বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ গেমসের পর্দা উঠছে আজ

35

স্পোর্টস ডেস্ক : বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ গেমসের পর্দা উঠছে আজ। বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন (বিওএ) আয়োজিত গেমসের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী কোভিড-১৯ পরিস্থিতিতে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কাটছাঁট এনেছে আয়োজকরা।
উদ্বোধন উপলক্ষে বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে গেট- দর্শকদের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হবে বেলা ৩টায়। বিকাল সাড়ে ৫টায় পবিত্র কোরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে শুরু হবে মূল অনুষ্ঠান। এরপর অডিও ভিজ্যুয়াল প্রদর্শনীর মাধ্যমে পর্দায় তুলে ধরা হবে বাংলাদেশের খেলাধুলার উল্লেখযোগ্য সাফল্য গাথা।
সন্ধ্যা পৌনে ৭টায় বাজানো হবে জাতীয় সঙ্গীত। এরপরই শুরু হবে অডিও ভিজ্যুয়াল প্রদর্শনী; এক ঝলকে তুলে ধরা হবে দেশের খেলাধুলা সম্পর্কে। খেলোয়াড় ও কর্মকর্তারা মাঠে প্রবেশ করবেন ৬টা ৫২ মিনিটে।
প্রতিযোগিতার শপথবাক্য পাঠ করাবেন দেশের তারকা আর্চার রোমান সানা। ৭টা ৮ মিনিটে স্বাগত বক্তব্য রাখবেন বিওএর মহাসচিব সৈয়দ শাহেদ রেজা। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখবেন বিওএ সভাপতি ও গেমসের সাংগঠিক কমিটির নির্বাহী চেয়ারম্যান জেনারেল আজিজ আহমেদ। বক্তব্য রাখবেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. জাহিদ আহসান রাসেল।
সন্ধ্যা সোয়া ৭টায় ভার্চুয়ালি বঙ্গবন্ধু নবম বাংলাদেশ গেমসের উদ্বোধন ঘোষণা করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরপরই বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে মশাল প্রজ্জ্বলন করবেন গলফার সিদ্দিকুর রহমান ও ২০১৬ এসএ গেমসে ২টি স্বর্ণপদক জয়ী সাঁতারু মাহফুজা খাতুন শীলা। অনুষ্ঠানের শেষ দিকে থাকবে মাসকট প্যারেড. বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশকে নিয়ে প্রদর্শনী। স্টেজ শো। পরে লেজার শো, পাইরো এবং আতশবাজির প্রদর্শনী দিয়ে শেষ হবে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। উদ্বোধনী অনুষ্ঠান সামনে রেখে গলফার সিদ্দিকুর রহমান বলেন,
বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ গেমসে মশাল প্রজ্জ্বলন করবো। এটা অনেক আনন্দের বিষয়। আমি কখনও ভাবিনি এমন সুবর্ণ সুযোগ পাবো। আসলে সত্যি আমি কৃতজ্ঞ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের কাছে। এতো বড় সম্মান আমাকে দেয়ার জন্য। আমার কাছে খুব ভালো লাগছে। ক্রীড়াবিদদের প্রতিনিধি হয়ে মশাল প্রজ্জ্বলন করতে পেরে। এর আগে দেশের বাইরে বাংলাদেশের পতাকা আমার হাতে ছিল। ২০১৬ সালের রিও অলিম্পিকে মার্চ পাস্টে লাল-সবুজ পতাকা নিয়ে এগিয়ে গিয়েছিলাম। এখন দুই গেমসের অনুভূতি আসলে অন্যরকম। আগে দেশের হয়ে বিদেশের মাটিতে অলিম্পিক গেমসের মার্চপাস্টে অংশ নিয়েছি। আর এবার দেশের মাটিতে বাংলাদেশ গেমসে মশাল প্রজ্জ্বলন করবো। এটা অনেক গর্বের বিষয়।’ সাঁতার তারকা মাহফুজা খাতুন শীলা বলেন,
জাতির জনকের নামে এই গেমসে মশাল প্রজ্বলনের মাধ্যমে আমাকে সম্পৃক্ত করায় আমি বাংলাদেশ অলিম্পিকের কাছে কৃতজ্ঞ। এটা আমার জন্য অনেক সম্মানের। এখন আমার কাছে মনে হচ্ছে এই দেশের জন্য আমি কিছু করতে পেরেছি। যার সম্মান আমি পাচ্ছি। খেলোয়াড়রা এভাবে সম্মান পেলে বর্তমানে যারা আছে, তারা তো বটেই, আগামীতেও ক্রীড়াঙ্গণে যারা আসবে, তারা ভালো করার অনুপ্রেরণা পাবে।’ তারকা তীরন্দাজ রোমান সানা বলেন, ‘জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে এই আয়োজনের শপথ বাক্য পাঠ করাতে পেরে আমি গর্বিত। এই আনন্দ আসলে ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। এতটা সম্মান এবং ভালোবাসা যে পাবো, তা আমি কখনই চিন্তা করতে পারিনি। এ জন্য বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনকে (বিওএ) ধন্যবাদ এবং কৃতজ্ঞতা। এভাবে ক্রীড়াঙ্গনের মানুষের সম্মান পেলে তাদের মধ্যে আরও ভালো কিছু করার এবং দেশকে আরও বেশি সাফল্য এনে দেয়ার অনুপ্রেরণা পায়।’ বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ গেমসে জাজ ও রেফারিদের পক্ষে শপথ বাক্য পাঠ করাবেন কামরুন নাহার হিরু। আসরে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান সামনে রেখে স্পোর্টস জাজ কামরুন নাহার বলেন, ‘মুজিব শতবর্ষে বঙ্গবন্ধুর নামে বাংলাদেশ গেমসে জাজ ও রেফারিদের পক্ষে শপথবাক্য পাঠ করা বড় সম্মানের। এমন সুযোগ করে দেয়ার জন্য বিওএকে ধন্যবাদ। কারণ শতবর্ষ পরে আবার হয়তো এমন আয়োজন হবে। যখন আমি থাকবো না।’

SHARE