। আগের দিন সোমবার দোকান খোলার দাবিতে তারা বিক্ষোভ করেছিলেন। কেউ কেউ শুয়ে পড়েছিলেন রাস্তায়।

মঙ্গলবার সকালে নগরীর সাহেববাজারে অবস্থিত এই মার্কেটে গিয়ে দেখা যায়, ব্যবসায়ীরা দোকানপাট খুলতে শুরু করেছেন। দু’একজন ক্রেতাও এসেছেন। শুরু হয়েছে বিকিকিনি। ব্যবসায়ীরা বলেছেন, পেটের তাগিদে তারা লকডাউন ভেঙে দোকানপাট খুলতে বাধ্য হয়েছেন।

মার্কেটের সততা কালেকশনের স্বত্ত্বাধিকারী তারিক হোসেন বলেন, ‘দোকান না খুলে উপায় কী? বাধ্য হয়ে কেবলই দোকান খুললাম। গতকাল তো দোকান খুলতে পারিনি। এখনও আমার দোকানে বেচাবিক্রি হয়নি। মানুষের প্রয়োজন আছে, সারাদিনে অবশ্যই ক্রেতারা আসবেন।’

রোদশী ক্লথ সেন্টারের স্বত্ত্বাধিকারী সারোয়ার হোসেন শাহীন বলেন, ‘একবছর ধরে আমাদের রাস্তায় নামার মতো অবস্থা। পেটের তাগিদে দোকান খুলেছি। ১৩ জন কর্মী দোকানে কাজ করে, তাঁদের কী হবে? কেউ কি খাওয়াবে? দোকান না খুললে রাস্তায় বসে ভিক্ষা করতে হবে।’

মার্কেটের কেয়া গার্মেন্টের বিক্রয়কর্মী মো. আলো বলেন, ‘মার্কেট কমিটি দোকান খুলতে বলেছে। সে কারণে কমিটি মেইন গেটের তালা খুলে রেখেছে। চাবি কমিটির কাছেই থাকে। আমরা এসে নিজেদের দোকানটা খুলেছি।’ রয়েল কসমেটিকসের মালিক বাবুল হোসেন বললেন, ‘প্রয়োজনের তাগিদে আমরা দোকান খুলেছি। প্রশাসন এসে চাপ দিলে বন্ধ করে দেয়া হবে।’

মার্কেটের নীচতলায় রাজশাহী ব্যবসায়ী ঐক্য পরিষদের যুগ্ম সম্পাদক ইয়াসিন আলীর দোকান। সকালে সেটিও খোলা পাওয়া যায়। দোকানের কর্মী সুমন আলী বলেন, ‘আমাদের কেউ দোকান খুলতে বলেনি, বলেছে পেট। বসে বসে তো খেতে পাব না। পেটের তাগিদেই খুলেছি।’

রাজশাহী ব্যবসায়ী ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ফরিদ মাহমুদ হাসান বলেন, ‘মার্কেটের গেট খোলা ছিল। ব্যবসায়ীরা নিজ নিজ দায়িত্বে দোকান খুলেছেন। হঠাৎ লকডাউনে তাঁদের মাথায় বাড়ি পড়েছে। মাথা তাঁদের ঠিক নাই। কারণ, এটা তাঁদের রুটিরুজির ব্যাপার। সরকার বইমেলা থেকে অন্যান্য জায়গায় ছাড় দিয়েছে। এখানেও দিক।’

এর আগে লকডাউনের মধ্যেও মার্কেট খুলে রাখার দাবি নিয়ে গত ৪ এপ্রিল সংবাদ সম্মেলন করে রাজশাহী ব্যবসায়ী এক্য পরিষদ। পরদিন লকডাউনের মধ্যে দোকান খুলতে গিয়ে তারা বাধা পান। এ সময় সাহেববাজারে সড়কে বিক্ষোভ করেন ব্যবসায়ীরা। পরে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আবু আসলাম গিয়ে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলেন। বিষয়টি নিয়ে তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলবেন বলে জানান। এরপর ব্যবসায়ীরা বিক্ষোভ কর্মসূচি শেষ করেন।

মঙ্গলবার ব্যবসায়ীরা দোকান খোলার বিষয়ে কথা বলতে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আবু আসলামকে ফোন করা হলে পাওয়া যায়নি। জেলা প্রশাসক আবদুল জলিলও ফোন ধরেননি। নগরীর বোয়ালিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নিবারন চন্দ্র বর্মন বলেন, ‘দোকান খোলার অনুমতি নেই। দু’একজন হয়ত পরিস্কার করার জন্য খুলেছেন। কোন ক্রেতা নেই, বেচাকেনা নেই।’

SHARE