রাজশাহীতে প্রথম দিন ঢিলেঢালা ‘লকডাউন’

25

স্টাফ রিপোর্টার : সাতদিন লকডাউনের প্রথম দিন কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই অতিবাহিত হয়েছে। নগরীেেত সকালের দিকে লকডাউন ঢিলেঢালাভাবে চললেও বিকেলের পর কঠোর হতে দেখা যায় আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের। লকডাউনের প্রথম দিনে সকাল থেকেই নগরীতে যানবাহন চলাচল ছিলো সীমিত। যা বিকেলের পর আরো কমে যায়। এতে সাধারণ মানুষকে ভোগান্তি পোহাতেও দেখা যায়। জরুরি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ছাড়া অন্য সব পণ্যের দোকান প্রায় বন্ধ ছিলো। কিন্তু বিকেলের পর জরুরি ছাড়া সকল দোকানপাট বন্ধ করে দেয় হয়। বন্ধ ছিলো আন্তঃজেলা ও দূরপাল্লার বাস চলাচল। কিন্তু নগরীর আরডিএ মার্কেটের গার্মেন্টস ও ক্রোকারিজ ব্যবসায়ীরা দোকান খুলে দেয়ার দাবিতে মার্কেটের সামনের সড়কে বিক্ষোভও করে।

সোমবার (৫ এপ্রিল) সকাল থেকে নগরীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকা ঘুরে দেখা যায়, লকডাউনের কারণে বিভিন্ন মোড়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের অবস্থান ছিলো।

তারা হ্যান্ডমাইক ব্যবহার করে মানুষকে সচেতন করছিলেন। এ ফলে মানুষের অযাচিত সমাগমও ছিলো না। এছাড়া মোড়গুলোতে অটো ও অটো রিকশা দাঁড়াতে দেয়া হচ্ছিলো না। নগরীর প্রবেশপথে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীকে সজাগ থাকতেও দেখা গেছে।

লকডাউনের প্রথম দিনে যান চলাচল সীমিত থাকায় চার্জার অটো ও অটো রিকশা চালকদের বাড়তি ভাড়াও আদায় করতে দেখা গেছে। অটো রিকশাচালকরা বলছেন, যাত্রী কম থাকায় দু-একটাকা ভাড়া বেশি নেয়া হচ্ছে। এছাড়া চার্জের টাকাও তুলতে পারবো না।

লকডাউনে সড়কে মানুষের সমাগম কম থাকলেও ব্যাংকগুলোর সামনে ভিড় দেখা গেছে। কোর্ট এলাকায় অবস্থিত সোনালী ব্যংকের সামনে গ্রাহকদের লম্বা সারি দেখা যায়। সেখানে স্বাস্থ্যবিধিও ছিলো উপেক্ষিত। এছাড়া নগরীর কয়েকটি পয়েন্টে টিসিবির পণ্য নিতে ভিড় করছিলেন সাধারণ মানুষ। এখানে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত হয়নি। সাধারণ মানুষ মাস্ক ব্যবহার করলেও বিতরণকারীদের মুখে মাস্ক দেখা যায় নি। এছাড়া দুপুরের দিকে নগরীর কাঁচাবাজারে অন্যান্য দিনের মতোই ক্রেতাদের আনাগোনা দেখা গেছে।

রাজশাহী সড়ক পরিবহন গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক মতিউল হক টিটো জানান, সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী তাদের পরিবহণগুলো বন্ধ রাখা হয়েছে। আন্তঃজেলা ও দূরপাল্লার কোনো গাড়ি চলছে না। তবে গত রাতে ছেড়ে আসা দূরপাল্লার দু-একটি বাস হয়তো তার গন্তব্যে যাচ্ছে।

এ বিষয়ে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ (আরএমপি) মুখপাত্র ও অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার গোলাম রুহুল কুদ্দুস জানান, রাজশাহীতে জনসচেতনতার মধ্যে দিয়ে লাকডাউন পালনে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী কাজ করছে। এখন পর্যন্ত অপ্রীতিকর কোনো ঘটনা ঘটেনি। আর গতবারের মতো কঠোরভাবে লকডাউন দেয়া হয়নি। জনগণকে সচেতন করে জনসম্পৃক্ততার মাধ্যমে শান্তিপূর্ণভাবে লকডাউন পালন করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট কাউছার হামিদ, কৌশিক আহমেদ, জর্জ মিত্র চাকমা ও জেসমিন আক্তারের নেতৃত্বে পৃথকভাবে পরিচালিত চারটি ভ্রাম্যমান আদালত স্বাস্থ্যবিধি না মানায় ১ জনকে মামলা ও ১ হাজার টাকা জরিমানাসহ সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে।

SHARE