নগরীর বাজারে ক্রেতাদের উপচে ভিড় স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষিতই ছিলো

20

স্টাফ রিপোর্টার : করোনাভাইরাসের সংক্রমণ উদ্বেগজনক হারে বাড়তে থাকায় সরকারের পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী সোমবার (৫ এপ্রিল) থেকে শুরু হচ্ছে সাত দিনের লকডাউন। লকডাউন ঘোষণার পর থেকেই নগরীর কাঁচাবাজারসহ মার্কেটগুলোতে ভিড় বাড়তে থাকে। লকডাউনের আগের দিন রোববার নগরীর মার্কেটগুলোতে প্রচুর ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। ভিড় বৃদ্ধির সঙ্গে স্বাস্থ্যবিধিও উপেক্ষিত ছিলো। ক্রেতা-বিক্রেতার অনেকের মুখেই ছিলো না মাস্ক। নিশ্চিত হয়নি সামাজিক দূরত্বও।

নগরীর সাহেববাজার, আরডিএ মার্কেট, কাপড়পট্টি, গণকপাড়া ও কোর্ট বাজার এলাকায় ঘুরে দেখা যায়, সকাল থেকেই মার্কেটগুলো ক্রেতাদের আনাগোনা ছিলো উৎসবের মতো। উৎসবের আগের রাতের মতোই কেনাকাটাও করতে দেখা যায়। এক্ষেত্রে ক্রেতাদের অনেকেই মাস্ক পরলেও বিক্রেতাদের মাঝে ছিলো অবহেলা। অনেকেই সঠিক নিয়মে মাস্ক পরছেন না। কখনো নাকের নিচে আবার কখনো হাতেই থাকছে মাস্ক। পুলিশের উপস্থিতি টের পেলেই মাস্ক পরছেন ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়েই।

সোমবার থেকে লকডাউনের খবর শুনে অনেকেই বাজারে এসেছেন প্রয়োজনীয় কেনাকাটা সারতে। নগরীর গণকপাড়া এলাকায় বাজার করতে আসা আরিফুল ইসলাম জানান, সোমবার থেকে সারাদেশ লকডাউন শুরু হচ্ছে। পূর্ব অভিজ্ঞতা থেকে এটা নিশ্চিত সময়টা এক সপ্তাহ বললেও কখন খুলবে তা বলা যায় না। তাই আগে থেকেই কিছু প্রয়োজনীয় কেনাকাটা সারতে হচ্ছে। এছাড়া গতকয়েক দিনের চেয়ে জিনিসপত্রের দামও বেড়েছে। করোনার লকডাউনের মধ্যে দাম যে বাড়বে না এটা বলাও যায় না।

শুধু মার্কেটগুলোতেই নয়, লকডাউনের খবরে মুদি ও কাঁচাবাজারেও ভিড় করেছিলেন সাধারণ মানুষ। আফসানা বেগম নামের এক ক্রেতা বলেন, সরকার সাত দিনের জন্য লকডাউন দিয়েছে। এই সাত দিন বাসা থেকে বের হওয়া যাবে না। তাই প্রয়োজনীয় বাজার-সদাই কিনে রাখছি। দোকানদাররা বলছেন, লকডাউনের খবরে মানুষ প্রয়োজনের অতিরিক্ত জিনিস কিনে মজুদ করছে।

এতে বাজারে সাময়িকভাবে সংকট তৈরি হচ্ছে। ফলে বেশ কিছু পণ্যের দাম ইতোমধ্যে বাড়তেও শুরু করেছে। সামনে কী হবে বলা যায় না।
বিক্রেতারা বলছেন, দুপুর থেকেই ক্রেতারা শুকনো পণ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় কিছু পণ্য যেমন-পেঁয়াজ, রসুন, আলু, ডিম বেশি করে কেনা শুরু করেছেন। বর্তমানে পণ্যের দাম তুলনামূলকভাবে কম রয়েছে। কিন্তু ক্রেতারা হঠাৎ করে বেশি করে পণ্য কেনায় কেউ কেউ দাম বেশি নিচ্ছেন। তবে তারা যেভাবে পণ্য কিনতে হুমড়ি খেয়ে পড়েছেন, তাতে যেকোনো সময় এসব পণ্যের দাম বেড়ে যেতে পারে।

নগরীর মাস্টারপাড়া এলাকার ব্যবসায়ী জাকিউল আলম জানান, সামনে রমজানকে সামনে রেখে লেবুর দামটা বাড়তে শুরু করেছে। লকডাউনের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই পেঁয়াজ, রসুন, আলু বিক্রি বেড়ে গেছে। তবে দাম কমই আছে। তবে সকালে যখন লকডাউনের খবর তিনি শুনেছেন সেসময় ধরে নিয়েছিলেন ক্রেতারা বাড়তি কেনাকাটা শুরু করবে। সেরকম প্রস্তুতিও নিয়ে রেখেছিলাম। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ক্রেতাদের ভিড় বেড়ে যায়।

আরডিএ মার্কেট ব্যবসায়ী সমন্বয় পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সেকেন্দার আলী জানান, দীর্ঘ সময় লকডাউনের পরে ব্যবসায়ীরা যখন কিছুটা স্বাভাবিকতায় ফিরে আসছিলেন সে সময় আবারো লকডাউন দেয়া হচ্ছে। আসলে ক্রেতা-বিক্রেতারা কেউ তেমন সচেতন না। তারা সচেতন হলে এই লকডাউনের প্রয়োজন হতো না। তবে সরকার যেহেতু লকডাউন দিয়েছে এটা আমরা আমান্য করতে পারি না। তবে সরকারের বা স্থানীয় প্রশাসনের উচিত কঠোর তদারকির মাধ্যমে লকডাউনের বিকল্প খোঁজা। কেননা সামনে রমজান।

এই সময়টাতেই মার্কেটগুলোতে কেনাবেচা হয়। ব্যবসায়ীদের জন্য এটা পিক টাইম। কিন্তু গতবার রমজানেও ব্যবসায়ীরা ব্যবসা করতে পারেনি। এবারও শঙ্কাটা কম না।

SHARE