ভুলের পুনরাবৃত্তিতে মাহমুদুল্লাহর আক্ষেপ

33

স্পোর্টস ডেস্ক : ওয়ানডে সিরিজে হোয়াইটওয়াশ। টি-টোয়েন্টি সিরিজের আগে অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহ ঘুরে দাঁড়াতে প্রত্যয়ী ছিলেন। কিন্তু হ্যামিলটনে সিরিজের প্রথম ম্যাচে মিলেছে ৬৬ রানের হার। টাইগার বোলারদের ওপর ভরসা ছিল অধিনায়কের, কিন্তু নিউজিল্যান্ডের ব্যাটসম্যানরা সেখানেও দিয়েছেন বড় ধাক্কা। ২০ ওভারে মাত্র ৩ উইকেট হারিয়েই স্বাগতিকরা স্কোর বোর্ডে জমা করে ২১০ রান। বাংলাদেশের ফিল্ডিংও ছিল যাচ্ছেতাই। আর জবাব দিতে নেমে টাইগার ব্যাটসম্যানরা উইকেট বিলিয়ে দিয়ে এসেছেন যথারীতি। দায়িত্ব নিয়ে খেলতে পারেননি বেশির ভাগ ব্যাটসম্যান।
যদিও তরুণ আফিফ হোসেন ও মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন কিছুটা হলেও মান বাঁচিয়েছেন। তাদের কল্যাণে ৮ উইকেটে ১৪৪ রান তুলতে সক্ষম হয় বাংলাদেশ। আর ভুলের পুনরাবৃত্তিতে আক্ষেপে পুড়ছেন মাহমুদুল্লাহ। ম্যাচ শেষে সাংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘১৯০ রানের আশেপাশে হলে সেটি তাড়া করে জেতা যেত। কিন্তু একসঙ্গে বেশি উইকেট হারানোর পর আর ম্যাচ জেতা যায় না। আমরা এটাই করছি, একই ভুল বারবার করে চলেছি।’ তামিম ইকবাল টি-টোয়েন্টি খেলবেন না, ফিরে এসেছেন দেশে। ইনজুরির কারণে দল থেকে ছিটকে গেছেন মুশফিকুর রহীম। অন্যদিকে টি-টোয়েন্টি সিরিজে একাদশে অভিষেক হয় দুই বোলার নাসুম আহমেদ ও শরিফুল ইসলামের। সিনিয়ররা না থাকায় ব্যাটিংয়ে অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহ রিয়াদের ভরসা ছিল লিটন দাস, সৌম্য সরকার, মোহাম্মদ মিঠুনদের ওপর। কিন্তু এই তিনজন ব্যাট হাতে ছুঁতে পারেননি দুই অঙ্কের রান। সাজঘরে ফেরেন দলকে বিপদে ফেলে। অধিনায়ক মাহমদুল্লাহও সাজঘরে ফেরেন ১১ রান করে। তবে ছয়ে খেলতে নামা আফিফ হাল ধরেন সাইফুদ্দিনকে নিয়ে। দলের পক্ষে আসে সর্বোচ্চ ৬৩ রানের জুটি। আফিফ ৩৩ বলে ৪৫ রান করে ফিরে যান সাজঘরে। আর সাইফুদ্দিন আউট হওয়ার আগে ৩৪ বলে করেন ৩৪ রান। এমন ব্যাটিংয়ের পরও টাইগার অধিনায়ক সুযোগ ছিল বলেই মনে করেন। কিন্তু সেটি হাতছাড়া হয়েছে ফিল্ডারদের ব্যর্থতায়। তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয়, আমাদের সুযোগ ছিল। শুরুতে আমরা দুটি উইকেট নিয়েছি, রান রেট সাতের নিচে ছিল। কিন্তু ডেভন (কনওয়ে) যেভাবে ব্যাটিং করেছে, সে খুব সাবলীল ছিল। সাম্প্রতিক ইনিংসগুলোয় ধারাবাহিকভাবে দারুণ খেলেছে সে। আমাদের সুযোগ ছিল বাউন্ডারিতে, কিন্তু সেটি ছক্কা হয়ে যায়। বোলাররা ভালো বোলিং করেছে, বোলারদের দোষ দিতে পারছি না। ফিল্ডিংয়ে কিছু বাড়তি বাউন্ডারি হয়েছে আমাদের।’ হ্যামিল্টনে টসে হেরে বোলিং করতে নেমে দারুণ শুরু করে বাংলাদেশ। অভিষিক্ত নাসুম আহমেদ প্রথম ওভারে কেবল এক রান দিয়ে সাজঘরে ফিরিয়ে দেন ফিন অ্যালেনকে। পরে বড় ইনিংসের আশায় থাকা মার্টিন গাপটিলকেও ফেরান এই বাঁহাতি স্পিনার। এই সিরিজে ছুটি নিয়েছেন দেশের সেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। দলে নেই তামিম ইকবালও। খেলতে পারেননি মুশফিক। তবে তরুণদের দারুন পাফরম্যান্সে খুশি মাহমদুল্লাহ। তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয় এটি তরুণদের জন্য ভালো একটি সুযোগ, বিশেষ করে নাঈম শেখ, আফিফ আর দুজন অভিষিক্ত ছিল আজকে তাদের জন্য। এটি তাদের জন্য সুযোগ বিশ্বকে দেখানোর, তারা কতটা ভালো। আমরা হয়তো সবসময় সব অভিজ্ঞ ক্রিকেটারকে একসঙ্গে পাবো না। এর সঙ্গে আমাদের মানিয়ে নিতে হবে। কাউকে এগিয়ে আসতে হবে এবং দেখাতে হবে যে বাংলাদেশকে ম্যাচ জেতানোর সামর্থ্য তার আছে।’ নিউজিল্যান্ডের ব্যাটসম্যানরা যেখানে স্বচ্ছন্দে ব্যাট করেছেন সেখানে বাংলাদেশ ছিল একবারেই বিপরীত। ব্যাট করতে নেমে গাপটিল ও ফিনকে হারালেও দলের হয়ে ১১ চার ও ৩ ছক্কায় ৫২ বলে ৯২ করেন কনওয়ে। তার সঙ্গে ১০৫ রানের জুটিতে দারুণ ফিফটি হাঁকিয়ে অবদান রাখেন ইয়াং। তার ব্যাট থেকে আসে ৩০ বলে ৫৩ রানের ইনিংস। জবাবে ৬৯ রানে ৬ উইকেট হারায় বাংলাদেশ দল। সেখান থেকে আশা জাগানিয়া ইনিংস খেলেন আফিফ। ম্যাচ শেষে আফিফ বলেন, ‘ব্যাটিংয়ের জন্য আমার মনে হয় উইকেটটা ভালোই ছিল। একটু ছোট গ্রাউন্ড ছিল। ওদের ব্যাটসম্যানরা বেনিফিটটা বেশ ভালোভাবে নিতে পেরেছে। আমরা আরো ভালো ব্যাটিং করতে পারতাম হয়তো। মাঠের সাইজ যেহেতু ছোট ছিল এধরনের স্কোর অবশ্যই তাড়া করা সম্ভব ছিল বলে আমার মনে হয়। আমাদের ব্যাক টু ব্যাক উইকেটগুলো না পড়লে হয়তো এই রান তাড়া করতে পারতাম।’

SHARE