সরাসরি নয় ভার্চ্যুয়ালি গেমসের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী

46

স্পোর্টস ডেস্ক : গত বছর ১ থেকে ১০ই এপ্রিল অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল নবম বাংলাদেশ গেমস। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী ‘মুজিববর্ষ’ উপলক্ষে আয়োজিত বাংলাদেশ গেমস নির্ধারিত সময়ে অনুষ্ঠিত হতে পারেনি করোনাভাইরাসের কারণে। ঠিক এক বছর পর গেমসটি আয়োজন করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ অলিম্পিক এসোসিয়েশন (বিওএ)। আগামী বৃহস্পতিবার বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে ভার্চুয়ালি গেমসের উদ্বোধনী করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। করোনাভাইরাসের ঝুঁকি থাকলেও ৩১ ডিসিপ্লিনে ৫৩০০ ক্রীড়াবিদ ও ৩২০০ কোচ কর্মকর্তা অংশ নেবেন এই আসরে। এরইমধ্যে নারী ক্রিকেট শেষ হয়েছে। শনিবার শুরু হয়েছে পুরুষ ফুটবল। বৃহস্পতিবার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের পর বাকি ডিসিপ্লিন মাঠে গড়াবে আগামী শনিবার থেকে।

১৯৭৮ সালে বাংলাদেশ অলিম্পিক নামে অনুষ্ঠিত হয়েছিল গেমসের প্রথম আসর। ২০০২ সাল পর্যন্ত নিয়মিত গেমস হলেও পরে বড় এক গ্যাপ হয়ে যায় । ১১ বছর ১১ মাস ১১ দিন পর অষ্টম আসর হয়েছিল ২০১৩ সালে। প্রতি চার বছর অন্তর গেমস হওয়ার কথা থাকলেও ৮ বছর পর হতে যাচ্ছে গেমসের নবম আসর। রাজধানী ঢাকার ২১টি ভেন্যুর পাশাপাশি আট বিভাগের আটটি ভেন্যুতে অনুষ্ঠিত হবে এবারের গেমস। জাতীর জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে অনুষ্ঠেয় এই গেমস নিয়ে গতকাল আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলন করে বিওএ। বিওএ অডিটোরিয়ামে স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে অনুষ্ঠিত এই সংবাদ সম্মেলনে মহাসচিব শাহেদ রেজা দেশের কোভিড পরিস্থিতি নিয়ে বলেন, ‘গেমস শুরুর আগ থেকেই কোভিডের বিষয়টি মাথায় নিয়ে কাজ করছি। শক্তিশালী একটি কমিটি আছে। যারা কোভিড-১৯ নিয়ন্ত্রণে কাজ করবে। আমরা চেষ্টা করবো প্রত্যেক ক্রীড়াবিদকে পিসিআর টেস্ট করিয়ে মাঠে নামাতে’। গেমসের ৩১ ডিসিপ্লিনের মধ্যে ১৪টি ডিসিপ্লিনের খেলা হবে বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়াম সংলগ্ন বিভিন্ন ভেন্যুতে। কিন্তু এই কমপ্লেক্সের অবস্থা যাচ্ছে তাই। যত্রতত্র গাড়ি পার্কিং, যানজট এবং হকারদের উৎপাত। গেমসের অংশগ্রহণকারী ক্রীড়াবিদরা এখানে আসতে শুরু করলে অবস্থা কী দাঁড়াবে তা ভাবাই যাচ্ছে না। এই অবস্থা নিরসনে আয়োজক বিওএ কী ব্যবস্থা নিয়েছে জানতে চাইলে মহাসচিব শাহেদ রেজা বলেন, ‘আমরা ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেলের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছি। তিনি আমাদের জানিয়েছেন গেমসের উদ্বোধনী ও সমাপনীর দিন মাকের্ট বন্ধ থাকবে। বাকি দিনগুলোতে পরিবহন নিয়ন্ত্রণে থাকবে। এবং গেমসের কয়দিন স্টেডিয়াম কমপ্লেক্সে হকার বসতে দেয়া হবে না। চূড়ান্ত হয়েছে আসরের অন্যতম মূল আকর্ষণ মশাল প্রজ্বলনের সময়ক্ষণ। ৩১শে মার্চ টুঙ্গিপাড়ায় বিওএ সভাপতি-মহাসচিবের হাত থেকে মশাল গ্রহণ করবেন সাবেক ফুটবলার ইলিয়াস হোসেন। মশাল হাতে দৌড়াবেন মিলজার-আর জেসমিন। এরপর ঘুনপাড়া থেকে পুলিশ লাইন্স। ভাটিয়া পাড়া মোড় হয়ে মোকসেদপুর-ভাঙ্গা-কাঁঠালবাড়ি ঘাট-মাওয়া। স্পটে স্পটে হবে হাতবদল। পদ্মা সেতুর ওপরেও মশাল হাতে দৌড়াবেন অ্যাথলিটরা। এ পাড়ে আসলাম-লিপু মশাল তুলে দেবেন শিলা-সিদ্দিকুরের হাতে। গেমসের উদ্বোধনে এই দুই ক্রীড়াবিদ মশাল প্রজ্জ্বলন করবেন। ২০জন অ্যাথলেট অংশ নিবেন মশাল র‌্যালিতে।
গেমসের স্টিয়ারিং কমিটির চেয়ারম্যান ও বিওএ সহ-সভাপতি শেখ বশির আহমেদ মামুন বলেন, আমরা যুব গেমস করেছিলাম। তার সুফল আমরা গত এসএ গেমসে পেয়েছি। এবারও আমাদের লক্ষ্য থাকবে বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ গেমসের মধ্যদিয়ে চ্যাম্পিয়ন খেলোয়াড় খুঁজে বের করা। যারা আগামী দিনে বিভিন্ন গেমসে দেশের প্রতিনিধিত্ব করবে।

