সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ১৭ জনের লাশ হস্তান্তর

17

স্টাফ রিপোর্টার : রাজশাহীতে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ১৭ জনের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। শনিবার বেলা সাড়ে ৩টার দিকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজের (রামেক) মর্গ থেকে মরদেহ হস্তান্তর করা হয়।

এর আগে সেখানে মরদেহগুলোর ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। নিহত ১৭ জনের মধ্যে আগুনে পুড়ে যাওয়ায় আটজনকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। তাই ডিএনএ পরীক্ষার প্রয়োজন পড়ে। ডিএনএ পরীক্ষার জন্য ময়নাতদন্তের সময় মরদেহগুলো থেকে নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। নিহতদের সঙ্গে রক্তের সম্পর্ক আছে এমন ব্যক্তিদেরও নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে ডিএনএ প্রোফাইল মেলানোর জন্য।

নিহতরা সবাই রংপুরের পীরগঞ্জের বাসিন্দা। তারা হলেন- পীরগঞ্জের ডারিকাপাড়া গ্রামের মোখলেসুর রহমান (৪৫), তার স্ত্রী পারভীন বেগম (৪০), রাঙ্গামাটি গ্রামের মো. সালাহউদ্দিন (৩৬), তার স্ত্রী শামসুন্নাহার (২৫), তাদের ছেলে সাজিদ (৮), মেয়ে সাফা (২), শামসুন্নাহারের বড় বোন বড় মজিদপুর গ্রামের বাসিন্দা কামরুন্নাহার (৩৭), উপজেলা সদরের মো. ভুট্টু (৪০), তার স্ত্রী মুক্তা বেগম (৪০), ছেলে ইয়ামিন (১৫), বড় মজিদপুরের ফুলমিয়া (৪০), তার স্ত্রী নাজমা বেগম (৩৫), ছেলে ফয়সাল (১৫), মেয়ে সুমাইয়া (৮) ও সাবিহা (৩); দুরামিঠিপুর গ্রামের শহীদুল ইসলাম (৪৬) এবং মাইক্রোবাসের চালক মো. হানিফ (৩০)। হানিফের বাড়ি পীরগঞ্জ উপজেলার পঁচাকান্দ গ্রামে। দুর্ঘটনায় শুধু নিহত মোখলেসুর রহমান ও পারভীন বেগমের ছেলে পাভেল (২৭) বেঁচে আছেন। তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

রাজশাহীর কাটাখালী থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মতিয়ার রহমান জানান, নিহতদের মধ্যে মাইক্রোবাসের ভেতর মোট ১১টি মরদেহ পুড়ে গেছে। এই ১১ জনের মধ্যে দুইজনকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়। আর দুর্ঘটনার পর ছয়জন ছিঁটকে বাইরে চলে আসেন। আগুনে দেহের অনেক অংশ পুড়ে গেলেও এ দুজনকেও শনাক্ত করা গেছে। কিন্তু পুড়ে কাল বর্ণ ধারণ করায় ৯ জনের চেনার মতো কোন অবস্থা ছিল না। তাই ডিএনএ পরীক্ষার প্রয়োজন হয়েছে। তবে দুর্ঘটনায় নিহত ১৭ জনেরই নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে ডিএনএ পরীক্ষার জন্য।

তিনি আরও জানান, মরদেহ দেয়ার সময় প্যাকেটে নম্বর লিখে দেয়া হয়েছে। সেভাবেই স্বজনেরা নিয়ে গিয়ে দাফন করবেন। কবরের সাথেও প্যাকেটের নম্বরটা কোথাও লিখে রাখা হবে। এরপর ডিএনএ পরীক্ষার যখন ফলাফল পাওয়া যাবে তখন বোঝা যাবে কোনটা কার কবর। নয়জনের কার কোনটি কবর জানতে হলে ডিএনএ পরীক্ষার রিপোর্ট পাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।

দুর্ঘটনার কারণ জানতে জেলা প্রশাসন সাত সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে দিয়েছে। কমিটির আহ্বায়ক অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এডিএম) আবু আসলাম। তিনি জানান, তারা কাজ শুরু করেছেন। দ্রুতই তদন্ত শেষ করবেন। তিনি জানান, মরদেহগুলো বাড়ি নিয়ে যাওয়ার জন্য জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রতিটি মরদেহের জন্য ১০ হাজার টাকা করে দেয়া হয়েছে।

শুক্রবার দুপুরে রাজশাহী-ঢাকা মহাসড়কে কাটাখালী থানার সামনে বাস ও মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ ঘটে। মাইক্রোবাসে মোট ১৮ জন ছিলেন। বেঁচে গেছেন শুধু একজন। পীরগঞ্জ থেকে এই ১৮ জন মাইক্রোবাসে চড়ে তারা পিকনিক করতে রাজশাহীর একটি পার্কে আসছিলেন।

কাটাখালী থানার ক্লোজ সার্কিট (সিসি) ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যাচ্ছে, মাইক্রোবাসটি দ্রুতগতিতে আসছে। সিসি ক্যামেরা পার হওয়ার পর হানিফ পরিবহনের বাসটি মাইক্রোবাসকে ঠেলে আনছে। এই সময়ই মাইক্রোবাসের সামনে আগুন জ্বলতে দেখা যায়। পরে সিলিন্ডারের বিস্ফোরণ ঘটে। এরপর রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা আরেকটি লেগুনায় আগুন লেগে যায়।

শনিবার হানিফ পরিবহনের ওই বাসের চালককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তার নাম আবদুর রহিম (৩৫)। রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার বাড়ইপাড়া গ্রামে তার বাড়ি। বাবার নাম ফজলুল হক। রাজশাহী মহানগর পুলিশের (আরএমপি) মুখপাত্র গোলাম রুহুল কুদ্দুস এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, শনিবার দুপুর ২টার দিকে আরএমপির বেলপুকুর থানার মাহিন্দ্র বাইপাস এলাকা থেকে বাস চালক রহিমকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আরএমপির কাটাখালী থানা এ অভিযান চালায়।

এর আগে শুক্রবার রাতেই চালককে একমাত্র আসামি করে থানায় মামলা করে পুলিশ। কাটাখালী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। তখনও পর্যন্ত চালকের নাম না জানার কারণে ‘অজ্ঞাত’ হিসেবে মামলাটি করা হয়। তবে চালককে শনাক্তের পরই তাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হবে।

SHARE