বেপরোয়া চলাফেরায় বাড়ছে করোনা ঝুঁকি

35

অনলাইন ডেস্ক : বৈশ্বিক করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ আবারো বাড়তে শুরু করেছে। দেশে বুধবার ৩ হাজার ৫৬৭ জন রোগী শনাক্ত হয়েছে। মারা গেছেন ২৫ জন। সংক্রমণ রোধে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকলেও দেশের পর্যটনকেন্দ্র ও পিকনিক স্পটগুলোর চিত্র ঠিক তার উল্টো। এসব জায়গায় পর্যটকদের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছেই।

কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত, পটুয়াখালীর কুয়াকাটা এবং চট্টগ্রামের পতেঙ্গা, পারকি সৈকত এবং ঢাকাসহ সারাদেশের পিকনিক স্পটগুলোতে পর্যটকের ঢল নেমেছে। আর সমুদ্রসৈকত ও পিকনিক স্পটগুলোতে অধিকাংশ পর্যটক স্বাস্থ্যবিধির না মেনেই বেড়াতে গিয়েছে। তারা মাস্কসহ সুরক্ষাসামগ্রীও ব্যবহার করেনি। এই কারণেই মূলত সংক্রমণরেখা আবারো ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

পর্যটনকেন্দ্র ও পিকনিক স্পটগুলোতে দেখা গেছে, স্বাভাবিক সময়ের ছুটির দিনের আমেজ। পর্যটকেরা নৌকা, নাগরদোলা, ঘোড়া, স্পিডবোট এবং বিচবাইকে চড়ে আনন্দ নিচ্ছেন। এদের অধিকাংশের মুখেই মাস্ক দেখা যায়নি।

নতুন করে করোনা সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ার জন্য মানুষের অধিক হারে বেড়াতে যাওয়া ও পিকনিক করার মতো প্রবণতাকে দায়ী করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। তিনি বলেন, কক্সবাজার, বান্দরবান ও কুয়াকাটাসহ অন্য কোন জায়গায় বেড়াতে কিংবা পিকনিক করতে যাওয়ার কারণে সংক্রমণ বেড়েছে। এসব কমিয়ে আনতে হবে। একই সাথে বিয়ের অনুষ্ঠান বা ওয়াজ মাহফিলের মতো অনুষ্ঠানে জনসমাগম কমানোরও পরামর্শ তিনি দেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, যে হারে রোগীর সংখ্যা বাড়ছে সে হারে বাড়তে থাকলে এসব পদক্ষেপ যথেষ্ট হবে না। এর জন্য অবশ্যই করোনা সংক্রমণ কমাতে হবে। এ কারণে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। বাইরে খুব বেশি ঘোরাঘুরি কমিয়ে ফেলতে হবে।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণের বিস্তার রোধে গত বছরের ২৬ মার্চ থেকে দেশে সাধারণ ছুটি শুরু হয়। টানা ৬৬ দিন বন্ধের পর সীমিত আকারে অফিসগুলো খুলে দেয় সরকার। সীমিত আকারে গণপরিবহন, নৌযান, ট্রেন এবং বিমানও চালুর সিদ্ধান্ত হয়েছে। পরে করোনা শনাক্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা কমলেও মঙ্গলবার ৯ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ সাড়ে তিন হাজারের বেশি করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে। দৈনিক শনাক্তের পরিমাণ তিনশোর ঘরে নামার পর গত দুই সপ্তাহ ধরে সংক্রমণ ধেই ধেই করে বাড়ছে।

এদিকে রাজধানীতেও সামাজিক দূরত্ব বজায়ের কোনো দিক-নির্দেশনা মানা হচ্ছে না। পথচারীরা একে অপরের শরীরের সঙ্গে ঘেঁষা-ঘেঁষি করে চলাচল করছে। পাশাপাশি রাজনৈতিক কর্মসূচিও চলছে। সেখানে হাজার হাজার নেতা কর্মীরা উপস্থিত হচ্ছেন। এই কর্মসূচিগুলোতে নেতা-কর্মীরা স্বাস্থ্যবিধি না মেনেই অংশ নিচ্ছেন। এমনকি তারা মাস্কসহ সুরক্ষাসামগ্রীও ব্যবহার করছেন না।

সামাজিক দূরত্ব না মানার বিষয়ে জানতে চাইলে মিলন নামে এক পথচারী বাংলাদেশ জার্নালকে বলেন, আমি সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখেই চলাচল করতে চাই। কিন্তু বাসায় বাইরে বের হলে সামাজিক দূরত্ব আর বজায় রাখা যায় না। কারণ অনেকেই এসে গা ঘেঁষে চলাচল করে। ওই সময় তাদেরকে কিছু বললে তারা বলেন, করোনার ভয় পেলে বাইরে বের হয়েছেন কেনো। ‘বাংলাদেশে কোন করোনা নাই’- অনেকে এই কথাও হাসতে হাসতে বলেন।

করোনা মহামারি নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে গত ২৭ জানুয়ারি দেশে টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। এদিন গণভবন থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভার্চ্যুয়ালি টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। গত ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে দেশে গণটিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়।

প্রসঙ্গত, দেশে এ পর্যন্ত করোনা শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ৫ লাখ ৮০ হাজার ৮০৮ জন। আর গত এক দিনে মারা যাওয়া ২৫ জনকে নিয়ে দেশে করোনাভাইরাসে মোট ৮ হাজার ৭৬৩ জনের মৃত্যু হল।

গত ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনায় আক্রান্ত ব্যক্তি শনাক্তের ঘোষণা আসে। আর ১৮ মার্চ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে প্রথম মৃত্যুর ঘটনা ঘটে।

SHARE