১০ ক্রিকেটার আক্রান্ত, দায় কার!

18

স্পোর্টস ডেস্ক : দেশে করোনা পরিস্থিতি ভয়াবহ। মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়ছে। আর সেই কারণেই অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করা হয়েছে চলতি জাতীয় ক্রিকেট লীগ (এনসিএল)। করোনা মহামারির কারণে প্রায় এক বছর মাঠে গড়ায়নি দেশের নিয়মিত ঘরোয়া ক্রিকেট। এই মৌসুম শুরু হয় জাতীয় ক্রিকেট এনসিএল দিয়ে। তবে জানানো হয়েছিল আসরে অংশ নেয়া সকল ক্রিকেটার থেকে শুরু করে কোচ, আম্পায়ার ও গ্রাউন্ডসম্যানদের দেয়া হবে করোনা টিকা। সেইসঙ্গে খেলা চলবে জৈব সুরক্ষা বলয়ের মধ্যে। অবশেষে ২২শে মার্চ থেকে মাঠে গড়ায় এনসিএল।
আর সেইদিন থেকে অংশ নেয়া ক্রিকেটারদের করোনা আক্রান্ত হওয়ার সংবাদ আসতে শুরু করে। দু’টি রাউন্ড মাঠে গড়াতেই ১০ জন ক্রিকেটার ও একজন কোচ আক্রান্ত হয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) টুর্নামেন্ট কমিটির নিয়ে। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে মুঠোফোনে বার বার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও পাওয়া যায়নি টুর্নামেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান গাজী গোলাম মুর্তজা পাপ্পাকে। তবে আসরের দল ঢাকা বিভাগের কর্মকর্তা ও সিসিডিএম’র সদস্য সচীব আলী হোসেন দৈনিক মানবজমিনকে বলেন, ‘আসলে দেশের করোনা পরিস্থিতি ভালো না। এই অবস্থায় খেলা চালিয়ে যাওয়া খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। এরই মধ্যে আমাদের অনেক ক্রিকেটার ও একজন কোচ আক্রান্ত। সবকিছু বিবেচনায় নিয়েই লীগ স্থগিত করা হয়েছে। পরিস্থিতি ভালো হলে ফের শুরু হবে।’
তবে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। এত কঠোর জৈব বলয়ে থেকেও কীভাবে এত ক্রিকেটার আক্রান্ত হলেন! তাহলে টুর্নামেন্ট কমিটি ক্রিকেটারদের স্বাস্থ্যবিধি নিয়ে উদাসীন ছিল! এ বিষয়ে আলী হোসেন বলেন, ‘বিষয়টা তেমন না। আমি যতটা জানি বেশির ভাগ ক্রিকেটারই লীগ শুরু থেকে করোনা উপসর্গ নিয়ে এসেছে। যখনই তাদের কোভিড-১৯ টেস্টের ফল পজেটিভ এসেছে আমরা তাদের আইসোলেশনে রেখেছি। আমাদের ঢাকার ক্রিকেটার সাঈফ হাসান ও কোচ ওয়াহেদুল গণি আক্রান্ত। তারা যতটা জানি বাইরে থেকেই এই ভাইরাস বহন করে নিয়ে এসেছে।’ অন্যদিকে বিসিবি’র একটি সূত্র জানায় এইভাবে এত আক্রান্ত হওয়ার দায়টা ক্রিকেটারদেরই। সূত্রটি বলেন, ‘আমরা ক্রিকেটারদের কঠোর জৈব সুরক্ষায় রেখেছি। হোটেল থেকে তাদের বের হওয়ার সুযোগ দেইনি। এমন কি তাদের সঙ্গে টিম বয় থেকে সকলকে রাখা হয়েছে বলয়ের মধ্যে। ড্রাইভারদেরও আমরা ক্রিকেটারদের সঙ্গে একই হোটেলে রেখেছি। কিন্তু দেখা গেছে একটি রাউন্ডের ম্যাচ শেষ হলেই তারা অনেক ক্রিকেটার বাড়ি চলে যায়। সেখান থেকেই তারা এই ভাইরাস নিয়ে আসে। আমরা মাঠে নামার আগে তাদের পরীক্ষা করাই যারা আক্রান্ত হয় তাদের আইসোলেশনে রাখি। দ্বিতীয়বারের রিপোর্টেও আক্রান্ত হলে তাদের বাড়ি পাঠিয়ে দেই।’ তবে ক্রিকেটারদের এইভাবে গণহারে আক্রান্ত হওয়ার দায় এড়াতে পারে না টুর্নামেন্ট কমিটিও। কারণ তাদের নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব এই কমিটির কর্মকর্তাদেরই। আর যতটা অভিযোগ আছে এই কমিটির চেয়ারম্যান ব্যক্তিগত কারণে এতটাই ব্যস্ত যে আসরের সব খোঁজখবরও তার রাখার সুযোগ নেই।

অন্যদিকে, বিসিবি’র মেডিকেল বিভাগের সূত্রে ১০ ক্রিকেটার ও একজন কোচের আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। তবে তারা জানিয়েছে বর্তমানে লীগ স্থগিত করার কারণ দেশের করোনা পরিস্থিতির অবনতি। এই বিষয়ে চিকিৎসক মঞ্জুর হোসাইন চৌধুরী বলেন, ‘দেশের করোনা পরিস্থিতির অবনতির কারণেই লীগ স্থগিত হয়েছে। অন্য কোনো কারণ নেই। আর যেসব ক্রিকেটার আক্রান্ত হয়েছেন তাদের আমরা আইসোলেশনে রেখেছি। পরিস্থিতি ভালো হলে আবার লীগ শুরু হবে।’

SHARE