রাজশাহীতে মৌসুমের প্রথম কালবৈশাখীর হানা

22

স্টাফ রিপোর্টার : চৈত্রের শেষে ঝড়ের হানা। রাজশাহীতে মৌসুমের প্রথম কালবৈশাখী। বিকেল সাড়ে তিনাটার দিকে ঝড় শুরু হয়ে থেমে থেমে চলে সাড়ে ৫টা পর্যন্ত। এসময় শিলার সাথে গুড়ি-গুড়ি বৃষ্টি হয়েছে জেলার বিভিন্ন উপজেলায়। তবে নগরীতে বৃষ্টির দেখা মেলেনি। আকাশ ভরা মেঘ থেকে ঝরেনি বৃষ্টি। মুহূর্তে ধূলোয় র্ধলোয় এককার হয়ে ওঠে নগরী। ফলে অস্বস্তি বাড়ে নগরবাসীর। ঝড়ে আম ও লিচুর গুটি ঝরেছে। নগরে বিলবোর্ড ভেঙ্গে পড়েছে এবং বিভিন্ন উপজেলায় ঘরবাড়ির টিন উড়ে গেছে। ঝড়ের সময় পুরো নগরী ছাড়াও উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ বন্ধ ছিলো।

রাজশাহী আবহাওয়া অফিসের পর্যবেক্ষক এসএম রেজওয়ানুল হক বলেন- মৌসুমের প্রথম কালবৈশাখী ঝড় এটি। এসময় ঘণ্টায় ৬৫ কিলোমিটার বেগে ঝড়ো হাওয়া বয়ে গেছে। রাজশাহীর বিভিন্ন উপজেলার মধ্যে পুঠিয়া ও বাঘায় শিলা বৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া রাতের দিকে ঝড়-বৃষ্টির সম্ভাবনা না থাকলেও দুই-তিনদিন পরে বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে বলে এই কর্মকর্তা জানান।
এই কালবৈশাখীতে নগরীতে বেশ কয়েকটি বিলবোর্ড পড়ে গেছে। রাজশাহী বাস স্ট্যান্ডের সামনে একটি বিলবোর্ড পড়ে এক ব্যক্তি আহত হয়েছেন। আহত ওই ব্যক্তিকে উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এছাড়া তালাইমারী মোড়ে একটি বিলবোর্ড ভেঙ্গে পড়েছে। অন্যদিকে, বহরমপুর এলাকায় সড়কের মাঝে ডিভাইডারের উপরের আলোকসজ্জা খুঁটি ভেঙ্গে পড়েছে।
অন্যদিকে, ঝড়ো হাওয়ার কবলে আমের গুটি ঝরে পড়েছে। আমবাগানে গিয়ে এমন চিত্র দেখা গেছে। তবে রাজশাহী কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন- এই ঝড় তেমন ক্ষতি হওয়ার কারণ নেই। কারণ একটি গাছে যে পরিমাণ আম ধরেছে, সেগুলোই থাকে না। গাছের ধারণ ক্ষমতার বাইরের আম ঝরে যায়।
রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক কেজেএম আবদুল আওয়াল বলেন- পুঠিয়া ও বাঘায় হালকা শিলাবৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া এই ঝড়ো বাতাসে ফসলের ক্ষতি হয় নি। কারণ- গম, মসুর, খেসারি জমিতে নেই। শুধু আছে বোরো ধান। আর যেই এলাকায় শিলা বৃষ্টি হয়েছে সেই এলাকায় বোরো ধান নেই। তার পরেও ক্ষতির বিষয়টি অনুসন্ধানের পরেই জানা যাবে।
এদিকে, ঝড়ের সময় রাজশাহী নগরীতে বিদ্যুৎ সরবারহ বন্ধ ছিলো। ফলে বেশ কিছু সময় অন্ধকারে ছেয়ে যায় নগরী। ঝড় থেমে যাওয়ার অনেক পরে বিদ্যুৎ আসে। চার টা থেকে সাড়ে সাতটা পর্যন্ত দীর্ঘক্ষণ বিদ্যুৎ না থাকায় ভোগান্তিতে পড়তে হয় নগরবাসীদের।

SHARE