ব্যাটিংয়ে আশার আলো নিভে গেল বাজে ফিল্ডিংয়ে

25

স্পোর্টস ডেস্ক : ব্যাটিং, বোলিং ও ফিল্ডিং তিন বিভাগের একটিতে খারাপ হলেও বদলে যায় ম্যাচের ভাগ্য! ক্রাইস্টচার্চের হ্যাগলি ওভালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে গতকাল বাংলাদেশ দলের দ্বিতীয় ওয়ানডে তার বড় উদহাররণ। সফরকারীদের দুর্বল ফিল্ডিংয়ের সুবিধা নিয়ে সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে নিউজিল্যান্ড তুলে নিয়েছে ৫ উইকটের জয়। সঙ্গে তিন ম্যাচ ওয়ানডের সিরিজটাও নিজেদের করে নিয়েছে স্বাগতিকরা।

অথচ গতকাল ভিন্ন কিছুও হতে পারতো। ২৭২ রানের টার্গেট দিয়ে শুরুতেই প্রতিপক্ষকে চেপে ধরেছিল টাইগাররা। মোস্তাফিজের পর মেহেদীর জোড়া আঘাতে ১০.৫ ওভারে ৫৩ রান তুলতেই স্বাগতিকদের তিন উইকেট তুলে নেয় বাংলাদেশ। তারপর ম্যাচে যতটা প্রভাব থাকার কথা ছিল, ততটা হয়নি। ডেভন কনওয়ে ও টম ল্যাথামের ব্যাটে দাপটে এগিয়ে গেছে তারা। নিউজিল্যান্ডের তখন রান ১৭১/৩।
ঠিক ওই সময়েই হতাশ করেন মুশফিকুর রহীম। তাসকিন আহমেদের পেসে জিমি নিশাম ঠিকঠাক খেলতে পারেননি। বল তার ব্যাট ছুঁয়ে চলে যায় উইকেটের পেছন। কিন্তু মুশফিক বল গ্লাভসে জমাতে পারেননি। অথচ তার মতো অভিজ্ঞ খেলোয়াড়ের জন্য এটা দুরূহ ছিল না আদৌ! কনওয়েকে ফেরানোর পরই নিশামকে তুলে নিতে পারলে ম্যাচটা টাইগারদেরও হতে পারতো। নিশাম ৩ রানে জীবন পেয়ে থামেন ৩০-এ! এরপরই জীবন পান টম ল্যাথাম। বোলার সেই তাসকিন। তখন কিউইদের রান ৩৫.৩ ওভারে ১৭২। কাভারে দাঁড়ানো মোহাম্মদ মিঠুনের সামনে। কিন্তু মিঠুন ক্যাচটি তালুবন্দি করতে পারলেন না। সেই ল্যাথাম এরপর সেঞ্চুরি তুলেছেন, দলকে জিতিয়ে ছেড়েছেন মাঠ।

বাংলাদেশের ক্যাচ ফসকানোর গল্প এখানেই শেষ নয়। কিউই ইনিংসের ৩৬.৩ ওভারে যে ভুল করলেন মেহেদী হাসান। তাকে ফিরতি ক্যাচ দিয়েছিলেন ল্যাথাম। বল সোজা বোলার মেহেদীর হাতে। কিন্তু বিস্ময়করভাবে বলটা হাতে রাখতে পারলেন না তিনি। ল্যাথাম এমন জীবন পেয়ে সুদে-আসলে সুযোগটা কাজে লাগালেন। তুলে নিলেন শতরান। দলকে জিতিয়েই ফিরলেন সাজঘরে! এখানেই শেষ নয়, সরাসরি থ্রোয়ে রানআউট করার সুযোগ ছিল কয়েকটি। কিন্তু কোনো কাজেই লাগাতে পারেনি বাংলাদেশ। এমন দৃষ্টিকটু ফিল্ডিংয়ের পর আসলে জয় প্রত্যাশা করতে পারে না বাংলাদেশ। শেষ অবধি হেরেই মাঠ ছাড়তে হলো তামিমদের। ব্যাটসম্যানরা যে সম্ভাবনার পথ তৈরি করে দিয়েছিলেন, ফিল্ডারদের ব্যর্থতায় সর্বনাশ! এখন ওয়ানডে সিরিজে হোয়াইটওয়াশের শঙ্কায় দল।
এর আগে টসে হেরে ব্যাট করতে নেমে দলকে দারুণ উপহার দেন প্রথম ম্যাচে ব্যর্থ টাইগার ব্যাটসম্যানরা। যদিও ৪ রানের সময় ওপেনার লিনট দাস ০ তেই ফিরে গিয়েছিলেন। সেখান থেকে সৌম্য সরকারকে নিয়ে অধিনায়ক তামিম ইকবাল দলকে এগিয়ে নেন। ক্যারিয়াারের ৫০তম ফিফটি তুলে নেন এই ওপেনার। অবশ্য তাকে দারুণ সঙ্গ দিতে থাকা সৌম্য সরকার দলের ৮৫ রানের সময় আউট হন ৩২ রান করে। তবে তখনো আশার আলো তামিম। কিন্তু ৭৮ রানে দ্রুত রান করার বাজে এক সিদ্ধান্তে রানআউট হন তিনি। ১৩৩ রানে তিন উইকেট হারিয়ে হোঁচট খাওয়া দলকে পথ দেখাতে এসে দলের অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান মুশফিক ৩৪ রানের অবদান রেখে হাল ছাড়েন। তবে তার বিদায়ে দলকে আগলে রাখেন মোহাম্মদ মিঠুন। আগের দিন সংবাদ সম্মেলনে বলেছিলেন ব্যাটসম্যানদের দায়িত্ব নিতে হবে। এবার তিনি তা নিজেই করে দেখালেন। ৬টি চার ও ২টি ছয়ের মারে ঝড় ৫৭ বলে অপরাজিত থাকেন ৭৩ রান করে। তার দারুণ ব্যাটিংয়ে ৬ উইকেট হারিয়ে ২৭২ রানের লক্ষ্য ছুড়ে দেয় প্রতিপক্ষকে। কিনু্ত যার শেষ পরিণতি বাজে ফিল্ডিং হতাশার হার। আগামী শুক্রবার সিরিজের শেষ ওয়ানডে ম্যাচে মাঠে নামবে দুই দল।

SHARE