ওয়েলিংটনে হোয়াইটওয়াশ থেকে বাঁচার লড়াই

42

স্পোর্টস ডেস্ক : নিউজিল্যান্ডের মাটিতে এর আগে চার ওয়ানডে সিরিজের সবক’টিতে হোয়াইটওয়াশ হয়েছে বাংলাদেশ দল। চলতি সিরিজেও সেই ঘটনার পুনরাবৃত্তির অপেক্ষা! এরইমধ্যে ডানেডিন ও ক্রাইস্টচার্চে টাইগাররা দুই ম্যাচে হেরে সিরিজ খুইয়েছে। কাল তামিম ইকবালদের সামনে তাই হোয়াইটওয়াশ বাঁচানোর লড়াই। টানা ম্যাচে দুই শহরের ভেন্যুতে ভ্রমণের ক্লান্তি সেই সঙ্গে পরাজয়ের মানসিক চাপ নিয়ে ওয়েলিংটনে পৌঁছেছে বাংলাদেশ দল। তবুও টাইগার অধিনায়ক থেকে শুরু করে দলের প্রতিটি সদস্য পরাজয়ের বৃত্ত ভাঙতে প্রতিজ্ঞ। শেষ ম্যাচে ২৭১ রান করেও বাজে ফিল্ডিংয়ের খেসারাত দিয়ে হেরেছে দল। বেসিন রিজার্ভে সিরিজের শেষ ম্যাচে সেই ব্যর্থতা থেকে বের হয়ে জয় চান তারা। হতাশ অধিনায়ক নিজেও।
কোনো অজুহাত না দেখিয়ে জেতাই সমাধান বলে মনে করেন তিনি। তামিম বলেন, ‘এখান (ভালো খেলেও হার) থেকে অনেক কিছুই ইতিবাচক নেয়ার আছে। এই কথাগুলো বলতে বলতে যেই অধিনায়ক থাকে তার জন্য ক্লান্ত হয়ে যাচ্ছে। ম্যাচে এটা-ওটা ভালো হচ্ছে, আমি আপনাকে তিন-চারটা বিষয় দেখাতে পারি যা ইতিবাচক ছিল। কিন্তু এটা আমাদের উদ্দেশ্য না। আমাদের উদ্দেশ্য ম্যাচ জেতা, যার জন্য আমরা এখানে এসেছি এবং এরকম সুযোগ বারবার আসে না। এখন বাংলাদেশের ম্যাচ জেতা উচিত যা আমরা পারিনি।’
ওয়েলিংটনের বেসিন রিজার্ভে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ কোনো ওয়ানডে খেলেনি। তবে এই ভেন্যুতে আছে ৪টি টেস্ট খেলার অভিজ্ঞতা। তবে এবার ওয়ানডে দলে যারা আছেন তাদের বেশির ভাগেরই এই মাঠে খেলার অভিজ্ঞতা কম। তবে সিনিয়রদের মধ্যে এখানে খেলেছেন অধিনায়ক তামিম, মুশফিকুর রহীম, মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ, লিটন দাস, সৌম্য সরকারের মতো সিনিয়র ক্রিকেটার। যারা ২০১৯ সালে এখানে খেলে গেছেন। তাই উইকেট সম্পর্কে তাদের বেশ ভালো ধারণা আছে। অন্যদিকে ঘরের এই মাঠে নিউজিল্যান্ডও খুব একটা সুবিধা করতে পেরেছে তা নয়। এখন পর্যন্ত ২৬ ম্যাচ খেলে তাদের জয়ের সংখ্যা ১২টি। তার মানে নিজেদের দিনে টাইগাররা সেরাটা দিতে পারলে অবশ্যই জয় অসম্ভব নয়। আগের ম্যাচে তামিম ছাড়াও দলের পক্ষে ফিফটি হাঁকিয়েছিলেন মোহাম্মদ মিঠুন। তার ৫৭ বলে ৭৮ রানের অপরাজিত ইনিংস ব্যর্থ হয়ে যায় বাজে ফিল্ডিংয়ের কারণে। তবে এই উইকেটকিপার ব্যাটসম্যান হতাশ হলেও তাকাতে চান সামনের দিকে। একটি হলেও ম্যাচ জিতে ফিরতে চান দেশে। তিনি বলেন, ‘দল হিসেবে আমরা অবশ্যই অন্তত একটি ম্যাচ জিততে চাই। আমরা মনে করি যদি আমরা অন্তত একটি ম্যাচ জিতি, এটি আমাদের জন্য বড় সাফল্য। এখনো আমাদের একটি ম্যাচ বাকি, সেটায় আমরা আমাদের সেরাটা দেয়ার চেষ্টা করবো। হয়তো নতুন ম্যাচে আমরা ভিন্ন ফল পাবো।’

টানা ১৪ দিনের কোয়ারেন্টিনের সময়টা ক্রাইস্টচার্চেই কাটিয়েছে বাংলাদেশ দল। সেখান থেকে কুইন্সটাউন, এরপর ডানেডিন ও ফের ক্রাইস্টচার্চ। লম্বা ভ্রমণ, আর পরাজয়ের ভার। সবকিছু মিলিয়ে অনেকটাই ক্লান্ত বাংলাদেশ দল। তাই ওয়েলিংটনে পৌঁছেই সেই অবসাদ ঝেড়ে ফেলতে টাইগাররা সময় কাটিয়েছে সুইমিং পুলে। এ বিষয়ে শেষ ম্যাচে সবচেয়ে খরচে বোলার তাসকিন আহমেদ বলেন, ‘আমরা সুইমিং সেশন শেষ করলাম আমাদের রিকোভারির জন্য। আমরা সুইমিং, জাকুজি এগুলো করে স্ট্রেচিং করলাম। কারণ আমাদের ব্যাক টু ব্যাক খেলা আর অনেক ট্র্যাভেলিং এর মধ্যে। তো রিকোভারি ভালো হওয়ার জন্য আমরা ওয়েলিংটনে পৌঁছানোর পরে এখন আমাদের টিম সুইমিং সেশনটা শেষ হলো।’

তাসকিন খরচে বোলার হলেও শেষ ম্যাচে হতে পারতেন ম্যাচ উইনারও। কারণ তার বলেও জিমি নিশাম ও সেঞ্চুরি হাঁকানো টম ল্যাথামের ক্যাচ ফেলে দেন মুশফিকুর রহীম ও মেহেদী হাসান। এরপরও শেষ ম্যাচে হয়তো তার ওপর আস্থা নাও রাখা হতে পারে। দলের পরিবর্তন হলেও সেটি বোলিংয়েই হতে পারে ধারণা করা হচ্ছে। আর ব্যাটিংয়ে পরিবর্তনের তেমন কোনো আভাস নেই। প্রথম ম্যাচে ১৩১ রানে অলআউট হলেও তারা ঘুরে দাঁড়িয়েছে ব্যাট হাতে। দ্বিতীয় ম্যাচে ২৭১ রান তুলে তারা প্রমাণ করেছেন। তাই আজ দলে পরিবর্তন আসলেও সেটি বড় ধরনের হবে না।

SHARE