টানা খরায় ঝরে পড়ছে আমের গুটি দিশেহারা বাঘার চাষিরা

134

আতাহার আলী,বাঘা : টানা খরা ও দির্ঘদিন বৃষ্টি না হওয়ায় আম প্রধান অঞ্চল নামে খ্যাত রাজশাহীর বাঘার প্রধান অর্থকারী ফসল আমের গুটি ঝরে পরছে। অনেক স্থানে একই কারনে লচুর গুটি ও কাঠালের মুচিও ঝরে যাচ্ছে। এতে উপজেলার আমচাষি ও ব্যাবসায়ীরা দিশেহারা হয়ে পড়ছেন।

উপজেলার বিভিন্ন বাগান ঘুরে দেখা যায়, এবার অধিকাংশ গাছে আম ও লিচুর পর্যাপ্ত মুকুল আসে এবং গাছে প্রচুর গুটি আটকাচ্ছে। এতে এ অঞ্চলের আম চাষি ও বাগান মালিকরা বুকভরা আশা নিয়ে দু’বেলা বাগানের পরিচর্যা করে যাচ্ছে। কিন্ত দির্ঘ কয়েক মাস বৃষ্টি না হওয়ায় গীস্মের খরতাপে আম ও লিচুর বোটা শুকিয়ে ঝরে পড়ছে। একই কারণে ঝরে পড়ছে কাঠালের মুচিও। ফলে দিশেহারা হয়ে পড়েছে এ অঞ্চরের বাগান মালিক ও ব্যাবসায়ীরা। এ ছাড়া বেশীরভাগ এলাকায় পানির স্তর নেমে যাওয়ায় পর্যাপ্ত সেচ দিতে পারছেন না বাগানগুলোতে। ফলে বিপাকে পড়েছে চাষিরা।

উপজেলার বানিয়া পাড়া গ্রমের আম চাষি শহীদুল ইসলাম জানান, দির্ঘ কয়েক মাস বৃষ্টি না হওয়ায় আম ও লিচুর বোটা শুকিয়ে গুটি ঝরে পড়ছে। তিরি আরো বলেন, এবছর বাগান গুলোতে প্রচুর মুকুল এসেছিল এবং গুটিও ভালই আটকাচ্ছিল । কিন্তু খরার কারনে আম/লিচুর গুটি ঝরে যাচ্ছে। এতে ফলন নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছি। নিচিন্ত পুর গ্রমের বাগান মালিক সিদ্দকিুর রহমান বলেন, খরায় আমের বোটা মুকিয়ে যাওয়ায় পুষ্টির অভাবে অম বড় হতে পারছেনা দামী দামী ঔষধ স্প্রে করেও তেমন ফল পাচ্ছিনা।

বাঘা উপজেলা কৃষি‌ অফিস সুত্রে জানা যায়, গত বছর বাঘা উপজেলায় -৮ হাজার ৩ শত ৭০ হেক্টর জ‌মিতে আমের গাছ ছিল। ওই পরিমান জমিতে ফলন্ত আমের গাছ ছিল ৫ লাখ ৫০ হাজার ৩ শতটি এবং অফলন্ত গাছ ছিল ৮০ হাজার ৪০টি। তবে এবছর ফলন্ত গাছের সংখ্যা আরো বেড়েছে। ওই সব গাছ থেকে গত বছর আম উৎপাদন হয়‌ছে‌লি ৫ লাখ ৫০ হাজার মেট্রিক টন। এ বছর মৌসুমের শুরুতে আবহাওয়া অনুকুলেু থাকায় এবং ফলন্ত গাছেরে সং‌খ্যা বৃদ্ধি পওয়ায় আমের ফলন গতবারে‌র চে‌য়ে দিগুণ হবে বলে আশা করা হচ্ছিল।

এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসা কামরুল ইসলাম বলেন, আম ও লিচুর ফলন ধরে রাখতে গাছের গোড়ায় রিঙ করে বেশী বেশী পানি দেয়ার পরামর্শ দেয়া হচ্ছে চাষিদের। এছাড়া প্রতি লিটার পানিতে ২০ গ্রাম ইউরিয়া সার অথবা ৩ গ্রাম বরিক এসিড মিশ্রণ করে স্প্রে করার পরামর্শ দেন তিনি।

SHARE