বাগমারায় পুকুর খননের সময় বেরিয়ে এল বিষ্ণুমূর্তি

55

হেলাল উদ্দীন,বাগমারা : ভেকু দিয়ে পুকুর খনন করছিলেন একজন চালক। খনন করে মাটি ফেলে রাখছিলেন পুকুরের পাশে। তবে এক সময় ভেকুর বাকেটের সঙ্গে মাটির বদলে উঠে আসে একটি মূর্তি।

এ নিয়ে হৈ-চৈ পড়ে যায়। পরে থানায় খবর দেওয়া হলে পুলিশ এসে প্রাচীনকালের বিষ্ণুমূর্তি উদ্ধার করে। ঘটনাটি ঘটেছে রাজশাহীর বাগমারায় গত মঙ্গলবার রাতে। বিষ্ণু মুর্তির দাম প্রায় ১০০ কোটি টাকা বলে পুলিশ জানিয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় ব্যক্তিরা জানান, বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিএমডিএ) পুকুর পুনঃখনন প্রকল্পের আওতায় উপজেলার গনিপুর ইউনিয়নের বুজরকোলা গ্রামের বড়পুকুরিয়া নামের একটি পুকুরের পুনঃখনন কাজ শুরূ হয়। গত এক সপ্তাহ ধরে দিন-রাতে একটি ভেকু দিয়ে পুকুরের খনন কাজ চলছিল। মঙ্গলবার রাত সাড়ে আটটার দিকে পুকুর খনন করার সময় বাকেটের সঙ্গে মাটির বদলে ভারী কিছু উঠে আসার বিষয়টি চালক টের পান। পরে সেটি আলাদা স্থানে ফেলে রাখা হয়। এসময় তিনি খননযন্ত্র বন্ধ রেখে ফেলে রাখা ভারী ওই বস্তুর কাছে যান। এসময় পুকুর পাড়ে থাকা স্থানীয় কিছু লোকজনও ছুটে আসেন। তাঁরা ওই ভারী বস্তুুর কাছে গিয়ে কালো রংয়ের একটি মূর্তি লক্ষ করেন। এ নিয়ে হৈ-চৈ পড়ে যায়। স্থানীয় লোকজনও জড়ো হয় পুকুর পাড়ে। তাঁরা এটিকে প্রাচীন কালের বিষ্ণুমূর্তি হিসাবে শনাক্ত করেন। মূর্তিটি কী করা হবে এনিয়ে ভিন্ন মতের সৃষ্টি হয়। পরে ভেকুর (খননযন্ত্র) চালক বিএমডিএ এবং স্থানীয় লোকজন থানা পুলিশকে মুঠোফোনে বিষয়টি জানান। রাত ১০টার দিকে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মূর্তিটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।

স্থানীয় বাসিন্দা অনুপ সরকার বলেন, পুকুরটি বেশ পুরানো। পুকুরের পাশেই রয়েছে তাঁদের মন্দির। এক সময় ওই এলাকায় রাজার পরিবার বসবাস করতেন বলে প্রবীণ ব্যক্তিদের কাছ থেকে শুনেছেন। পুকুর থেকে উদ্ধার হওয়া মূর্তি সেই আমলের হতে পারে বলে ধারণা করছেন।

বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিএমডিএ) বাগমারার আঞ্চলিক দপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী রেজাউল করিম বলেন, তাঁরা পুকুরটি খননের জন্য একজন ঠিকাদার নিয়োগ করেছেন। তিনিই পুকুরটির পুনঃখনন কালে মূর্তিটি উদ্ধার করে। থানায় পুলিশ হেফাজতে সেটি রাখা হয়েছে।

বাগমারা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোস্তাক আহম্মেদ বলেন, মূর্তিটি লোকজনের কাছ থেকে পুলিশ উদ্ধার করেছে। তিন ফিট লম্বা এই মূর্তির ওজন ৬০ কেজি। এর মূল্য প্রায় ১০০ কোটি টাকা। যথানিয়মে এটি প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

SHARE