কোথায় কোন খেলা
আরচারি : ১ থেকে ৭ এপ্রিল, টঙ্গীর আহসান উল্লাহ মাস্টার স্টেডিয়াম, অ্যাথলেটিকস : ২ থেকে ৫ এপ্রিল, বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়াম, ব্যাডমিন্টন : ৫ থেকে ৯ই এপ্রিল, শহীদ তাজউদ্দিন আহমেদ ইনডোর, বাস্কেটবল : ২ থেকে ৮ এপ্রিল, ধানমন্ডি জিমন্যাসিয়াম, বডিবিল্ডিং : ২ থেকে ৪ এপ্রিল, জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ জিমন্যাসিয়াম, বক্সিং : ৫ থেকে ৯ এপ্রিল, পল্টন মোহাম্মদ আলী বক্সিং স্টেডিয়াম, ফুটবল : ২৭ মার্চ থেকে ৯ এপ্রিল, বঙ্গবন্ধু ও কমলাপুর স্টেডিয়াম,
দাবা : ২ থেকে ৭ এপ্রিল, দাবা ফেডারেশন, ক্রিকেট : ১ থেকে ১০ এপ্রিল, বরিশাল বিভাগীয় স্টেডিয়াম, সাইক্লিং : ২ থেকে ৫ এপ্রিল, হাতিরঝিল ও বিকেএসপি, ফেন্সিং : ২ থেকে ৭ এপ্রিল, মিরপুর শহীদ সোহরাওয়ার্দি ইনডোর স্টেডিয়াম, গলফ : ৬ থেকে ৯ এপ্রিল, কুর্মিটোলা, জিমন্যাস্টিকস : ২ থেকে ৪ এপ্রিল, জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ অডিটরিয়াম, হ্যান্ডবল : ২ থেকে ৮ এপ্রিল, হ্যান্ডবল স্টেডিয়াম, হকি : ৩১ মার্চ থেকে ৯ এপ্রিল : মওলানা ভাসানী স্টেডিয়াম, জুডো : ৭ থেকে ৯ এপ্রিল, শহীদ সোহরাওয়ার্দী স্টেডিয়াম, কাবাডি : ২ থেকে ৯ এপ্রিল, পল্টন কাবাডি স্টেডিয়াম, কারাতে : ৫ থেকে ৮ এপ্রিল, বান্দরবান, খো খো : ২ থেকে ৫ এপ্রিল, পল্টন ভলিবল স্টেডিয়াম, রোইং : ৯ এপ্রিল, হাতিরঝিল, রাগবি : ২ থেকে ৫ এপ্রিল, রংপুর, রোলার স্কেটিং : ৫ থেকে ৯ এপ্রিল, পল্টন শেখ রাসেল রোলার স্কেটিং কমপ্লেক্স,সাঁতার : ২ থেকে ৭ এপ্রিল, মিরপুর সুইমিং কমপ্লেক্স, শুটিং : ২ থেকে ৯ এপ্রিল : গুলশান শুটিং কমপ্লেক্স ও বিকেএসপি, টেবিল টেনিস : ২ থেকে ৬ এপ্রিল, পল্টন শহীদ তাজউদ্দিন ইনডোর স্টেডিয়াম, টেনিস : ২ থেকে ৯ এপ্রিল, রাজশাহী, তায়কোয়ানদো : ৫ থেকে ৮ এপ্রিল, জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ জিমন্যাসিয়াম, ভলিবল : ৫ থেকে ৯ এপ্রিল, নড়াইল, ভারোত্তোলন : ৫ থেকে ৯ এপ্রিল, ময়মনসিংহ, কুস্তি : ২ থেকে ৪ এপ্রিল : পল্টন শেখ রাসেল রোলার স্কেটিং কমপ্লেক্স,উশু : ৬ থেকে ১০ এপ্রিল, বিকেএসপি

SHARE