বাঘায় শিলাবৃষ্টিতে আমসহ ফসলের ব্যাপক ক্ষতি

20

বাঘা থেকে আতাহার আলী : রাজশাহীর বাঘা উপজেলায় ঘূর্ণিঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে প্রধান অর্থকারী ফসল আমসহ অন্যান্য ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এই উপজেলায় অধিকাংশ মানুষের আম বিক্রয় করা টাকা থেকে পুরো বছরের খাদ্য চালানোর পাশাপাশি হাটবাজার ও ছেলেমেয়েদের লেখাপড়ার খরচ মেটানো হয়ে থাকে। রোববার বিকেল ৪ টার দিকে শুরু হওয়া শিলাবৃষ্টি ও ঘূর্ণিঝড়ে বাঘা উপজেলায় আম ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

জানা যায়, এ উপজেলায় ৮ হজার ৩৭০ হেক্টও জমিতে ফলন্ত আমের গাছ আছে। গাছের সংখ্যা ৫ লাখ ৫০ হজার ৩ শতটি ও অফলন্ত গাছ আছে ৭০ হাজার ৪০ টি। উপজেলায় প্রায় দুই লক্ষাধিক মানুষের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি হলো আম ফসল। জেলার অন্যান্য উপজেলার চেয়ে বাঘা উপজেলাটি ভিন্ন। উপজেলাজুড়ে শুধু আমবাগান আর আমবাগান। এ অঞ্চলের আমব্যাবসায়ী ও বাগান মালিকরা সারা বছরই বাগানের পরিচর্যা করে থাকেন। বিশেষ করে অগ্রায়ণ মাসের শেষের দিকে আর পৌষ মাসের শুরুদিকেই পুরোদমে বাগানের পরিচর্যা করতে থাকেন। এ বছর আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় প্রায় সব বাগানে মুকুলে ভরে গিয়েছিল এবং পর্যাপ্ত গুটি আটকাতে দেখা দিয়েছিল। ফলে রেকর্ড পরিমান ফলনের আশা কৃষকদের। কিন্ত অনাকাক্ষিত প্রাকৃতিক দুর্যোগ এলাকার মানুষদের স্বপ্নই কেবল নষ্ট করে দেয়নি, অর্থনীতির মেরুদন্ড একেবারেই ভেঙে দিয়েছে।

রোববার বিকেলে এমনই ঘটনা ঘটেছে এ উপজেলায়। দমকা ঝড়ো হাওয়া আর প্রচন্ড ঘূর্ণিঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে বিভিন্ন ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়। তবে সবচেয়ে বেশী ক্ষতি হয় প্রধান অর্থকারী ফসল আমের। একারনে এলাকায় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন থাকায় সাধারণ মানুষ দুর্ভোগের শিকার হয়েছে।

সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, উপজেলার সাতটি ইউনিয়ন ও দু’টি পৌরসভার বিভিন্ন এলাকায় ফসলী জমিতে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ফসলি জমি ছাড়াও এলাকার কাঁচা ঘরবাড়ির ক্ষতি হয়েছে। এরছাড়া বাউসা ইউনিয়নে দিঘা এলাকায় বেশি ক্ষতি হয়েছে বলে জানান ইউপি চেয়ারম্যান শফিকুর রহমান।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার কামরুল ইসলাম বলেন, ঘুর্নিঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে আমসহ ফসলের ক্ষতি হলেও মুষলধারে বৃষ্টি হওয়ায় পরবর্তিতে চাষিরা ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পারবে বলে আশা করা যায়।

SHARE